ধমকের শাসনে আরও বিগড়ে যায় শিশুরা
৩০ এপ্রিল, ১৪
Viewed#: 105
বাড়িতে অতিথি এলে তাঁদের সঙ্গে মিশতে শিশুকে উত্সাহ দিচ্ছেন অভিভাবকেরা। তবে, এমন সময়ে ভুলেও ধমক দেওয়া যাবে না শিশুদের। প্রতীকী ছবি: অধুনামায়েরা তাঁদের অবাধ্য বা দুষ্টু শিশুদের প্রায়ই কড়া সুরে শাসন করেন, ধমক দেন। তাতে শিশুরা হয়তো সাময়িকভাবে বাধ্য হয়। কিন্তু এর প্রভাব মারাত্মক। এতে ভবিষ্যতে শিশুদের আচরণ আরও খারাপ হতে পারে। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের এক গবেষণায় এমন দাবি করা হয়েছে।
৮ এপ্রিল ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ পত্রিকার অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত রয়েল ইকোনমিক সোসাইটির বার্ষিক সম্মেলনে গবেষণাটি উপস্থাপন করা হয়। ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টারে ৭ থেকে ৯ এপ্রিল ওই সম্মেলন হয়।
সহস্রাব্দের প্রথম দুই বছরে জন্ম নেওয়া প্রায় ১৯ হাজার শিশুর তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষণাটি করা হয়েছে। প্রথম জন্মদিনের আগে ওই শিশুদের মা-বাবার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এরপর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে ওই শিশুদের তিন, পাঁচ ও সাত বছর বয়সের সময়। স্কুলশিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট শিশুদের বড় ভাইবোনদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, অবাধ্য বা দুষ্টু শিশুদের সঙ্গে মায়েদের মাত্রাতিরিক্ত চেঁচামেচি ও কড়া শাসনে হিতে বিপরীত হতে পারে। এ ছাড়া দুরন্ত শিশুদের অবজ্ঞা করার পরিণতিও নেতিবাচক হতে পারে। এতে ভবিষ্যতে তাদের আচরণ খারাপ হতে পারে।
শিশুদের সঙ্গে অভিভাবকদের যুক্তিসংগত ও সমঝোতামূলক আচরণ তরুণ বয়সে তাদের ইতিবাচক আচরণ গড়ে তুলতে সহায়তা করে বলে মনে করছেন গবেষকেরা। এ ছাড়া ভালো আচরণ, স্বাস্থ্যকর খাবার, ঘুমানোর রুটিনমাফিক সময় ও নিয়মিত শরীরচর্চা শিশুদের সুন্দর জীবনে অভ্যস্ত করে এবং মানসিকতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ধনীদের তুলনায় গরিব পরিবারের শিশুরা তাদের মায়েদের কড়া শাসনে বেশি প্রভাবিত হয়। তবে গবেষকেরা সতর্ক করে দিয়েছেন এবং স্বীকার করেছেন যে, অভিভাবকদের শাসন এবং শিশুদের ওপর এর প্রভাবের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করাটা কঠিন। কারণ, এ ক্ষেত্রে এটাই একমাত্র প্রভাবক নয় এবং এতে সামাজিক শ্রেণীসহ অন্যান্য উপাদানের প্রভাব রয়েছে।
সূত্র - প্রথম আলো