home top banner

News

ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রাজধানী
10 January,13
 Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   8

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। ভূতাত্ত্বিক পরিবেশের কারণে দেশের অভ্যন্তরে যে চারটি ফল্ট রয়েছে তাতে শক্তিশালী ভূমিকম্পের জন্যে যথেষ্ট পরিমাণ শক্তি সঞ্চিত রয়েছে।

এতে যেকোনো সময় বড় ধরণের ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া প্রায়শই মাঝারি বা মৃদু ভূমিকম্প বড় ধরনের ভূমিকম্পের ইঙ্গিত বহন করে বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে বুধবার সকাল ৭টা ৪১ মিনিটে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর উত্পত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ৪৯৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে ভারত-মিয়ানমার সিমান্তে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯ মাত্রা।

ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রাজধানী

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যে চারটি ফল্ট রয়েছে এসব ফল্টে অতীতে যে ভূমিকম্পগুলো হয়েছে তা ৭ মাত্রার বেশি ছিল। ডাউকি ফল্টে ১৮৯৭ সালে ৮. ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। মধুপুর ফল্টে ১৮৮৫ সালে ভূমিকম্প হয়েছিল ৭ মাত্রার ওপরে। ১৭৬২ সালে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল সীতাকুন্ড-মিয়ানমার ফল্টে।

আসাম-সিলেট ফল্টে ভূমিকম্প হয়েছিল প্রায় ৪শ বছর আগে। অর্থাৎ এসব ফল্টে গড়ে একশ বছর পূর্বে ভূমিকম্প হয়েছিল। এখন বড় ধরণের ভূমিকম্পের জন্য যে পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন তা এসব ফল্টে সঞ্চিত আছে। তবে চারটি ফল্টের মধ্যে মধুপুর ফল্ট এখন খুবই সক্রিয়। আর মধুপুর ফল্ট রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী হওয়ায় এ শহরটি এখন ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে।

তাদের মতে, ঢাকা মহানগরীর ৫৯০ বর্গমাইল এলাকায় মোট ১২ লাখ ৫০ হাজার ভবন রয়েছে। এরমধ্যে প্রধান শহরেই ৩ লাখ ২৬ হাজার ভবন। এর মধ্যে প্রায় ৭২ হাজার ভবনকে ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মাত্র ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ভবনগুলো ধসে যেতে পারে। সেই সঙ্গে ঢাকায় রয়েছে অপরিকল্পিত নগরায়ন। স্বাভাবিকভাবেই যেখানে ঘনবসতি বেশি সেখানে ঝুঁকিও বেশি। অথচ রাজধানীবাসীদের মধ্যে ভূমিকম্পের সচেতনতা নেই বললেই চলে।

এছাড়া এ ব্যাপারে সরকারের প্রস্তুতিও তেমন চোখে পড়ার মতো নয়। তাই এখনই যথার্থ পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে রাজধানীবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত ১৫০ বছরে বাংলাদেশে ৭টি বড় আকারের ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে দুটির কেন্দ্র ছিল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। এর মধ্যে ১৯১৮ সালের ৮ জুলাই ৭ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প হয়, যার কেন্দ্রস্থল ছিল সিলেটের শ্রীমঙ্গলে। আর ১৮৮৫ সালের ১৪ জুলাই একই মাত্রার ভূমিকম্পটি হয়, যার কেন্দ্রস্থল ছিল মানিকগঞ্জে। আরো কয়েকটি ভূমিকম্প বাংলাদেশের কেন্দ্র না হলেও রেখে গেছে ধ্বংসের স্বাক্ষর।

যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, ১৮৯৭ সালের ১২ জুন ৮ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প, যার কেন্দ্রস্থল ছিল ভারতের শিলং শহরে।

তবে সেসময় বহুতল ভবন না থাকায় তেমন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে ওই সময় বহুতল ভবন না থাকলেও এখন রাজধানীসহ সারাদেশে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে হাজারো ঝুঁকিপূর্ণ ভবন।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আকতার জানান, বাংলাদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পের জন্য ভূতাত্ত্বিক পরিবেশ বিদ্যমান রয়েছে। এর মধ্যে বিশ্বের ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ঢাকা। সেই সঙ্গে ঢাকায় অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে এখানে বড় ধরনের ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

ভূমিকম্পের ক্ষয় ক্ষতি মোকাবেলা প্রসঙ্গে অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আকতার বলেন, “সরকারকে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোকে রেট্রোফিটিং করার পাশাপাশি হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিসসহ সরকারি জরুরি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভূমিকম্পের পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যাপক প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির ব্যবস্থা করতে হবে। আর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে জনসচেতনা বৃদ্ধিতে। আর এটা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে সব শ্রেণি-পেশার মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে।”

তিনি আরো বলেন, “আশঙ্কা করা হচ্ছে, ঢাকা শহরে রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ৩০ ভাগ ভবন ভেঙে পড়তে পারে এবং মারা যেতে পারে প্রায় ৩ লাখ মানুষ। রাতের বেলায় ভূমিকম্প হলে মৃত্যুর সংখ্যা আরো বাড়বে। এ সত্যকে মাথায় রেখেই আমাদের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি যাতে কম হয় সে ব্যাপারে সচেতন হওয়া এবং বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”

content aggregation:healthPrior21

source:sangbad24

http://www.sangbad24.net/?p=45195

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: Best Diet Tips Ever
Previous Health News: 'Drug holidays' beat cancer

More in News

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... See details

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... See details

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... See details

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... See details

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... See details

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')