পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক-সংকট এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকায় রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না। অবেদনবিদ, শল্য ও গাইনি চিকিৎসক না থাকায় দুই বছর ধরে হাসপাতালে অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। এ কারণে জরুরি প্রসূতিসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইসিজি যন্ত্রটি দুই বছর ও এক্স-রে যন্ত্রটি তিন মাস ধরে বিকল।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ২০ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও আছেন পাঁচজন। এর মধ্যে অবেদনবিদ এবং শৈল্য, গাইনি, চক্ষু, মেডিসিন, অর্থোপেডিক, কার্ডিওলজি, নাক-কান-গলা, দন্ত, প্যাথলজি বিভাগে কোনো চিকিৎসক নেই।
দুটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি দেড় বছর ধরে বিকল। ইসিজি ও এক্স-রে যন্ত্রটি বিকল থাকায় রোগীদের বেসরকারি বিভিন্ন রোগ নির্ণয়কেন্দ্রে যেতে হচ্ছে।
হাসপাতালের এক্স-রে টেকনিশিয়ান রতন হালদার জানান, ৩০ বছরের পুরোনো এক্স-রে যন্ত্রটি বারবার মেরামত করতে হচ্ছে। এটি কিছুদিন ব্যবহার করার পর আবার অকেজো হয়ে পড়ে। ইসিজি যন্ত্রটি বিকল হয়ে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
গত মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা হাত-পা ভাঙা রোগীদের পরীক্ষার জন্য বাইরের রোগ নির্ণয়কেন্দ্রে যেতে হচ্ছে।
মানিকখালী গ্রামের মো. আবদুল্লাহ জানান, হাত ভেঙে যাওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে তিনি জানতে পারেন, এক্স-রে যন্ত্রটি নষ্ট। তাই তিনি বাইরের রোগ নির্ণয়কেন্দ্র থেকে ২৫০ টাকায় এক্স-রে করিয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, চিকিৎসক না থাকায় প্রসূতিদের অস্ত্রোপচার করা যাচ্ছে না। এক্স-রে, ইসিজি যন্ত্র ও অ্যাম্বুলেন্সের ত্রুটির কথা জানিয়ে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার, ভান্ডার ও সরবরাহ কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ঔষধাগার থেকে জানানো হয়েছে, সেখানে এক্স-রে যন্ত্রের সংকট রয়েছে। নতুন এক্স-রে যন্ত্র কেনার পর হাসপাতালগুলোয় সরবরাহ করা হবে।
পিরোজপুরের সিভিল সার্জন আবদুল গনি জানান, মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক-সংকট এবং এক্স-রে ও ইসিজি যন্ত্রের ত্রুটি সম্পর্কে আমি অবগত। প্রতি মাসের প্রতিবেদনে চিকিৎসক-সংকট ও যন্ত্রপাতির ত্রুটির কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে।
content aggregation:healthPrior21
source:prothom-alo
http://www.24livenewspaper.com/site/index.php?url=www.prothom-alo.com

