শিশুদের মধ্যে যক্ষ্মা রোগের হার খুব কম নয়। বিশ্বব্যাপী শিশুমৃত্যুর প্রথম ১০টি কারণের মধ্যে যক্ষ্মা একটি। কিন্তু শিশুদের যক্ষ্মা এখনো একটি অবহেলিত বিষয়। জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে বড়দের যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, শিশুদের ততটা নয়।
যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে ফুসফুসের যক্ষ্মা রোগী হিসেবে কেবল তারাই অন্তর্ভুক্ত হয়, যাদের কফে এই জীবাণু শনাক্ত করা যায়। এই নিয়মের কারণে শিশুরা কর্মসূচির বাইরেই রয়ে যায়। কারণ—
এক. বেশির ভাগ শিশু পরীক্ষার জন্য যথেষ্ট কফ দিতে পারে না। তা ছাড়া জীবাণুর সংখ্যা ছোটদের কফে এত কম থাকে যে তা পরীক্ষায় ধরা না-ও পড়তে পারে। এর ফলে অধিকাংশ শিশুর রোগ শনাক্ত হয় না।
দুই. শিশুদের যক্ষ্মার লক্ষণগুলো প্রায়ই নিউমোনিয়া, হাঁপানি, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বা ব্রঙ্কিওলাইটিসের সঙ্গে মিলে যায় বলে সব সময় সন্দেহের বাইরে থাকে।
তিন. কোনো কোনো ক্ষেত্রে যক্ষ্মায় আক্রান্ত শিশুর কফ, কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো কোনো উপসর্গই নেই, স্রেফ ওজন কমে যাওয়া বা সময়মতো ওজন না বাড়াই হতে পারে যক্ষ্মার লক্ষণ, যা অনেক অভিভাবকের চোখ এড়িয়ে যায়।
এ ক্ষেত্রে আপনার বাড়ির বা পরিবারের শিশুটির প্রতি মনোযোগ দিন।
এক. শিশুটি ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া, খেলাধুলা করছে কি না, প্রাণবন্ত আছে কি না
দুই. দিন দিন তার ওজন কমে যাচ্ছে কি না অথবা বয়স অনুপাতে ওজন ঠিকমতো বাড়ছে কি না
তিন. আশপাশে, পরিবার বা প্রতিবেশী বা স্কুলে কারও যক্ষ্মা হয়েছে কি না
চার. বারবার অথবা দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে কি না, যা সাধারণ চিকিৎসায় কিছুতেই সারছে না
পাঁচ. শিশুটি অপুষ্টিতে আক্রান্ত কি না।
অপুষ্টি ও যক্ষ্মা রোগীর সংস্পর্শ—এই দুটি হলো শিশুদের যক্ষ্মার মূল কারণ। এই সংস্পর্শ যত কম বয়সে ঘটে, ঝুঁকি তত বাড়ে। বাড়িতে বা পরিবারে কারও যক্ষ্মা হলে শিশুদের ব্যাপারে কী করণীয়, তা স্বাস্থ্যকর্মীর কাছ থেকে জেনে নিন। লেখক: বক্ষব্যাধি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ।
সূত্র : প্রথম আলো
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-03-24/news/339161

