যেকোনো শিশুরই বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে মাইলস্টোন একটি বিশেষ গুরুত্ত বহন করে। শিশুর বৃদ্ধি এবং মানসিক
বিকাশ পরিমাপ করতেই মাইলস্টোনের প্রয়োজন হয়। একটি শিশুহাঁটতে শেখার আগে আরও কিছুধাপ পার হয়ে
আসে। যেমন - হামাগুড়ি দেয়া, বসা, গড়ানো ইত্যাদি। নিম্নে শিশুর বৃদ্ধিতে ৯ টি গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন তুলে
১। চোখের মনির নড়াচড়া
শিশুর চোখের মনির নড়াচড়া বুদ্ধি বিকাশের সর্বপ্রথম ধাপ। চোখ দিয়ে দেখেই শিশুর প্রাথমিকভাবে বুদ্ধি
বিকশিত হতে শুরুকরে। চোখ দিয়ে দেখে শিশুবিভিন্ন বস্তু, মানুষকে চিনতে শুরুকরে। শিশুর ভবিষ্যতের
মাইলস্টোনগুলিতে উত্তীর্ণ হতে এই ধাপটি খুবই গুরুত্ত বহন করে
২) মাথা নিয়ন্ত্রণ করা
চোখের নড়াচড়ার পরের মাইলস্টোনটি হল মাথাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারা। শিশুরা জন্মের সময় নরম মাথা এবং
নরম ঘার নিয়ে জন্মায়। জন্মের পর শিশুরা ঘাড়ের উপর মাথা শক্ত করে ধরে রাখতে পারে না। সময়ের সাথে শিশুরা
মাথা নড়াচড়া করতে শেখে। শিশুরা প্রথম পাশাপাশি মাথা নাড়ে এবং ধীরে ধীরে ঘার শক্ত হয়ে আসলে মাথাও সোজা
রাখতে শেখে। মাথাকে নিয়ন্ত্রণ করে বিভিন্ন জিনিসের দিকে তাকানো পরবর্তী মাইলস্টোন যেমন - বসতে,
হামাগুড়ি দিতে গুলি অর্জন করতে সহায়তা করে।
৩) হাত দিয়ে ধরা
শিশুর হাত দিয়ে মুঠি করে ধরতে পারা হল শিশুর ভবিষ্যতের মাইলস্টোন যেমন- খেলা, পড়া, লেখা, ছবি আঁকা, নিজে
নিজে খেতে পারার প্রথম ধাপ। স্পর্শের অনুভূতি মানব জীবনের সম্পর্কের ভিত্তি। স্পর্শের থেকে আমাদের
মানসিক, শারীরিক, সামাজিক অনুভূতি গুলি বিকশিত হয়। তাই শিশুর শরীরের হাতে পায়ে স্পর্শ করে তার অনুভূতির
সেন্সকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করা যেতে পারে।
৪) মিনি পুশ আপ
৪ মাস বয়স হলে শিশুরা শরীর উল্টে বুকে ভর দিয়ে মাথা সোজা করে তাকায়। এই মাইলস্টোন শিশুর হাতের গথন
মজবুত করতে সহায়তা করে।শিশুদেরকে মেঝেতে উপরে বর্ণিত পজিশনে রেখে তাকে মিনি পুশ আপ রাখা যেতে পারে। এই
মাইলস্টোনটি শিশুর ঘার, মাথা, বাহুর গঠনও মজবুত করতে সহায়তা করে।
এই মাইলস্টোন তখনি আসবে যখন শিশুউপরে বর্ণিত মাইলস্টোন গুলি পার করে আসে। মিনি পুশ আপ পজিশন
শেখার পরে শিশুরা আরও ভালভাবে নিজের শরীরকে নিয়ন্ত্রনে আনতে শেখে। যখন সে তার হাত এবং পেটের উপর
পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ আনতে শেখে তখন সে গড়ানোর চেষ্টা করে। এই মাইলস্টোনে শিশুর পা, ঘাড়, পিঠ এবং
শরীরের মাংস পেশি শক্ত হয়।
৬) সোজা হয়ে বসতে শেখা
এই মাইলস্টোনটিও নির্ভর করছে পূর্বের মাইলস্টোন গুলির উপর। যখন শিশুরা মিনি পুশ আপ পজিশান এবং
গড়াতে শেখে তখনি সে নিজে নিজে সোজা হয়ে বসতে শেখার চেষ্টা করবে। যখন শিশুরা বসতে শেখে তখন তাদের
মেরুদণ্ড শক্ত হয়। এই মাইলস্টোন থেকে শিশুরা নিজে নিজে চলাচলের চেষ্টা করে।
৭) হামাগুড়ি দেয়া
শিশুরা প্রথম নিজে নিজে অবস্থান পরিবর্তন করতে শেখে হামাগুড়ি দেয়ার মাধ্যমে। যখন তার হাত এবং পা যথেষ্ট
পরিমানে শক্ত হয় তখনি সে হামাগুড়ি দেয়ার চেষ্টা করবে। হামাগুড়ি শিশুর বিকাশে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। এটি
শিশুর পা, হা, বাহুএবং মেরুদন্ড শক্ত করে।
৮) দাঁড়াতে শেখা
হামাগুড়ি দেয়ার পরের ধাপটি হল শিশুর দাঁড়াতে শেখা। প্রথমে শিশুকোন কিছুধরে ধরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে এবং
কতক্ষন দাঁড়িয়ে থেকে সে বসে পড়ে। সময়ের সাথে সাথে শিশুঘরের নানা রকম আসবাব ধরে ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে চেষ্টা
করে। এই মাইলস্টোন শিশুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মজবুত করে।যখনই শিশুদাঁড়াতে শেখে তার পরই শিশুনিজের শরীরের
উপর ভালভাবে নিয়ন্ত্রণ আনতে পারে। হাঁটুগেড়ে বসা, মাটিতে বসতে পারা ইত্যাদি এই মাইলস্টোনে উত্তীর্ণ
হওয়ার পরই করতে শেখে।
যখন শিশুউপরের সবগুলি মাইলস্টোন অতিক্রম করে আসে তখন শিশুশরীরকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করার প্রাথমিক
ধাপ হাঁটতে শেখে। শিশুর শরীরের হাত, পা, মেরুদণ্ড যথেষ্ট পরিমানে মজবুত হওয়ার পরই শিশুহাঁটতে শেখে।
উপরের আলোচনা থেকে আমরা এটা বলতে পারি যে প্রতিটি মাইলস্টোন পূর্বের মাইলস্টনের উপর নির্ভর করছে।
শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ মজবুত হওয়ার সাথে সাথে শিশুর বৃদ্ধির এক একটি মাইলস্টোন অতিক্রম করে।
তবে আমাদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি শিশুই আলাদা। প্রতিটি শিশুতার নিজের মত এক একটি ধাপ অতিক্রম করে।
কখনো বয়সের কিছুআগে কখনোবা বয়সের কিছুপরে শিশুরা মাইলস্টোন গুলি অতিক্রম করে। খেয়াল রাখুন শিশুর
বৃদ্ধির ধাপগুলি কারণ প্রতিটি মাইলস্টোন পরবর্তীতে আরেকটি মাইলস্টোনে উত্তীর্ণ হওয়ার পাথেয়।

