home top banner

News

তাঁদের দিন কাটছে দুঃসহ যন্ত্রণায়
15 May,13
 Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   134

 কারো হাত নেই, কারো নেই পা। কারো হাত-পা থাকলেও শরীর অসাড়। কারো কিডনি বিকল। আবার কেউ মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ কিংবা ফুসফুসে 

 
মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় বাঁচা-মরার দোলাচলে। কারো চোখ গেছে; আবার কেউ বা হারিয়েছেন শ্রবণ শক্তি। কেউ কেউ একসঙ্গে নানা জটিল 
 
সমস্যায় ভুগছেন। সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় গতকাল সোমবার পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩১৮ জনের বেশির ভাগের অবস্থাই 
 
এ রকম। ঘটনার ভয়াবহতা, ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকার দুঃসহ স্মৃতি এবং
আগামীর অনিশ্চয়তা নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় বিদীর্ণ হচ্ছেন তাঁরা। ভুক্তভোগী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্রই পাওয়া 
 
গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের তথ্য অনুসারে জীবিত উদ্ধার করা দুই হাজার ৪৩৯ জনের মধ্যে এক হাজার ৮৮৫ জন প্রাথমিক চিকিৎসা 
 
নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ৮২৯ জনের অবস্থা গুরুতর থাকায় তাঁদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁদের মধ্যে মারা যান ১২ জন। আর ৪৯৯ 
 
জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার শিফায়েত উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, চিকিৎসাধীন অনেকেরই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন 
 
হবে। অনেকেই স্থায়ীভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে পড়বেন। কারো কারো অবস্থা এখনো শঙ্কাজনক। সরকারের তরফ থেকে তাঁদের সবার চিকিৎসার সর্বোচ্চ 
 
ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
চিকিৎসাধীন ৩১৮ জন : বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. মোরশেদা বেগম গতকাল সোমবার কালের কণ্ঠকে জানান, ২৪ এপ্রিল 
 
ভবন ধসের ঘটনায় হাতপাতালে ভর্তি করা ৮২৯ জনের মধ্যে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৪৯৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বাকি ৩১৮ জন 
 
এখনো চিকিৎসাধীন। তাঁদের মধ্যে ১১৫ জন জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর/পঙ্গু হাসপাতাল), ৬২ জন সাভারের 
 
এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, ২৬ জন সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ২৫ জন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, ২৫ জন সাভার 
 
সিএমএইচে, ২৪ জন সাভার সিআরপিতে, ১৪ জন ঢাকার এপোলো হাসপাতালে, আটজন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, পাঁচজন 
 
সীমা জেনারেল হাসপাতালে, তিনজন জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে, দুজন জাতীয় বক্ষ্যব্যাধি হাসপাতালে এবং দুজন সাভারের রোজিনা 
 
ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন।
হাত-পা হারানো ৩৩ জন : নিজের পায়ে ভর দিয়ে আর কখনো দাঁড়াতে পারবেন কি না জানেন না পাখি আক্তার। তাঁর দুটি পা-ই কাটা 
 
পড়েছে। লাভলী বেগমের কাটা পড়েছে এক পা। শাপলা ও রোজিনার কাটা গেছে একটি করে হাত। গত ২৪ এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজা ধসে পড়ার 
 
পর ধংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছিলেন তাঁরা। উদ্ধারকর্মীদের সহায়তায় জীবন বাঁচাতে পারলেও তাঁদের মতো ৩৩ জনের হাত কিংবা পা কেটে ফেলতে 
 
হয়েছে। কারো কারো এক হাত ও এক পা কেটে ফেলতে হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জনের হাত-পা উদ্ধার করার সময়ই কেটে ফেলতে হয়েছে। 
 
চিকিৎসকদের মতে, চিকিৎসাধীন আরো কয়েকজনের অঙ্গহানির প্রয়োজন হতে পারে জীবনরক্ষার স্বার্থে।
বাঁ হাত হারানো শাপলা রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বলেন, 'বেঁচে আছি, অনেক ভালো চিকিৎসা চলছে। এর পরও কী যে যন্ত্রণা, 
 
তা কাউ রে কী বোঝানো যায়!'
নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের ডা. মোরশেদা বলেন, '৩৩ জনের হাত-পা কেটে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের বাঁচানো সম্ভব ছিল না বলে আমাদের জানানো 
 
হয়েছে।'
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, যাদের হাত-পা কেটে ফেলতে হয়েছে তাদের প্রত্যেকের জন্য কৃত্রিম হাত-পা সংযোজনের পদক্ষেপ নেওয়া 
 
হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। সরকারের পাশাপাশি কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাও এগিয়ে এসেছে, যা খুবই ইতিবাচক। দীর্ঘমেয়াদে যাদের 
 
চিকিৎসার প্রয়োজন হবে তাদের জন্যও অনেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালেও আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা চলছে শুরু থেকেই। সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে 
 
সবচেয়ে বেশি রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাদের অনেককেই রেফার করা হয় অন্য হাসপাতালে।
এনাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক রওশন আক্তার চৌধুরী গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, 'রানা প্লাজার ঘটনায় আমাদের এখানে 
 
এখন ৬২ জন চিকিৎসাধীন, যাদের মধ্যে আটজনের হাত বা পা কেটে ফেলতে হয়েছে। ছয়-সাতজন আছে, যাদের মেরুদণ্ডে আঘাতের ফলে দেহ 
 
অসাড় হয়ে পড়েছে। অনেকেরই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হবে।'
অসাড় দেহে ৫০ জন : সিআরপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়। ওই প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ ডা. 
 
মো. আশরাফুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমরা ঘুরে দেখেছি প্রায় ২০০ জন আহত শ্রমিকের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। অন্তত 
 
৫০ জন আছে, যাদের মেরুদণ্ডে আঘাত লাগায় পুরো শরীর বা দেহের বড় একটি অংশ অসাড় হয়ে গেছে। সিআরপিতেই এমন আটজন রোগী 
 
রয়েছে।
বাংলাদেশ অর্থপেডিক সোসাইটির সভাপতি এবং নিটোলের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবদুল আওয়াল রিজভী কালের কণ্ঠকে বলেন, মেরুদণ্ড ভেঙে 
 
গেলে বা মেরুরজ্জু ক্ষতিগ্রস্ত হলে এ শ্রেণীর রোগীদের চিকিৎসা কয়েক ধাপে দিতে হয়। অনেকে একেবারে ভালো হয়ে যায়, আবার অনেকে কোনো 
 
দিনই ভালো হয় না। এটা নির্ভর করছে কার আঘাতের অবস্থা কোন পর্যায়ে রয়েছে এর ওপর।
কয়েকজন বিশেষজ্ঞ জানান, অনেকেরই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন। যারা চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে তাদের অনেককেই ফলোআপ চিকিৎসা 
 
নিতে হবে। বিশেষ করে যাদের কিডনি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, আহত ব্যক্তিদের কার কোন চিকিৎসা কোথায় বেশি উপযুক্ত এবং কার জরুরি প্রয়োজন, তা বিবেচনায় নিয়ে 
 
বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে অনেককে পাঠানো হয়েছে। এ কাজ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে যাদের কিডনি সমস্যা দেখা দিয়েছে তাদের 
 
ডায়ালিসিসের জন্য যখন যেখানে প্রয়োজন পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
মানসিক আঘাত : কেবল শারীরিক আঘাতই নয়, ঘটনার শিকার বেশিরভাগ রোগী মানসিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। 
 
বাংলাদেশ মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম রাব্বানী কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমাদের টিম বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে 
 
আহত ব্যক্তিদের মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছে। দেখা গেছে, তাদের বেশিরভাগ মারাত্মক মানসিক আঘাত পেয়েছেন। তাদের মধ্যে এর নানা 
 
লক্ষণ পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। আমরা তাদের চিকিৎসার কাজ শুরু করেছি।' তিনি বলেন, কেবল আহতরাই নয়, ওই ঘটনায় বিশাল এক জনগোষ্ঠী 
 
সাইকো ট্রমার শিকার হয়েছে।
 
 
Source: http://www.kalerkantho.com/?
 
view=details&type=gold&data=news&pub_no=1242&cat_id=1&menu_id=13&news_type_id=1&index=1
 
&archiev=yes&arch_date=14-05-2013

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: ডিম্বাশয় ক্যানসারে লক্ষণ জানা জরুরি
Previous Health News: হেরোইন মরফিনের চেয়ে ৮০ গুণ ক্ষতিকর পেইন কিলার!

More in News

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... See details

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... See details

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... See details

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... See details

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... See details

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')