কোমরে ব্যথার কারণ অনেক। নড়াচড়া বা চলাফেরা করার সময় কোমরের অবস্থান সঠিক না থাকলে কোমরে ব্যথা হয়ে থাকে। তবে কোমরে ব্যথা বয়স বাড়লে সাধারণত লাম্বার স্পনডিলাইসিসের জন্য হয়ে থাকে। মেরুদ-ের নিচের হাড়ের মধ্যবর্তী তরুণাস্থি বা ডিস্কের বার্ধক্যজনিত পরিবর্তনের ফলেই এ রোগের সূত্রপাত। তরুণাস্থির এ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মেরুদ-ের নিচের দিকে সংবেদনশীল পরিবর্তন সাধিত হয়।
উপসর্গ : প্রথমদিকে এ ব্যথা কম থাকে এবং ক্রমে তা বাড়তে থাকে। কোমরে সামান্য নড়াচড়া হলেই এ ব্যথা বেড়ে যায়। অনেক সময় ব্যথা পায়ের দিকে নামতে পারে এবং অবস অবস ভাব বা ঝিনঝিন অনুভূতিও হতে পারে। প্রাত্যাহিক কাজ যেমন: তোলা পানিতে গোসল করা, হাঁটাহাঁটি করা ইত্যাদিতে কোমরের ব্যথা বেড়ে যায়।
চিকিৎসা : শক্ত বা সমান বিছানায় বিশ্রামে থাকবেন। ব্যথা থাকা অবস্থায় ব্যথা উপশম ও মাংসপেশি শিথিলকরণ ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।
ফিজিক্যাল থেরাপি: এ রোগের চিকিৎসকরা বিভিন্ন ধরনের তাপ প্রয়োগ করে থাকেন। যেমন-ডিপ হিট, সুপারফিসিয়াল হিট। রোগীর কোন অবস্থায় কোন ধরনের থেরাপি প্রয়োগ করতে হবে তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা নির্ধারণ করে দেন।
লাম্বার ট্রাকশন: লাম্বার ট্রাকশনে সাধারণত ২৫-৫০ পাউন্ড ওজন দেয়া হয়। তবে রোগীর অবস্থা, বয়স, ওজন পুরুষ-মহিলাভেদে কমবেশি হয়। লাম্বার ট্রাকশন বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে চিকিৎসকের (ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ) পরামর্শ অনুযায়ী দেয়া উচিত। কোমরের ব্যথার কোনো কোনো ক্ষেত্রে লোকাল সাইনাল সাপোর্ট হিসেবে কোমরের বেল্ট বা করসেট ব্যবহার করতে হবে। করসেট শুধু চলাফেরা ও কাজের সময়ে ব্যবহার করা উচিত।
কোমরের ব্যথা রোগীর জন্য কিছু পরামর্শ : কাজ করার সময় করসেট ব্যবহার করুন। সবসময় শক্ত সমান বিছানায় ঘুমাবেন, কোনো জিনিস তোলার সময় সোজা হয়ে বসে তুলবেন। চেয়ারে বসার সময় ঘাড়ে ও পিঠ সোজা করে বসবেন। ফোমের বিছানায় ঘুমাবেন না এবং ফোমের (নরম সোফা) সোফায় অনেকক্ষণ বসবেন না। একই স্থানে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে থাকবেন না। ঝুঁকে বা মেরুদ- বাঁকা করে কোনো কাজ করবেন না। ভারি কোনো জিনিস যেমন- বেশি ওজনের থলে, পানি ভর্তি বালতি ইত্যাদি বহন করবেন না। পিঁড়িতে বসে কোনো কাজ যেমন- মাছ কাটা, শাক-সবজি কাটা ইত্যাদি করবেন না। টিউবওয়েল চেপে পানি উঠাবেন না। ঝরনা অথবা সোজা হয়ে বসে পানি তুলে গোসল করবেন। সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় মেরুদ- সোজা রেখে ধীরে ধীরে উঠবেন ও নামবেন। হাইহিল জুতা ব্যবহার পরিহার করুন। মোটা ব্যক্তিদের শরীরের ওজন কমাতে হবে। যানবাহনে চড়ার সময় সামনের আসনে বসবেন, কখনো দাঁড়িয়ে থাকবেন না। ঘুম থেকে ওঠার সময় যে কোনো একদিকে কাত হয়ে উঠবেন।
সূত্র - যায়যায়দিন

