গরমে হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচতে যা করবেন
২৬ এপ্রিল, ১৪
Viewed#: 102

হঠাৎ করে গরমটা যেন খুব বেশি পড়ে গেল। এ সময়ে গরম পড়ে ঠিকই, কিন্তু এ বারের গরমটা কিছুটা অন্য রকম। শুকনো গরম। ঘাম হচ্ছে না। আর এখান থেকেই কিন্তু সমস্যা শুরু। কারণ ঘাম যতই বিরক্তকর হোক না কেন, আসলে এটি শরীরকে ঠাণ্ডা করতে সাহায্য করে। ত্বককে আর্দ্র রাখে। ঘেমে নেয়ে পাখার তলায় দাঁড়ালেই ব্যাপারটা টের পাবেন। এ বারের গরম থেকে সেই ঘাম-ই উধাও!
এদিকে বাইরের তাপমাত্রাও ক্রমশ চড়ছে। ঠিক মতো সাবধানতা না নিলে এই ধরনের আবহাওয়ায় হিট স্ট্রোক হতে পারে। আসলে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস আমাদের শরীরের তাপমাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করে। বাইরের পরিবেশের তাপমাত্রা যদি খুব বেশি হয়ে যায়, আর তা যদি মস্তিষ্কের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাকে ছাপিয়ে যায়, তখনই হতে পারে হিট স্ট্রোক।
হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা বাড়ে কখন
বাইরের তাপমাত্রা খুব বেশি, অথচ কোনও রকম সাবধানতা ছাড়াই চড়া রোদে দীর্ঘ সময় থাকলেন।
অনেক ক্ষণ পানি না খাওয়ার জন্য শরীরে পানির পরিমাণ কমে গেলে, সোজা কথায় ডিহাইড্রেশন হলে।
এমন পোশাক পরলেন, যা দিয়ে স্বাভাবিক বায়ুচলাচল হতে পারছে না।
ঘাম বেরোতে না পারলে।
সমস্যাটা কী হয়
রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন। মারাত্মক রকম হলে রোগী কোমায় চলে যেতে পারেন। শরীরের ভেতরকার তাপমাত্রা খুব বেশি বেড়ে যায়।
রক্তে পানির পরিমাণ কমে যায়। খুব বেশি কমে গেলে কিডনির ক্ষতি হতে পারে
সোডিয়াম বা পটাশিয়ামের মাত্রা হঠাৎ করে খুব বেশি কমে বা বেড়ে যেতে পারে। তার থেকে কখনও কখনও হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হতে পারে।
হিট স্ট্রোক হলে কী করবেন
ডা. পার্থসারথি মুখোপাধ্যায়ের পরামর্শ, এ রকম হলে রোগীকে প্রথমে এসি’তে এনে শুইয়ে দিন। নিদেনপক্ষে পাখার হাওয়ায় নিয়ে আসুন। চোখে মুখে ঠান্ডা পানির ছিটে দিন। ঠান্ডা পানি দিয়ে রোগীর গা মুছিয়ে দিন। খেতে পারলে মোটামুটি ঠান্ডা পানি খাইয়ে দিন। আস্তে আস্তে রোগী স্বাভাবিক হবেন। আর যদি দেখেন এতে কমছে না, তবে চটজলদি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
হিট স্ট্রোক এড়াতে
ডা. সুব্রত মৈত্র জানালেন, বাইরে বেরোলেই ছাতা আর সানগ্লাস ব্যবহার করবেন। সঙ্গে পানি রাখবেন। লবণ লেবু মেশানো পানিও অল্প অল্প করে বার বার খেতে পারেন। আর অবশ্যই সুতির জামাকাপড় পরবেন।
এসি থেকে বাইরের গরমে বেরোলে তাপমাত্রার হেরফের হওয়ায় অনেকের ঠান্ডা লেগে যায়। আসলে একটানা এসি’তে থাকলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বার বার ঠান্ডা-গরম করলে সেই তাপমাত্রার পরিবর্তন শরীর নিতে পারে না। যার থেকে চট করে ঠান্ডা লেগে যায়। তবে এসি সহ্য করতে পারেন না, অথচ সাত-আট ঘন্টা এসি’তে কাজ করতে হলে মাফলার ব্যবহার করবেন।
তথ্যসূত্র: কালেরকণ্ঠ