সামান্য পুড়লেও পরিচর্যা জরুরি
21 April,13
Posted By: Healthprior21
Viewed#: 43
রান্না করতে গিয়ে গরম তেল ছিটকে আসা বা গরম পানির ভাপ লাগা, ভাতের মাড় গালতে গিয়ে পায়ে পড়া, গরম চা কেটলি থেকে উপচে হাতে লাগা নিত্যদিনের ঘটনা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এগুলো হলো স্ক্যাল্ড বার্ন বা গরম তরলজনিত পোড়া। এই পোড়ার তীব্রতা কতটা হবে, তা নির্ভর করে তরল পদার্থটির তাপমাত্রা কত ছিল তার ওপর। তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের বেশি হলে গভীর পোড়া হয়ে যেতে পারে। আবার একটা কম তীব্র পোড়া চিকিৎসা বা পরিচর্যার অভাবে গভীর পোড়ায় মোড় নিতে পারে। আর পোড়ার ক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে বা আধা থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে পরিচর্যা কী করা হলো, সেটা খুবই জরুরি। তাই ছোটখাটো পোড়া হলেও তা গুরুত্বের সঙ্গে পরিচর্যা জরুরি।
এক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে পোড়া স্থানটি পানির নিচে রাখা। এটি ট্যাপের চলমান পানি হলে ভালো, না হলে যা পাওয়া যায় তা-ই সই। এই পানির ধারা যেমন তাপমাত্রা কমিয়ে দেবে, তেমনি পোড়ার তীব্রতা কমাবে, জ্বালা কমাবে এবং ফোসকা পড়া প্রতিরোধ করবে। অন্তত এক ঘণ্টা পানির নিচে রেখে দেওয়া উচিত।
যদি ছোটখাটো ফোসকা পড়ে, তবে কিছু না করলেও চলবে। তবে বড় ফোসকা পড়লে অনেক সময় চিকিৎসকের কাছে গিয়ে ভেতরের পুঁজ বের করে নেওয়া যায়। ক্ষতস্থানে একটা সিলভার সালফাডায়াজিন ক্রিম লাগিয়ে নিলে যেমন সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়, তেমনি আরামও পাওয়া যায়। পুড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী একটা অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা এবং একটা টিটেনাস ইনজেকশন নেওয়া ভালো। তীব্র গভীর পোড়া হলে অবশ্যই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চলে যান।
ডা. মো আইয়ুব আলী, প্লাস্টিক অ্যান্ড বার্ন সার্জারি বিভাগ পঙ্গু হাসপাতাল, ঢাকা।