home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

মাড়ি থেকে রক্ত পড়া ও ঘা
১৭ অগাস্ট, ১৩
  Viewed#:   388

মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার অনেক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছুকারণ আলোচনা করা হল_

১. স্থানীয় কারণ : যখন মাড়ির পাশর্ববর্তী অংশে অর্থাৎ দাঁতের গায়ে ডেন্টাল প্লাক জমা হয় তখন

মাড়িতে প্রদাহ দেখা দেয় যাকে বলা হয় জিনজিভাইটিস এবং তার পরবর্তী পর্যায়ে পেরিওডন্টাইটিস

হওয়ার কারণে মাড়ি থেকে রক্ত বের হতে পারে। ২. অন্যান্য রোগ ও ভিটামিন স্বল্পতা_ যাদের

ডায়াবেটিস আছে বা গর্ভকালীন সময়ে তাদের মাড়ির প্রদাহ অন্যান্য স্বাভাবিক রোগীদের চেয়ে

বেশি। সেই সঙ্গে যাদের ভিটামিন সি, আয়রন ইত্যাদি স্বল্পতা আছে তাদেরও মাড়ি থেকে রক্ত পড়তে

পারে।

৩. যাদের লিভার ডিজিজ, জন্ডিস, ক্যান্সার এবং ডেঙ্গু ইত্যাদি রোগ আছে তাদেরও মাড়ি

থেকে রক্ত পড়তে পারে। ৪. যারা অন্যান্য রোগের কারণে যেমন হৃদরোগ, কিডনি ও লিভার

সমস্যায় বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহার করেন।

চিকিৎসা- চিকিৎসা প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়

১. প্রথম : রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ডায়াবেটিস ও অন্যান্য রোগের উপস্থিতি নির্ণয় করা যেমন

রক্তে আয়রন, হিমোগ্লোবিন, বিলিরুবিন, প্রথ্রম্বিন টাইম, প্লেটলেট কাউন্ট, বিটি, সিটি ইত্যাদি

সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। ২. দ্বিতীয়ত : অন্যান্য অবস্থা স্বাভাবিক থাকলে রুটিন

ডেন্টাল স্কেলিং ও মাড়ির শল্য চিকিৎসা (জিনজিভেকটমি) করা প্রয়োজন। ৩. ভিটামিন বা আয়রন

স্বল্পতা থাকলে নির্দিষ্ট পরিমাণে ভিটামিন বা আয়রন সাপ্লিমেন্ট দেওয়া। ৪. নিয়মিত ফলমূল ও

শাকসবজি যেমন_ পেয়ারা, আমলকী, জাম্বুরা কলা, লিচু, কমলা, কামরাঙা, লাল সবুজ হলুদ শাকসবজি,

পালংশাক, পুঁইশাক ও নিয়মিত সালাদ খাওয়া প্রয়োজন। ৫. ধূমপান বা তামাক গ্রহণের অভ্যাস

থাকলে তা দেরি না করে বর্জন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া। ৬. অঙ্গে কোনো অস্বাভাবিক তারতম্য

লক্ষ্য করলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে ৎবভবৎ করা প্রয়োজন। ৭. স্থানীয় কারণ বা মাড়ি থেকে

প্রদাহের কারণে রক্ত পড়লে ডেন্টার স্কেলিং এবং প্রয়োজনবোধে শল্য চিকিৎসা করা প্রয়োজন।

এছাড়া মাড়িতে ঘা হওয়া মুখের আরেকটি জটিল রোগ। কারণ এসব ঘা থেকে নানা জটিলতা সৃষ্টি

হয়। আমরা সাধারণত মুখের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে ঘা বা ক্ষত দেখতে পাই। এ ধরনের ঘা

বা ক্ষত নানান কারণে হতে পারে, তবে মাড়িতে বিশেষ ধরনের একটি ঘা হয় যা গালে বা

জিহ্বায় দেখা যায়। মাড়ির এই ধরনের ঘা বা ক্ষতকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। ক. স্থানীয়

কারণে। খ. অন্যান্য রোগের উপস্থিতির কারণে। ক. মাড়িতে ঘা বা প্রদাহ সাধারণত স্থানীয়

কারণেই হয়। যেমন_১. দাঁত ব্রাশের সময় হঠাৎ করে ঘর্ষণ বা আঘাত। ২. ডেন্টাল ফ্লস

বা টুথ পিকস ব্যবহারের সময় অতিরিক্ত খোঁচাখুঁচি। ৩. মাড়িতে পাথর বা ডেন্টাল প্লাক

জমা থাকা। ৪. ভিটামিন স্বল্পতা যেমন ভিটামিন সি, আয়রন ইত্যাদির ঘাটতি। ৫. ক্রাউন/

মুকুট/ কৃত্রিম দাঁতের অবস্থান ইত্যাদি। খ. অন্যান্য রোগ_ দেহের অন্যান্য রোগের মধ্যে

ডায়াবেটিস একটি অন্যতম রোগ। যখনই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থকবে না অর্থাৎ সুগার

স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাবে তখনই মাড়ির এই প্রদাহ বা ঘা বেড়ে যাবে। ৩. গর্ভবতী

মায়েদের গর্ভকালীন হরমোন তারতম্যে মাড়িতেও প্রভাব পড়ে, ফলে মাড়ি ফুলে যায় এবং ঘা

হয়।

চিকিৎসা : ১. কোনো কৃত্রিম দাঁতের ঘর্ষণে ঘা হয়ে থাকলে সেই দাঁত বা কৃত্রিম দাঁতের অংশ

বিশেষকে মসৃণ করা। ২. মাড়ির রোগ থাকরে স্কেলিং করা। ৩. ভিটামিন স্বল্পতা থাকলে

সাপ্লিমেন্ট দেওয়া। ৩. ধূমপান/মাদকদ্রব্য ও জর্দা, পান, সুপারিশ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে

তা বন্ধ করা। ৬. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এনে বা অন্যান্য ঝুঁকি কমিয়ে দাঁতের স্কেলিং ও

জিনজিভেকটমি করা প্রয়োজন। ৭. নিয়মিত সালাদ, ফলমূল-শাকসবজি খাওয়া প্রয়োজন।

সুত্র - বাংলাদেশ প্রতিদিন

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: পূর্ণ বয়স্ক প্রতিবন্ধী সন্তানদের নিয়ে বাবা
Previous Health Tips: 5 things that can scuttle good sex

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')