home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

রক্তের গ্রুপ ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য
১৯ ডিসেম্বর, ১৩
Tagged In:  blood group  
  Viewed#:   352

blood-groups-characteristic-featuresরক্তের গ্রুপ ও মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য

আমাদের বেঁচে থাকার অন্যতম উপাদান হচ্ছে রক্ত। শরীরের মোট ওজনের শতকরা ৭ ভাগ রক্ত থাকে। আর সেই রক্তের শতকরা ৯২ ভাগই থাকে জলীয় পদার্থ দ্বারা তৈরি। Clr ক্ষারীয় রক্ত আপাত দৃষ্টিতে একই রকম মনে হলেও আন্তর্জাতিক রক্ত পরিসঞ্চালন সোসাইটির মতে তা থাকে ৩২টি ভিন্ন ভিন্ন ভাগে বিভক্ত। এ ভিন্নতার কারণ হল নানা রকমের এন্টিজেনের উপস্থিতি। এন্টিজেন হল সেই পদার্থ যা সুনির্দিষ্ট এন্টিবডির সঙ্গে বন্ধনে আবদ্ধ হয় আর এন্টিবডি হল বিশেষ ধরনের প্রোটিন (আমিষ) যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করে।

৩২টি ভিন্ন ভিন্ন বিভাজন থাকলেও ব্যবহারিক দিক থেকে রক্তকে প্রধানত ABO এবং জযউ এন্টিজেন এ দুটি উপায়ে ভাগ করা হয়। রক্তের গ্র“প সাধারণত পরিবর্তন হয় না।

ABO রকমের শ্রেণী বিভাজন
গ্রুপ অই: এ ধরনের রক্তের লোহিত কণিকার গায়ে অ এবং ই এন্টিজেন উপস্থিত থাকে এবং রক্তের জলীয় অংশে অ ও ই এন্টিজেনের বিরুদ্ধে কোনো এন্টিবডি থাকে না। এ গ্র“পের রক্তধারীরা প্রয়োজনে যে কারও রক্ত নিতে পারে, তবে অই ছাড়া অন্য কাউকে রক্ত দিতে পারে না।

গ্রুপ অ: এ ধরনের রক্তের লোহিত কণিকার গায়ে শুধু অ এন্টিজেন থাকে এবং রক্তের জলীয় অংশে এন্টিজেন ই-এর বিরুদ্ধে এন্টিবডি থাকে। গ্র“পের রক্তধারীরা অ এবং ঙ গ্র“পের যে কারও কাছ থেকে রক্তনিতে পারে এবং অ ও অই-এর বাইরে অন্য কাউকে রক্ত দিতে পারে না।

গ্রুপ ই: ইগ্র“পের ক্ষেত্রে রক্তের লোহিত কণিকার গায়ে শুধু ই এন্টিজেন থাকে এবং রক্তের জলীয় অংশে অ এন্টিজেন বিরোধী এন্টিবডি থাকে। এ গ্র“পের রক্তধারীরা ই ওঙ গ্র“পের রক্ত নিতে পারে এবং অই ও ই গ্র“পধারীকে রক্ত দিতে পারে।

গ্রুপ O : এ গ্র“পের রক্তের লোহিত কণিকার গায়ে অ বা ই কোনো ধরনের এন্টিজেন থাকে না, তবে রক্তের জলীয় অংশে এন্টিজেনঅ ও এন্টিজেন ই বিরোধী এন্টিবডি থাকে। O গ্র“পধারীরা কেবল মাত্র O গ্র“পের রক্তই নিতে পারে কিন্তু যে কোনো গ্র“পকেই রক্ত দিতে পারে।

জয পদ্ধতির শ্রেণী বিভাজন
জযপদ্ধতি হল রক্ত বিভাজনের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ উপায়। এ বিভাজন উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে কার্লল্যান্ড স্টেইনার ও আলেক জেন্ডার উইনার Rhesus Monkey (বানর)ব্যবহার করেছিলেন বলে এর নাম জয-পদ্ধতি। কারও রক্তের লোহিত কণিকার গায়ে Rh factor/D এন্টিজেন থাকলে Rh পজেটিভ এবং না থাকলে Rh নেগেটিভ। অর্থাৎ ABO পদ্ধতির মাধ্যমে কারও রক্তের গ্র“প পাওয়া গেল ই এবং তার রক্তে Rh factor/D এন্টিজেন পাওয়া গেল না- তাহলে তার রক্তের গ্র“প হল ই নেগেটিভ আর যদি উএন্টিজেন পাওয়া যায় তাহলে তা হবে B পজেটিভ।

এভাবে ABO এবং জয পদ্ধতি ব্যবহার করে অ পজেটিভ/নেগেটিভ, B পজেটিভ/নেগেটিভ, O পজেটিভ/নেগেটিভ এবং অইপজেটিভ/নেগেটিভ রক্তের গ্র“প নির্ধারণ করা হয়। উল্লেখ্য, জয পজেটিভধারীরা Rh পজেটিভধারীর এবং জয নেগেটিভধারীরা জয নেগেটিভধারীর সঙ্গে রক্ত বিনিময় করতে পারবে যদি তারা অইঙ পদ্ধতির শর্তের মধ্যে থাকে।

মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য
বিভিন্ন ধরনের গবেষণার মাধ্যমে রক্তের গ্র“পের সঙ্গে মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের যোগসূত্র খোঁজা হয়েছে এবং সর্বাংশে মিল না হলেও প্রতিটি গ্র“পের মানুষের কিছু কমন বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে।

ব্লাডগ্রুপ ঙ: মোট জনসংখ্যার শতকরা ৩৮ ভাগের রক্তের গ্র“প ঙ পজেটিভ এবং শতকরা ৬ ভাগের ঙনেগেটিভ। এই ব্লাড গ্র“পের মানুষেরা স্বচ্ছ দৃষ্টিসম্পন্ন, গভীর মনোযোগী, উচ্চাকাক্সক্ষী, স্বাস্থ্যবান, বাকপটু, বাস্তববাদী, রোমান্টিক এবং অত্যন্তবুদ্ধিমান হয়ে থাকে।

ব্লাড গ্রুপ অ: শতকরা ৩৪ ভাগ জনগোষ্ঠীর ব্লাড গ্র“পঅ পজেটিভ। অ নেগেটিভ ব্লাড গ্র“পের লোকসংখ্যা শতকরা ৬ ভাগ। এ ব্লাডগ্র“পের মানুষেরা গোছগাছ প্রিয়, দক্ষ চাকুরে এবং খুতখুতে স্বভাবের হয়ে থাকে, এরা আত্মকেন্দ্রিক, সুবিচারক, শান্ত, নিয়মতান্ত্রিক, বিশ্বস্ত, নিয়মানুবর্তী ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন।

ব্লাড গ্রুপ ই: শতকরা ৯ ভাগজনগোষ্ঠীর ব্লাড গ্র“প ই পজেটিভ এবং ই নেগেটিভের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ২ভাগ। এ ব্লাড গ্র“পের মানুষেরা স্বাধীনচেতা, মেধাবী, নমনীয়, মনোযোগী, স্বাস্থ্যবান, সরল, দক্ষ, পরিকল্পনাবাদী, বাস্তববাদী, আবেগপ্রবণ এবং খুববেশি রোমান্টিক হয়ে থাকে।

ব্লাড গ্রুপ অই: শতকরা ৪ ভাগ লোকের রক্তেরগ্র“প অই পজেটিভ এবং মাত্র ১ ভাগ লোকের রক্তের গ্র“প অই নেগেটিভ। এ ব্লাডগ্র“পের মানুষেরা সাধারণত সুবিবেচক, বুদ্ধিসম্পন্ন, হিসাবি, পরিকল্পনাবাদী, কৌশলী সংবেদনশীল, সৎ, নিরেট এবং খুব চমৎকার সাংগঠনিক ক্ষমতা সম্পন্ন হয়ে থাকে।

রক্তের গ্রুপের সঙ্গে বিবাহের যোগসূত্র : বিবাহের পূর্বেপাত্র-পাত্রীর রক্তের গ্র“প জানা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে রক্তে জয অসামঞ্জস্যতা সম্পর্কে অনুমান করা সম্ভব হয়। জয পজেটিভ ও জয নেগেটিভ পাত্রপাত্রীর বিবাহ হলে জয অসামঞ্জস্যতা হতে পারে। স্বামী-স্ত্রীর জয অসামঞ্জস্যতা হলে তাদের সন্তানের নানা রকমের সমস্যা দেখা দিতে পারে যারমধ্যে রক্তস্বল্পতা, মারাÍক জন্ডিস প্রভৃতি। তাই সন্তান ধারণের আগেই ডাক্তারের পরামর্শ নিন। 

সূত্র -jugantor.com

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: ডালিমের পুষ্টিগুণ
Previous Health Tips: ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')