স্বাভাবিক ত্বকের টোনিং করতে দুধ, মধুআর গাজরের রস মিলিয়ে লাগাতে পারেন। দেখবেন, ত্বক আরও
উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। শুষ্ক ত্বকে ব্যবহার করুন দুধ বা দুধের সর, মধুআর কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল।
তৈলাক্ত ত্বকে ওটস বা লাল আটা বা যবের গুঁড়া বা ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে টকদই মিশিয়ে টোনিং
করতে পারেন। এসবই ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল শুষে নিতে সাহায্য করবে।মিশ্র ত্বকে শুধুমধুআর
টকদই দিয়েই হয়ে যাবে টোনিং। স্পর্শকাতর ত্বকে টকদই, লাল আটা আর গোলাপজল মিশিয়ে লাগাতে
পারেন। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন টোনিং করলেই পাবেন কাঙ্ক্ষিত ত্বক।পোলাও, মাংস, কোরমা
তো খুব খাওয়া হলোই কদিন। আর রমজান মাসে খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন তো ছিলই। সব মিলিয়ে
ত্বক আর চুলে এর প্রভাব টের পাচ্ছেন এখন। হয়তো অতিরিক্ত তেলেভাজা খেয়ে দেখা দিচ্ছে ব্রণ।
কিংবা ত্বক হয়ে পড়েছে শুষ্ক, প্রাণহীন। তবে এ অবস্থা তো চলতে পারে না। এই সময়ে কীভাবে নিজের
যত্ন নেবেন তা জানাচ্ছেন আয়ুর্বেদিক রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা।এই সময়ে পানি পানের পরিমাণটা
বাড়ানো উচিত। প্রতিদিন অন্তত একটি ফল খাওয়া ভালো। সেটা আমড়া, পেয়ারা যা-ই হোক না
কেন। আর যেহেতুঈদে অনেক মাংস, কোরমা খাওয়া হলো। এখন না হয়একটুমাছ-ভাতই চলুক। সপ্তাহে
এক দিন খেতে পারেন মাংস আর প্রতিদিন মাছ খেতে পারেন। তবে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায়শাক ও
সবজি রাখাটা জরুরি। সবচেয়ে বড়যে সমাধান হলো নিজেকে ঠিক রাখার, সেটা হলো মানসিকভাবে
নিজেকে উৎফুল্ল রাখা। মানসিক চাপ এড়িয়ে চলা। আর নিজের যত্ন করা।তবে যেহেতুকয়েকটি দিন
দৌড়াদৌড়ি গেল বেশ, তাই এ সময় টোনিংটা করতে পারলে ত্বক আবার তার আগের সৌন্দর্য ফিরে
পাবে। তবে অবশ্যই টোনিং করতে হবে ত্বকের ধরন বুঝে।যেহেতুএখন ঋতুটাও বদলেছে। কখনো রোদ,
আবার কখনো বৃষ্টি। তাই ত্বক পরিষ্কার রাখাটা অনেক জরুরি। কৃত্রিম ফেসওয়াশের বদলে বাড়িতেই
বানিয়ে নিতে পারেন ক্লেনজার। মুলতানি মাটির সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে যেকোনো ত্বকে ব্যবহার
করতে পারেন। তা ছাড়া ময়দা, দুধ, শসার রস, গাজরের রস, কাঁচা হলুদ, মধু, মসুর ডালের বেসন বা মসুর
ডালবাটা—এসব মিশিয়ে একটি প্যাকও বানাতে পারেন। তবে তৈলাক্ত ত্বকে দুধের বদলে টকদই ব্যবহার
করুন। আর স্পর্শকাতর ত্বকে মধুব্যবহার না করলেই ভালো।
তবে সবকিছুছাড়িয়ে মূল যে কথাটা মেনে চলার চেষ্টা করতে হবে সেটা হলো, নিজেকে ভালোবাসতে হবে।
আমরা নিজেরা যদি ভালো না থাকি, তাহলে আশপাশের কাউকে ভালো রাখতে পারব না। অবহেলায়ফেলে
রাখলে জন্মসূত্রে পাওয়া সৌন্দর্যও ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যায়। আর যদি ভালোবেসে নিজের একটুযত্ন
নিই, তাহলে সাধারণ মুখটিও হয়ে উঠবে আকর্ষণীয়।
সূত্র - প্রথম আলো

