‘আজ একটু প্রেসার বেড়েছে৷’’ প্রেসার বলতে বোঝায় ব্লাড প্রেসার কিংবারক্তচাপ৷ জার্মানিতে হাই ব্লাড প্রেসারে ভুগছেন, এমন মানুষের সংখ্যা সাড়েতিন কোটি৷ অথচ তাদের অর্ধেকই সে কথা জানেন না৷
প্রত্যেক হৃৎস্পন্দনের সঙ্গে মাপা হয় সিস্টোলিক অর্থাৎ সর্বোচ্চ, এবংডায়াস্টোলিক অর্থাৎ সর্বনিম্ন রক্তচাপ: এই ধরুন ১২০/৮০, যা কিনা আদর্শ৷জার্মানিতে আজকাল যে রোগ নিয়েই ডাক্তারের কাছে যান না কেন, রক্তচাপটা একবারমেপে দেখা হয়, রোগীর অজান্তেই তাঁর হাইপারটেনশন থাকার সম্ভাবনাটা এতইবেশি৷
গ্রেড ওয়ান হাইপারটেনশন বলতে ধরা হয়: যদি সিস্টোলিক ১৪০ থেকে ১৫৯, এবংডায়াস্টোলিক ৯০ থেকে ৯৯-এর মধ্যে পড়ে৷ ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে যারা, তাদেরহাইপারটেনশন থাকার সম্ভাবনা দুই-এর মধ্যে এক৷ মুশকিল হয়, যদি বছরত্রিশেকের কারোর – তার নিজের অজান্তেই – ধরা যাক ১৬০/৯০ প্রেসার থাকে৷ ওইবয়সের মানুষদের হাই ব্লাড প্রেসার থাকলেও তারা সুস্থই বোধ করেন৷ বিশ্বস্বাস্থ্য সংগঠনের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী হাই ব্লাড প্রেসার শুরু হয়১৪০/৯০ থেকে৷
সিস্টোলিককে যদি ধমনিতে রক্তচাপের সাধারণ পর্যায় বলে ধরে নেয়া যায়, তাহলেমনে রাখতে হবে, ধমনিগুলো নমনীয় বলেই সেগুলো রক্তের চাপ বাড়া অথবা কমারসঙ্গে সঙ্গে তারা নিজেরাও প্রসারিত কিংবা সংকুচিত হতে পারে৷ কিন্তু রক্তচাপএকটানা উচ্চ থাকলে ধমনিগুলো ঠিক এই বৈশিষ্ট্যই হারিয়ে ফেলে৷ সেই সঙ্গেথাকে ধমনির ভিতরে এক ধরনের মোমের মতো পদার্থ জমা হওয়া, যাকে বলে ‘প্লাক'৷ এসব কারণে ধমনি থেকে হৃৎপিণ্ডে অক্সিজেনযুক্ত রক্তের প্রবাহ বন্ধ হয়ে গিয়েহার্ট অ্যাটাকের ঘটনা ঘটতে পারে৷
হাই ব্লাড প্রেসার জেনেটিক, অর্থাৎ বংশগত কারণে হতে পারে৷ সঙ্গে থাকে ‘স্ট্রেস' বা শারীরিক কিংবা মানসিক চাপ, তা সে কর্মক্ষেত্রেই হোক আরপারিবারিক কিংবা ব্যক্তিগত জীবনেই হোক৷ ব্যায়াম-হাঁটা-চলাফেরা না করে আয়াসীজীবন, নিয়মিত মদ্যপান, খাওয়ার পাতে বড় বেশি নুন খাওয়া – এ সবই উচ্চরক্তচাপ ঘটাতে পারে৷
হাই ব্লাড প্রেসার আজ বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলি ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে, উপসাগরীয় দেশগুলিতে, চীন বা ভারতে আরো বেশি করে দেখা দিচ্ছে৷ সেক্ষেত্রেব্লাড প্রেসারের রোগী – এবং বাকিরা, যাদের রোগী হতে বাকি আছে – তারা কিকরতে পারেন? নুন খাওয়া কমান! হাঁটাহাঁটি, চলাফেরা করুন! ওজন কমান!
আসল কথা বোধহয় এই: সুস্থভাবে বাঁচলে স্বাস্থ্য ভালো থাকবে না কেন? সূত্র: এএফপি।
সূত্র -natunbarta.com

