মানবদেহে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জৈবপ্রকৌশলের মাধ্যমে তৈরি ধমনি। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের ডারহামে অবস্থিত ডিউক ইউনিভার্সিটি হসপিটালের বিশেষজ্ঞরা একজন কিডনি রোগীর শরীরে ৫ জুন ওই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন।
এই ধমনিটি তৈরির জন্য রোগীর নিজের শরীর থেকে কোষ সংগ্রহ করা হয়। অ্যামাইনো অ্যাসিড, ভিটামিন ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের মিশ্রণে একটি নলাকার খাঁজের আশপাশে এসব কোষ রাখা হয়, যাতে সেগুলো একটি ধমনির আকৃতি লাভ করতে পারে। এরপর কাঙ্ক্ষিত আকৃতি তৈরি হওয়ার পর তাতে মাংসপেশির কোষ সংযুক্ত করা হয়। তারপর সেই ধমনির ভেতর দিয়ে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান প্রবাহিত করে এটির সামর্থ্য পরীক্ষা করা হয়।
ডিউক ইউনিভার্সিটি ও হামিসাইট নামের একটি প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরা প্রায় ১৫ বছর ধরে জৈবপ্রকৌশলের মাধ্যমে ধমনি তৈরির বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে মানবদেহের কোষের জৈবপ্রকৌশল প্রচেষ্টায় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনে মানবদেহে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তবে ধমনি তৈরিতে রোগীর নিজ শরীরের কোষ ব্যবহার করায় এবার সেই বাধা দূর করা সম্ভব হয়েছে বলেই গবেষকেরা দাবি করছেন। সব মিলিয়ে ধমনিটি তৈরি করতে বেশ কয়েক মাস সময় লেগে যায়।
কিডনি রোগীর শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ নিঃসরণ প্রক্রিয়ার (হেমোডায়ালাইসিস) অংশ হিসেবে অস্ত্রোপচারকালে এই বিশেষ ধমনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। কিডনি ওই নিঃসরণ প্রক্রিয়ায় ব্যর্থ হলেই হেমোডায়ালাইসিস করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় সাধারণত ধমনিকে একটি শিরায় সংযুক্ত করে রক্ত সরবরাহ চালু রাখার চেষ্টা করা হয়। তবে বর্তমান পদ্ধতিতে রক্তনালিকে একটি সংশ্লেষী (সিনথেটিক) নালির সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হয়। এতে রোগীর শরীরে বিভিন্ন সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়ে যায়। তবে জৈবপ্রকৌশলের মাধ্যমে তৈরি ধমনি সংযোজনের ফলে এ সমস্যা এড়ানো যাবে বলে দাবি করেন ডিউক ইউনিভার্সিটির হূদ্যন্ত্র বিশেষজ্ঞ জেফ্রি লসন। তাঁদের আশা, এতে কিডনি রোগের চিকিৎসায় প্রভূত উন্নতি হবে। এ ছাড়া একদিন হয়তো একই প্রক্রিয়ায় একটি কিডনি অথবা চোখই তৈরি করে ফেলা যাবে। টেকনিউজডেইলি।
Source: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-06-13/news/360078

