কখনো কখনো দেখবেন, কেউ কেউ কানাঘুষা করছে যে দুর্গন্ধের কারণে তাদের অমুক বন্ধুর মুখের কাছে যাওয়া যায় না। জেনে রাখা ভালো যে এসব যারা বলেন এই সমস্যাটি কিন্তু তাদেরও হতে পারে। যে কেউ যেকোনো সময় মুখে দুর্গন্ধজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। তাই মুখে দুর্গন্ধের কারণ, প্রতিরোধ ও প্রতিকারের উপায়গুলো জেনে রাখা উচিত।
মুখে দুর্গন্ধজনিত এই সমস্যার নাম হেলিটোসিস। নানা কারণেই এই রোগ হতে পারে। ঠিকমতো দাঁত ব্রাশ না করা এই রোগের অন্যতম কারণ। মুখে দুর্গন্ধের সমস্যা আছে মনে হলে কারো কাছে জিজ্ঞেস করে নিশ্চিত হয়ে নিন। তারপর মনে করুন সকাল থেকে কী কী খেয়েছেন, অর্থাৎ পিঁয়াজ বা বেশি মশলাযুক্ত খাবার খেলে মুখে গন্ধ হতে পারে।
তবে সাধারণভাবে মুখে দুর্গন্ধের সমস্যা এড়িয়ে চলতে চাইলে কিছু ব্যাপারে আগে থেকেই সাবধানতা অবলম্বন করুন। যেমন বিভিন্ন খাবার ও পানীয়তে পিঁয়াজ, রসুন, পনির কিংবা কমলার শরবত, সোডা এগুলো গ্রহণ করার পর মুখ ভালো করে পরিষ্কার করুন, প্রয়োজনে ব্রাশ করুন। এছাড়া ধূমপান ও অন্যান্য তামাক সেবন বন্ধ করার পাশাপাশি নিয়ম অনুযায়ী দাঁত ও মুখগহ্বরের যত্ন নিন।
দাঁত ভালোভাবে পরিষ্কার করা না হলে খাদ্যকণা দাঁতের ফাঁকে জমে ব্যাকটেরিয়া ও প্ল্যাক তৈরি হয়। আর প্ল্যাক দুর্গন্ধের অন্যতম কারণ। তাই দিনে অন্তত দুবার দাঁত ব্রাশ করুন এবং একবার গড়গড়া করুন আর পরিষ্কার করুন জিহ্বাও কারণ এখানেও ব্যাকটেরিয়া জন্মায়।
দাঁতের সমস্যায় প্রয়োজন বোধ করলে দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। তবে বছরে একবার নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে গেলে তারা দাঁত ছাড়াও মাড়ির অন্যান্য রোগ থাকলে তা শনাক্ত করে দিতে পারবেন।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে এসিটোন স্মেল পাওয়া যায়, যা অনেকটা নেইলপলিশ রিমুভারের গন্ধের মতো।
দন্ত চিকিৎসক যদি নিশ্চিত করেন যে দুর্গন্ধ দাঁতের কারণে হচ্ছে না সেক্ষেত্রে তার পরামর্শ অনুযায়ী অন্য কোনো চিকিৎসক বা মেডিসিনের চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন। কারণ সাইনাস, লিভার-কিডনি কিংবা পেটের সমস্যা থাকলেও শ্বাস দুর্গন্ধযুক্ত হতে পারে।
সূত্র: ওয়েবসাইট

