ঘুমের উপকারিতা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। অন্তত এতদিন ছিল না। তবে আবারও এ নিয়ে নতুন করে বলার মতো একটি বিষয় যোগ হয়েছে। আর তা হলো_ঘুম শব্দজট খুলতে সহায়ক। গবেষকরা জানিয়েছেন, মাত্র ৪০ মিনিটের একটি নিরবচ্ছিন্ন ঘুমও মানুষের মস্তিষ্ককে অনেক বেশি সক্রিয় ও কর্মক্ষম করে তোলে। ফলে ঘুমের পর মানুষ বিচ্ছিন্ন সব তথ্যের মধ্যে সহজেই যোগসূত্র স্থাপন করতে পারে।
সাইকোলজিক্যাল সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইসে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির মনোবিদ অধ্যাপক ড. মার্ক ম্যাকড্যানিয়েল জানিয়েছেন, ঘুম মানুষের মস্তিষ্কের অঞ্চলগুলোর মধ্যে দুর্বল হয়ে পড়া যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সবল করে। এ বিষয়টি এতদিন অজানাই ছিল। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ করে মস্তিষ্কের স্মৃতিভাণ্ডারের দুর্বল অংশই ঘুম থেকে বেশি উপকৃত হয়।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ঘুমের চক্রে একটি ধাপে মানুষ যখন তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়, অর্থাৎ গভীর ঘুমে তলিয়ে যাওয়ার ঠিক আগের অবস্থায় মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়। এ সময় হিপ্পোক্যাম্পাস ও কর্টিক্যাল_মস্তিষ্কের পৃথক এ দুটি অঞ্চলে সবচেয়ে কার্যকরভাবে যোগাযোগ স্থাপিত হয়। হিপ্পোক্যাম্পাস অঞ্চল স্মৃতি গঠন ও কর্টিক্যাল অঞ্চল স্মৃতি সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে।
গবেষক মাইকেল সুলিন জানান, ধারণা করা হচ্ছে, ঘুমের সময় হিপ্পোক্যাম্পাস সদ্য শেখা তথ্যগুলোকে নতুন করে উদ্দীপিত করে স্মৃতিভাণ্ডারের ওপরে নিয়ে আসে এবং মস্তিষ্কের দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি ধারণশীল অংশে স্থাপন করে। এভাবে একটি সুস্থির ঘুম স্মৃতিকে আরো শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখে।

