ইফতারিতে বেগুনি থাকবে না, তা কেমন করে হয়। অনেকেরই সাধ এবং সাধ্য থাকা সত্ত্বেও পাতে বেগুনি নিতে পারেন না। বেগুনের তৈরি যেকোনো খাবার খেলেই তাঁদের শরীরে উপদ্রবের মতো হাজির হয় নানা উপসর্গ। ঠোঁট চুলকানো, শরীর ফুলে যাওয়া থেকে শুরু করে গায়ে র্যাশও ওঠে কখনো কখনো। তাহলে কি তিনি বেগুন খাওয়া ছেড়ে দেবেন একেবারেই? জানতে চেয়েছিলাম বারডেম জেনারেল হাসপাতালের পুষ্টি বিভাগের প্রধান আখতারুন্নাহার আলোর কাছে। তিনি বললেন, যে খাবার খেলে অ্যালার্জিজনিত সমস্যা হয়, সেই খাবার প্রথমেই দীর্ঘদিন বন্ধ রাখতে হবে। তারপর খাওয়া শুরু করে দেখতে পারেন। যদি কোনো প্রতিক্রিয়া না হয় তবে চালিয়ে যেতে পারেন খাবারটি। আর যদি শারীরিক অসুস্থতা হয়, তবে খাবারটা বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
খাবারে অ্যালার্জির কারণে আরও বেশ কিছুসমস্যা দেখা দেয়। ব্যক্তিভেদে কারও কারও বমি হয়, হতে পারে মাথা ব্যথা কিংবা পেট ব্যথা, ডায়রিয়াও হয় কখনো কখনো। পুষ্টিবিদ আখতারুন্নাহার আলো আরও বলেন, প্রথমে নিজেকেই খুঁজে বের করতে হবে কোন কোন খাবারে অ্যালার্জি আছে। সে খাবারগুলো এড়িয়ে চলতে হবে প্রথমে। এ ক্ষেত্রে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই হবে শ্রেষ্ঠ। যেকোনো খাবারেই কারও কারও জন্য শরীরে অ্যালার্জি তৈরি হতে পারে, তবে বেশি দেখা যায় চিংড়ি, ইলিশ, হাঁসের ডিম, গরুর মাংস এগুলোতে।
হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আফজালুল করিম বললেন, কোনো একটি খাবার যদি একজনের শরীরে অ্যালার্জি জনিত সমস্যা তৈরি করে, সেই খাবারটি অন্যজনের শরীরে অ্যালার্জি তৈরি করবে এমন নয়। যে খাবারে অ্যালার্জি হয় সেটি এড়িয়ে চলুন। তার পরও ভুগলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কিছুপরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ওষুধ খান।
বাড়িতে বসে নিজে নিজে খানিকটা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়তে পারেন অ্যালার্জির বিরুদ্ধে। সে ক্ষেত্রে পেট ব্যথা কিংবা ত্বকে র্যাশ উঠলে খেতে পারেন কলা। আবার এক গ্লাস পানিতে বেশি করে লেবু আর এক চা-চামচ মধু মিশিয়ে খেতে পারেন রোজ সকালে। এটি চলবে কয়েক মাস। খাবারের বেলায় ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ খাবার খান। অ্যালার্জির বিরুদ্ধে লড়তে ভিটামিন-ই-এর জুড়ি নেই। গাজর কিংবা শসার রসে অ্যালার্জি প্রতিরোধী উপাদান আছে। তাই গাজর, শসা খেতে পারেন নিয়ম করে।
যাঁরা অ্যালার্জির সমস্যায় বেশি ভোগেন, তাঁদের জন্য অ্যালকোহল, চা, কফি এড়িয়ে চলাই ভালো। অ্যালার্জিজনিত শারীরিক সমস্যা থেকে খানিকটা স্বস্তি পেতে জেনে নিতে পারেন আরও কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য। ঠান্ডা পানিতে গোসল কিংবা ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিতে পারেন শরীরের অঙ্গগুলো। এ সময়টায় সুতি কাপড়ে অভ্যস্ত হোন। শারীরিক পরিশ্রম কমিয়ে শরীরকে বিশ্রাম দিন। আর প্রয়োজনে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যালার্জি প্রতিরোধী ওষুধ খেতে হবে।
সূত্র - প্রথম আলো

