মায়েদের গর্ভাবস্থায় পুষ্টি
17 June,13
Posted By: Healthprior21
Viewed#: 25
গর্ভাবস্থা জীবনচক্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। গর্ভধারণের পূর্বে অথবা গর্ভাবস্থায় প্রথমদিকে দেহে শক্তি, আমিষ এবং অপুষ্টির অভাব হলে কম ওজনের শিশু জন্ম দিতে পারে। যে মায়ের ওজন গর্ভবতী হবার আগে ৪০ কেজির নীচে থাকে, তারই কম ওজনের শিশু জন্ম দেবার সম্ভাবনা বেশি। মায়ের গর্ভাবস্থায় সঠিক পুষ্টি হচ্ছে কিনা তা বোঝার জন্য ওজন, বাম মধ্য বাহুর মাপ নিতে হবে । গর্ভকালীন সময়ে মোট ১০ কেজি ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের দেশে গর্ভকালীন সময়ে সাধারণত ৪-৬ কেজি ওজন বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। বাম মধ্য বাহুর মাপ ২৩ সেন্টিমিটার বা তার বেশি হওয়া উচিত। ওজন কম থাকা (৫০ কেজির নীচে) গর্ভবতী মায়ের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। উক্ত অবস্থার প্রধান কারণই হচ্ছে গর্ভবতী মায়ের অপুষ্টি।
একজন মহিলার প্রতিদিন গড়ে ২০০০-২২০০কিলো ক্যালরি শক্তির প্রয়োজন। গর্ভকালীন সময়ে প্রতিদিন অতিরিক্ত ৩০০ কিলো ক্যালরি দরকার অর্থাত্ প্রতিদিন গড়ে ২২০০+৩০০= ২৫০০ কিলো ক্যালরি দরকার। গর্ভবতী মায়েদের প্রতিদিন ভাত, মাছ (মলা, ঢেলা ইত্যাদি ছোট মাছ) ঘন ডাল, সবুজ শাক-সবজি, মাংস, ডিম ও দুধ খেতে হবে । হলুদ তাজা ফলমূল যেমন- পাকা পেঁপে, পাকা আম, গাজর, মিষ্টি কুমড়া ইত্যাদি যে সমস্ত খাবার ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ সেগুলো খাওয়া প্রয়োজন । কেননা ভিটামিন-এ শরীরে আয়রন ব্যবহারে সাহায্য করে। আমলকি, বাতাবী লেবু, পেয়ারা ইত্যাদি খেলে সহজেই ভিটামিন-সি-এর অভাব পূরণ হবে। শরীরে আয়রন শোষিত হওয়ার জন্য ভিটামিন সি অত্যন্ত জরুরি। গর্ভবতী মায়ের জন্য ক্যালসিয়ামও জরুরী ভূমিকা পালন করে। ক্যালসিয়ামের অভাবে উচ্চ রক্তচাপ, প্রি একলাম্পশিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ছোটমাছ, সবুজ শাক-সবজি, মূলা শাক, কচুশাক, মেথি শাক, দুধ, ডিম ইত্যাদিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে।
বাড়িতে তৈরি স্বাভাবিক খাবার যেমন- খিচুড়ি খেতে হবে। এ খিচুড়ি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ হলো -দুই মুঠ চাল, এক মুঠ ডাল, একটি ডিম, এক মুঠ সবুজ ও হলুদ শাক-সবজি এবং আট চা চামচ সয়াবিন তৈল। এই খিচুড়ি থেকে গর্ভবতী মা ৭০০কিলো ক্যালরি শক্তি পাবে যা গর্ভবতী মায়েদের জন্য খুবই জরুরী। এ সময় রক্তস্বল্পতা হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে— তাই রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে গর্ভবতী মাকে প্রতিদিন আয়রন- ফোলেট বড়ি খেতে হবে।
গর্ভাবস্থার শেষদিকে ( শেষ তিন মাস) গর্ভের সন্তানটির সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি হয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে,গর্ভাবস্থার শেষ ৩ মাসে খিচুিড় খাওয়ানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, কখনো কখনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হবে এবং কি ধরনের খাবার খেতে হবে ইত্যাদি পুষ্টি শিক্ষার মাধ্যমে গর্ভবতী মায়ের যথেষ্ট পুষ্টির উন্নতি করা সম্ভব। এ পুষ্টির উন্নতিকল্পেই একজন মা সুস্থ-সবল ও সঠিক ওজনের শিশু জন্ম দিতে পারে। তবে গর্ভাবস্থার প্রথম থেকেই মাকে যদি পুষ্টিকর খাবার দেয়া যায় তাহলে সবচেয়ে উপকার হয়।
কিশোরী অবস্থায় গর্ভধারণ করলে কম ওজনের বাচ্চা জন্ম দেবার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। এই কম ওজনের বাচ্চা পরবর্তীতে বড় হয়ে আবার অপুষ্ট শিশুর জন্ম দেয়। অর্থাত্ এই অপুষ্টিই চক্রাকারে চলতে থাকে। এই অপুষ্টি দূর করার জন্য কিশোরী অবস্থায় গর্ভধারণ পরিহার করতে হবে এবং গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।
সূত্র - দৈনিক ইত্তেফাক