
অনেক দিন পর পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলো। বন্ধু বাড়িয়ে দিল হাত। ঠিকমন চাইলেও আপনার হাত বাড়িয়ে দিতে খানিকটা অস্বস্তি হচ্ছে। কেননা, হাত যেঘামে ভিজে একাকার! এমন পরিস্থিতিতে অনেককেই পড়তে হয়। অতিরিক্ত ঘাম কোনোজটিল সমস্যা নয়, সাধারণ একটি সমস্যা। এই অতিরিক্ত ঘাম সাধারণত হাতের তালু, পায়ের পাতা ও বগল থেকে হয়ে থাকে। কারও কারও শীতকালে, কারও শুধু পরীক্ষারহলে, কখনো অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার সময় হাত-পা ঘামে। আবার পা ঘেমে যাওয়ারকারণে এ থেকে সৃষ্টি হতে পারে দুর্গন্ধ। এ নিয়েও অনেক সময় বিব্রতকরপরিস্থিতিতে পড়তে হয়। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ওহাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের প্রধান রাশেদ খান বলেন, হাত-পা ঘামারসুনির্দিষ্ট কারণ এখনো বের করা যায়নি। তবে বংশগতভাবে এ রোগ থাকা, শারীরিককিছু সমস্যা, শরীরের ভেতরের ভারসাম্যহীনতা, মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা প্রভৃতিকারণে হতে পারে। হাত-পা ঘামার কারণহাত-পাঘামার প্রাথমিক কারণ হিসেবে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। তবে অতিরিক্তস্নায়বিক উত্তেজনার কারণে ঘাম হয়ে থাকে। এ ছাড়া আরও নানা কারণে হাত-পাঘেমে থাকে। যেমন পারকিনসন্স ডিজিজ, থাইরয়েডে সমস্যা, ডায়বেটিস, জ্বর, শরীরে গ্লুকোজের স্বল্পতা, মেনোপোজের পর প্রভৃতি। অনেক সময় শরীরেভিটামিনের অভাব থাকলে হাত-পা অতিরিক্ত ঘামতে পারে। আবার মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা ও জেনেটিক কারণে হাত-পা ঘামে।
চিকিৎসা
সঠিক কারণ বের না করে চিকিৎসা করা উচিত নয়। আগে অনুসন্ধানবা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কারণ খুঁজতে হবে। তারপর সঠিক চিকিৎসা নিলে এসমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সাধারণত বিভিন্নভাবে হাত-পা ঘামা কমানোযেতে পারে। অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইডযুক্ত একধরনের বিশেষ লোশন হাত-পায়েব্যবহার করলে হাত-পা ঘামা কমে যায়। বিশেষ ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রে হাত-পাসেকে নিলে হাত-পা ঘামা কমে যাবে। পরবর্তী সময়ে এটি দেখা দিলে আবার একইভাবেসেই বৈদ্যুতিক যন্ত্রে হাত-পা সেকে নিতে হবে। এসব পদ্ধতি ছাড়াও একটিবিশেষ ধরনের নার্ভের অস্ত্রোপচার করেও হাত-পা ঘামা কমানো যায়।
তবে হাত-পায়ের ঘাম রোধে যা-ই করা হোক না কেন, এর আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
সূত্র - প্রথম আলো

