মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার অনেক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছুকারণ আলোচনা করা হল_
১. স্থানীয় কারণ : যখন মাড়ির পাশর্ববর্তী অংশে অর্থাৎ দাঁতের গায়ে ডেন্টাল প্লাক জমা হয় তখন
মাড়িতে প্রদাহ দেখা দেয় যাকে বলা হয় জিনজিভাইটিস এবং তার পরবর্তী পর্যায়ে পেরিওডন্টাইটিস
হওয়ার কারণে মাড়ি থেকে রক্ত বের হতে পারে। ২. অন্যান্য রোগ ও ভিটামিন স্বল্পতা_ যাদের
ডায়াবেটিস আছে বা গর্ভকালীন সময়ে তাদের মাড়ির প্রদাহ অন্যান্য স্বাভাবিক রোগীদের চেয়ে
বেশি। সেই সঙ্গে যাদের ভিটামিন সি, আয়রন ইত্যাদি স্বল্পতা আছে তাদেরও মাড়ি থেকে রক্ত পড়তে
পারে।
৩. যাদের লিভার ডিজিজ, জন্ডিস, ক্যান্সার এবং ডেঙ্গু ইত্যাদি রোগ আছে তাদেরও মাড়ি
থেকে রক্ত পড়তে পারে। ৪. যারা অন্যান্য রোগের কারণে যেমন হৃদরোগ, কিডনি ও লিভার
সমস্যায় বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহার করেন।
চিকিৎসা- চিকিৎসা প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়
১. প্রথম : রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ডায়াবেটিস ও অন্যান্য রোগের উপস্থিতি নির্ণয় করা যেমন
রক্তে আয়রন, হিমোগ্লোবিন, বিলিরুবিন, প্রথ্রম্বিন টাইম, প্লেটলেট কাউন্ট, বিটি, সিটি ইত্যাদি
সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। ২. দ্বিতীয়ত : অন্যান্য অবস্থা স্বাভাবিক থাকলে রুটিন
ডেন্টাল স্কেলিং ও মাড়ির শল্য চিকিৎসা (জিনজিভেকটমি) করা প্রয়োজন। ৩. ভিটামিন বা আয়রন
স্বল্পতা থাকলে নির্দিষ্ট পরিমাণে ভিটামিন বা আয়রন সাপ্লিমেন্ট দেওয়া। ৪. নিয়মিত ফলমূল ও
শাকসবজি যেমন_ পেয়ারা, আমলকী, জাম্বুরা কলা, লিচু, কমলা, কামরাঙা, লাল সবুজ হলুদ শাকসবজি,
পালংশাক, পুঁইশাক ও নিয়মিত সালাদ খাওয়া প্রয়োজন। ৫. ধূমপান বা তামাক গ্রহণের অভ্যাস
থাকলে তা দেরি না করে বর্জন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া। ৬. অঙ্গে কোনো অস্বাভাবিক তারতম্য
লক্ষ্য করলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে ৎবভবৎ করা প্রয়োজন। ৭. স্থানীয় কারণ বা মাড়ি থেকে
প্রদাহের কারণে রক্ত পড়লে ডেন্টার স্কেলিং এবং প্রয়োজনবোধে শল্য চিকিৎসা করা প্রয়োজন।
এছাড়া মাড়িতে ঘা হওয়া মুখের আরেকটি জটিল রোগ। কারণ এসব ঘা থেকে নানা জটিলতা সৃষ্টি
হয়। আমরা সাধারণত মুখের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে ঘা বা ক্ষত দেখতে পাই। এ ধরনের ঘা
বা ক্ষত নানান কারণে হতে পারে, তবে মাড়িতে বিশেষ ধরনের একটি ঘা হয় যা গালে বা
জিহ্বায় দেখা যায়। মাড়ির এই ধরনের ঘা বা ক্ষতকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। ক. স্থানীয়
কারণে। খ. অন্যান্য রোগের উপস্থিতির কারণে। ক. মাড়িতে ঘা বা প্রদাহ সাধারণত স্থানীয়
কারণেই হয়। যেমন_১. দাঁত ব্রাশের সময় হঠাৎ করে ঘর্ষণ বা আঘাত। ২. ডেন্টাল ফ্লস
বা টুথ পিকস ব্যবহারের সময় অতিরিক্ত খোঁচাখুঁচি। ৩. মাড়িতে পাথর বা ডেন্টাল প্লাক
জমা থাকা। ৪. ভিটামিন স্বল্পতা যেমন ভিটামিন সি, আয়রন ইত্যাদির ঘাটতি। ৫. ক্রাউন/
মুকুট/ কৃত্রিম দাঁতের অবস্থান ইত্যাদি। খ. অন্যান্য রোগ_ দেহের অন্যান্য রোগের মধ্যে
ডায়াবেটিস একটি অন্যতম রোগ। যখনই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থকবে না অর্থাৎ সুগার
স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাবে তখনই মাড়ির এই প্রদাহ বা ঘা বেড়ে যাবে। ৩. গর্ভবতী
মায়েদের গর্ভকালীন হরমোন তারতম্যে মাড়িতেও প্রভাব পড়ে, ফলে মাড়ি ফুলে যায় এবং ঘা
হয়।
চিকিৎসা : ১. কোনো কৃত্রিম দাঁতের ঘর্ষণে ঘা হয়ে থাকলে সেই দাঁত বা কৃত্রিম দাঁতের অংশ
বিশেষকে মসৃণ করা। ২. মাড়ির রোগ থাকরে স্কেলিং করা। ৩. ভিটামিন স্বল্পতা থাকলে
সাপ্লিমেন্ট দেওয়া। ৩. ধূমপান/মাদকদ্রব্য ও জর্দা, পান, সুপারিশ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে
তা বন্ধ করা। ৬. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এনে বা অন্যান্য ঝুঁকি কমিয়ে দাঁতের স্কেলিং ও
জিনজিভেকটমি করা প্রয়োজন। ৭. নিয়মিত সালাদ, ফলমূল-শাকসবজি খাওয়া প্রয়োজন।
সুত্র - বাংলাদেশ প্রতিদিন

