home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

মনটাকে কিভাবে ভালো রাখা যায়
১৪ অগাস্ট, ১৩
  Viewed#:   227

সবারই মাঝেমধ্যে মন খারাপ হয়ে থাকে আর এটা খুব স্বাভাবিক প্রবণতা। কেউ কেউ মন খারাপ করে

শুধু বিছানায় শুয়ে থাকেন, এদিক ওদিক করেন, কিছুই যেন ভালো লাগে না। অনেকে বেশি বেশি মজার খাবার

খেয়ে মন ভালো করতে চায়। আবার বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনার মন খারাপ থাকলেও তা প্রকাশ করার

কোনো সুযোগ থাকে না। কেননা কেবল কাজ আর কাজ। অফিসে কাজ, বাইরে কাজ, বাচ্চাকে দেখা,

রান্নার কাজ, এত এত কাজের মধ্যে মন খারাপ করার সময় কোথায়? তাই, আমরা তো মন খারাপ করতে

পারিই না উল্টো মনটাকে শক্ত রাখতে হয়, থাকতে হয় প্রফুল্ল আর আনন্দ চিত্তে।

নিজের মনটাকে কিভাবে ভালো রাখা যায়, সেটি জেনে নেয়া যাক।

মাঝেমধ্যেই আপনার ওপর অনেক কাজের চাপ তৈরি হয় তাই না? এতে আপনার মন খারাপ হয়? মন রাখাপ

করে প্রায় বলে থাকেন 'স্টপ' বা 'চলে যাও সবাই' অথবা 'আমার কিছুই ভালো লাগছে না'। এ সময়ে

একদমই কাজ করতে ইচ্ছে করে না। অথচ কিছুক্ষণের মধ্যে আপনার মন ভালো হওয়া প্রয়োজন। আপনি

এ সময় যা করতে পারেন তা হলো, পাহাড়ের মতো এত এত কাজের ভিড় ঠেলে উঠে বেরিয়ে আসুন। ছাদে

চলে যান, মাথা উঁচিয়ে আকাশের দিকে তাকান, তারপর আপনার হাতদুটো টান টান সোজা করে উপরের

দিকে তুলে ধরুন আর জোরে শব্দ করে হাসুন। আশা করি সহজ এই অনুশীলনে আপনার মন ভালো হয়ে

যাবে।

কাজের ভারে বুকে চাপ লাগছে, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে? অথচ কাজগুলো শেষ করতেই হবে, তাই না?

ঠিক আছে, একটু সময় নিয়ে আঙুলে মাসাজ শুরু করুন। আপনার বুড়ো আঙুল এবং তর্জনী দিয়ে দু'হাতের

আঙ্গুলগুলোর মাঝে টিপে টিপে মাসাজ করুন। এই অনুশীলন আপনাকে কাজের চাপে দম বন্ধ হওয়ার মতো

মানসিক ও শারিরিক চাপ থেকে রেহাই দিতে পারে।

অসমাপ্ত কাজ বা শেষ করতে হবে এমন কাজ নিয়ে বেশি চিন্তা করা বন্ধ করুন বরং, যে কাজ শেষ হয়েছে

তা নিয়ে চিন্তা করুন। এক দঙ্গল অসমাপ্ত কাজ নিয়ে যদি প্রতিনিয়ত চিন্তা করতে থাকেন তা আপনাকে

ক্লান্ত করে দিতে পারে। তাই এসব নিয়ে চিন্তা না করে সম্প্রতি যে কটি কাজ সফলভাবে শেষ করেছেন,

সেগুলো নিয়ে ভাবুন আর তা কাগজে লিখে রাখুন। সফল এ সব কাজের তালিকা দেখে আপনার মনের দৃঢ়তা

ফিরে আসবে যা আপনাকে প্রফুল্ল করে তুলতে সাহায্য করবে।

নিশ্চয়ই অফিস বা ব্যবসার কাজের চাপে প্রায়ই খুব ক্লান্তি অনুভব করেন, কাজ আর ব্যস্ততার

যগদ্দল পাথরের মতো ভারি হয়ে ওঠে আপনার বুক। কিছু সময়ের জন্য কাজে বাইরে বেরিয়ে এসে কল্পনার

জাল বুনতে শুরু করুন। অর্থা  কাজ শেষে আপনি মালদ্বীপের মতো বিচে ছুটি কাটাতে চান। অথচ কাজ

আপনাকে সে সুযোগ দিচ্ছে না। তার ওপর ছুটি নেই, পয়সার অভাব নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা তো রয়েছেই।

কোনো সমস্যা নেই, এ অবস্থায় আপনি হতাশ না হয়ে কল্পনাপ্রবণ হয়ে উঠুন। আর কল্পনায়

মালদ্বীপের বিচ উপভোগ করুন- যেন মনে হয় সত্যিই আপনি সেই বিচে ঘোরাফেরা করছেন, চেয়ারে শুয়ে

জুস খাচ্ছেন আর আপনার সামনে রয়েছে নীল আকাশের নিচে ঢেউয়ের তালে সমূদ্রের নাচন, হারিয়ে যায়

দিগন্তের ধুসর সীমানায়। এই সুন্দর কল্পনায় আপনি নিশ্চয়ই আরাম বোধ করবেন। দূর হবে বুকে

জমানো কাজের চাপ।

যারা ওজন কমাতে চান, তারা ভাতসহ বিভিন্ন কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবারের ক্ষেত্রে সতর্ক হোন।

মজার বিষয় হচ্ছে যদি সত্যি সত্যি আপনার মন খারাপ হয়ে থাকে, তাহলে কার্বোহাইড্রেট জাতীয়

খাবারই আপনার মুড ভালো করে দিতে পারে। তবে বেশি করে খাওয়ার দরকার নেই। ৩০ গ্রাম

কার্বোহাইড্রেট খাবার খেলে আপনি পুনরায় চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারেন। সেজন্য মন খারাপ থাকলে কিছু

হজমে সাহায্য করে এমন বিস্কুট খান বা অর্ধেক কাপ ওটমিল খান। দেখবেন আপনার মনে ভালো হয়ে

যাবে।

যখন মন খারাপ থাকে, তখন আপনার উচিত উজ্জ্বল রঙের সব কাপড় পড়া। মন খারাপ হলে অনেকে

কালো আর ধুসর রঙের কাপড় পড়তে পছন্দ করেন। আসলে এ রঙের কাপড়ে আপনাকে আরো মনমরা

মলিন মনে হবে। তাতে আপনার মন আরো খারাপ হবে। সেজন্য মন খারাপ থাকলে রঙিন কাপড় পড়ুন আর

এ সাথে নিজেকে সুন্দর করে সাজিয়ে তুলুন। নিজেকে সুন্দর দেখলে আপনার মনও প্রফুল্ল হয়ে উঠবে।

লাল, গোলাপী ও হলুদসহ বিভিন্ন উজ্জ্বল রঙ মনে আনন্দধারা বইয়ে দিতে পারে।

যখন মন খারাপ থাকে, তখন হয়তো আপনি প্রায়ই বলে থাকেন: সব কিছু এলোমেলো, ভাগ্যটাই অনেক

খারাপ'। এভাবে যদি চিন্তা করতে থাকেন তো, আপনার মন আরো খারাপ হয়ে যাবে। এ রকম সময় আপনি

বলার ধরনটা পরিবর্তন করতে পারেন। আপনি হয়তো বলতে পারেন যে, কিছু কাজ ভালো করেছি, কিছু

ভালো হচ্ছে না। এভাবে নিজেকে মূল্যায়ন করলে মন খারাপের চাপ কিছুটা হলেও কমে আসবে।

তবে একটা বিষয় সব সময়ে মনে রাখবেন, ভালো-মন্দ, সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না নিয়েই আমাদের জীবনের

সব কিছু। সব সময় ভালো মুডে থাকতে না পারাটা জীবনেরই অংশ, তবুও আমরা আশা করি সবাই প্রতিদিন

ভালো থাকবো, সুন্দর থাকবো।

সূত্র - natunbarta.com

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: 12 Ways to Prevent Food Waste at Home Part-2
Previous Health Tips: পুঁইশাক প্রতিদিন

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')