home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

বিশেষ শিশুদের বেড়ে উঠার ৯ টি গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন
১৫ অগাস্ট, ১৩
  Viewed#:   341

যেকোনো শিশুরই বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে মাইলস্টোন একটি বিশেষ গুরুত্ত বহন করে। শিশুর বৃদ্ধি এবং মানসিক

বিকাশ পরিমাপ করতেই মাইলস্টোনের প্রয়োজন হয়। একটি শিশুহাঁটতে শেখার আগে আরও কিছুধাপ পার হয়ে

আসে। যেমন - হামাগুড়ি দেয়া, বসা, গড়ানো ইত্যাদি।  নিম্নে শিশুর বৃদ্ধিতে ৯ টি গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন তুলে

১। চোখের মনির নড়াচড়া

শিশুর চোখের মনির নড়াচড়া বুদ্ধি বিকাশের সর্বপ্রথম ধাপ। চোখ দিয়ে দেখেই শিশুর প্রাথমিকভাবে বুদ্ধি

বিকশিত হতে শুরুকরে। চোখ দিয়ে দেখে শিশুবিভিন্ন বস্তু, মানুষকে চিনতে শুরুকরে। শিশুর ভবিষ্যতের

মাইলস্টোনগুলিতে উত্তীর্ণ হতে এই ধাপটি খুবই গুরুত্ত বহন করে

২) মাথা নিয়ন্ত্রণ করা

চোখের নড়াচড়ার পরের মাইলস্টোনটি হল মাথাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারা। শিশুরা জন্মের সময় নরম মাথা এবং

নরম ঘার নিয়ে জন্মায়। জন্মের পর শিশুরা ঘাড়ের উপর মাথা শক্ত করে ধরে রাখতে পারে না। সময়ের সাথে শিশুরা

মাথা নড়াচড়া করতে শেখে। শিশুরা প্রথম পাশাপাশি মাথা নাড়ে এবং ধীরে ধীরে ঘার শক্ত হয়ে আসলে মাথাও সোজা

রাখতে শেখে। মাথাকে নিয়ন্ত্রণ করে বিভিন্ন জিনিসের দিকে তাকানো পরবর্তী মাইলস্টোন যেমন - বসতে,

হামাগুড়ি দিতে গুলি অর্জন করতে সহায়তা করে। 

৩) হাত দিয়ে ধরা

শিশুর হাত দিয়ে মুঠি করে ধরতে পারা হল শিশুর ভবিষ্যতের মাইলস্টোন যেমন- খেলা, পড়া, লেখা, ছবি আঁকা, নিজে

নিজে খেতে পারার প্রথম ধাপ। স্পর্শের অনুভূতি মানব জীবনের সম্পর্কের ভিত্তি। স্পর্শের থেকে আমাদের

মানসিক, শারীরিক, সামাজিক অনুভূতি গুলি বিকশিত হয়। তাই শিশুর শরীরের হাতে পায়ে স্পর্শ করে তার অনুভূতির

সেন্সকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করা যেতে পারে।

৪) মিনি পুশ আপ

৪ মাস বয়স হলে শিশুরা শরীর উল্টে বুকে ভর দিয়ে মাথা সোজা করে তাকায়। এই মাইলস্টোন শিশুর হাতের গথন

মজবুত করতে সহায়তা করে।শিশুদেরকে মেঝেতে উপরে বর্ণিত পজিশনে রেখে তাকে মিনি পুশ আপ রাখা যেতে পারে। এই

মাইলস্টোনটি শিশুর ঘার, মাথা, বাহুর গঠনও মজবুত করতে সহায়তা করে।

এই মাইলস্টোন তখনি আসবে যখন শিশুউপরে বর্ণিত মাইলস্টোন গুলি পার করে আসে। মিনি পুশ আপ পজিশন

শেখার পরে শিশুরা আরও ভালভাবে নিজের শরীরকে নিয়ন্ত্রনে আনতে শেখে। যখন সে তার হাত এবং পেটের উপর

পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ আনতে শেখে তখন সে গড়ানোর চেষ্টা করে। এই মাইলস্টোনে শিশুর পা, ঘাড়, পিঠ এবং

শরীরের মাংস পেশি শক্ত হয়।

৬) সোজা হয়ে বসতে শেখা

এই মাইলস্টোনটিও নির্ভর করছে পূর্বের মাইলস্টোন গুলির উপর। যখন শিশুরা মিনি পুশ আপ পজিশান এবং

গড়াতে শেখে তখনি সে নিজে নিজে সোজা হয়ে বসতে শেখার চেষ্টা করবে। যখন শিশুরা বসতে শেখে তখন তাদের

মেরুদণ্ড শক্ত হয়। এই মাইলস্টোন থেকে শিশুরা নিজে নিজে চলাচলের চেষ্টা করে।

৭) হামাগুড়ি দেয়া

শিশুরা প্রথম নিজে নিজে অবস্থান পরিবর্তন করতে শেখে হামাগুড়ি দেয়ার মাধ্যমে। যখন তার হাত এবং পা যথেষ্ট

পরিমানে শক্ত হয় তখনি সে হামাগুড়ি দেয়ার চেষ্টা করবে। হামাগুড়ি শিশুর বিকাশে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। এটি

শিশুর পা, হা, বাহুএবং মেরুদন্ড শক্ত করে।

৮) দাঁড়াতে শেখা

হামাগুড়ি দেয়ার পরের ধাপটি হল শিশুর দাঁড়াতে শেখা। প্রথমে শিশুকোন কিছুধরে ধরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে এবং

কতক্ষন দাঁড়িয়ে থেকে সে বসে পড়ে। সময়ের সাথে সাথে শিশুঘরের নানা রকম আসবাব ধরে ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে চেষ্টা

করে। এই মাইলস্টোন শিশুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মজবুত করে।যখনই শিশুদাঁড়াতে শেখে তার পরই শিশুনিজের শরীরের

উপর ভালভাবে নিয়ন্ত্রণ আনতে পারে। হাঁটুগেড়ে বসা, মাটিতে বসতে পারা ইত্যাদি এই মাইলস্টোনে উত্তীর্ণ

হওয়ার পরই করতে শেখে।

যখন শিশুউপরের সবগুলি মাইলস্টোন অতিক্রম করে আসে তখন শিশুশরীরকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করার প্রাথমিক

ধাপ হাঁটতে শেখে। শিশুর শরীরের হাত, পা, মেরুদণ্ড যথেষ্ট পরিমানে মজবুত হওয়ার পরই শিশুহাঁটতে শেখে।

উপরের আলোচনা থেকে আমরা এটা বলতে পারি যে প্রতিটি মাইলস্টোন পূর্বের মাইলস্টনের উপর নির্ভর করছে।

শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ মজবুত হওয়ার সাথে সাথে শিশুর বৃদ্ধির এক একটি মাইলস্টোন অতিক্রম করে।

তবে আমাদের মনে রাখতে  হবে প্রতিটি শিশুই আলাদা। প্রতিটি শিশুতার নিজের মত এক একটি ধাপ অতিক্রম করে।

কখনো বয়সের কিছুআগে কখনোবা বয়সের কিছুপরে শিশুরা মাইলস্টোন গুলি অতিক্রম করে। খেয়াল রাখুন শিশুর

বৃদ্ধির ধাপগুলি কারণ প্রতিটি মাইলস্টোন পরবর্তীতে আরেকটি মাইলস্টোনে উত্তীর্ণ হওয়ার পাথেয়।

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: খুশকি দূর করার ৪ টি কার্যকরী হেয়ার প্যাক
Previous Health Tips: 12 Ways to Prevent Food Waste at Home Part-2

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')