home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

খাবার খাই, টেলিভিশনও খাই
১৪ অগাস্ট, ১৩
  Viewed#:   133

‘আমার বাচ্চা খেতে চায় না’—প্রায় শতভাগ মা এ অভিযোগ করেন। আবার খাওয়ার সময় শিশুটি

নানা দুষ্টুমি করে, খাবার সহজে মুখে নিতে চায় না, একটু খেয়েই ক্ষান্ত দেয় ইত্যাদি সমস্যাও দেখা

দেয়। এ ধরনের সমস্যা  থেকে মুক্তি পেতে মা-বাবারা টেলিভিশন কিংবা কম্পিউটারের আশ্রয় নেন।

টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন, কার্টুন অথবা কম্পিউটার মনিটরের দিকে শিশুকে    তাকিয়ে থাকতে দিয়ে

সবটুকু খাবার কোনোমতে তার মুখগহ্বরে ঢেলে দেন     মা-বাবারা। তৃপ্তির ঢেকুর তুলে আশ্বস্ত হন

এই ভেবে, ‘যাক বাবা, এবেলা সবটুকু খাওয়াতে পেরেছি!’

প্রকৃতপক্ষে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুকে এভাবে ‘খাদ্যবস্তু’ গলাধঃকরণের মাধ্যমে

তার প্রকৃত পুষ্টি নিশ্চিত করা যায় না এবং শিশুটির সুস্থ-স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে ওঠে না। এ

জন্য  বিশেষজ্ঞরা শিশুকে খাওয়ানোর কৌশল হিসেবে টেলিভিশন বা কম্পিউটারের ব্যবহারকে

নিরু সাহিত করেছেন।

কী হয়এভাবে খাওয়ালে

টেলিভিশন বা কম্পিউটারের দিকে শিশুকে তাকিয়ে থাকতে দিয়ে, অনুষ্ঠান দেখিয়ে তাকে খাওয়ালে শিশুর

খাদ্য গ্রহণের মধ্যে একটি শর্তাধীন অবস্থা তৈরি হয়। এ কারণে একদিকে প্রতি বেলা খাবারের

সময় তার টেলিভিশন বা কম্পিউটারে প্রয়োজন হয়, আরেক দিকে এগুলো দেখার সময় তার খাওয়ার

চাহিদা তৈরি হয়। মা-বাবারা বলবেন, ভালোই তো, বাচ্চাটি বেশি বেশি খাবে। কিন্তু এখানেও বাদ

সাধছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা মনে করেন, এই শর্তাধীন অবস্থার সাহায্যে খাওয়ানোর ঝুঁকি অনেক।

প্রথমত, এর কারণে টেলিভিশন বা কম্পিউটারের প্রতি শিশুর নির্ভরশীলতা ও আসক্তি বেড়ে যায়।

দ্বিতীয়ত, টেলিভিশন বা কম্পিউটারের দিকে মনোযোগ থাকায় সে খাবারের স্বাদ আস্বাদন করতে

পারে না, কেবল গিলে খায়। তাই তার সুস্থ খাদ্যাভ্যাস গড়ে ওঠে না। এ ছাড়া খাবার ঠিকমতো চিবিয়ে

না খাওয়ায় হজমে সমস্যা হয়। সঠিক পুষ্টিমান নিশ্চিত হয় না। কোষ্ঠকাঠিন্যসহ নানা সমস্যা দেখা

দেয়। কখনো উঠতি বয়সের শিশু-কিশোরেরা টেলিভিশন দেখতে দেখতে অথবা কম্পিউটারের মনিটরের

সামনে বসে ভাজাপোড়া ও স্ন্যাকস খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলে, যার পরিণতি অল্প বয়সে মুটিয়ে

যাওয়া এবং কিশোর বয়সে ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়া। কেবল টেলিভিশন বা

কম্পিউটার দেখা নয়, বিশেষজ্ঞরা বলেন, বই পড়তে পড়তে খাবার গ্রহণ করাও ঠিক নয়। এতেও

একই ধরনের সমস্যা হতে পারে।

টেলিভিশন বা কম্পিউটারে অতিরিক্ত আসক্তি শিশুর খ্যাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যার পাশাপাশি তার

মধ্যে অতিচঞ্চলতা ও অমনোযোগিতার মতো মানসিক সমস্যার কারণ হতে পারে।

তাহলে কী করবেন

l ধৈর্য ধরুন, সময় নিয়ে সন্তানকে খাওয়ান, তাড়াহুড়ো করবেন না। আপনার সময় কম থাকলে অন্য

কাউকে দায়িত্ব দিন।

l সব সময় একই ব্যক্তি সন্তানকে খাওয়াবেন না। মা-বাবা দুজনে দায়িত্ব ভাগ করে    নিন। একেক

বেলা বা দিন একেকজন খাওয়ান। ‘আমার বাচ্চা আমার হাতে     ছাড়া খায়ই না’ বলে আত্মতৃপ্তি বোধ

না   করে বরং শিশুটির স্বাধীন খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলুন। তাকে নিজ হাতে খেতে উ সাহ দিন।

l শিশু একটু বড় হলে একসঙ্গে বসে খান।

l শিশুর খাদ্যতালিকা সুষম করুন। কেবল তার পছন্দসই বস্তু নয়, বরং প্রয়োজনীয় পুষ্টিমান নিশ্চিত

হয়—এমন বস্তু খাদ্যতালিকায় রাখুন।

l খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশনের সময় শিশুকে খানিকটা অংশগ্রহণের সুযোগ দিন। এতে করে খাবারের

প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হবে।

l শিশুর খিদে লেগেছে কি না, তা নিশ্চিত হয়ে তাকে খাবার দিন। জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন

না।

l অনেক সময় কিছু মানসিক সমস্যার কারণে শিশুর খাদ্যাভ্যাসে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে

বিশেষজ্ঞ চিকি সকের পরামর্শ নিন।

সূত্র - প্রথম আলো

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: পুঁইশাক প্রতিদিন
Previous Health Tips: একটাই সমাধান: অ্যালোভেরা

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')