'রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমান'- হৃদরোগের ঝুঁকির মুখে থাকা ব্যক্তিদের উদ্দেশে চিকিৎসকদের এমন উপদেশ হরহামেশাই শোনা যায়। এই 'কোলেস্টেরল' বলতে আসলে 'মন্দ প্রকৃতির কোলেস্টেরল'কেই (লো-ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন বা এলডিএল) বুঝিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। এর বিপরীতে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে চিকিৎসকরা রোগীদের রক্তে 'উপকারী কোলেস্টেরল' (হাই-ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন বা এইচডিএল) বাড়ানোর উপদেশও দিয়ে থাকেন। কিন্তু এতকাল ধরে চলে আসা চিকিৎসকদের দ্বিতীয় পরামর্শটি এবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
নতুন একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, তথাকথিত 'উপকারী কোলেস্টেরল' (এইচডিএল) নিয়মিত মানুষের হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, এমন বিশ্বাসের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অথচ 'উপকারী কোলেস্টেরল' বাড়ানোর জন্য চিকিৎসকরা প্রাকৃতিক উৎস ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ওষুধ দিয়ে থাকেন। আর পেঁয়াজ, আঁশযুক্ত বিভিন্ন ধরনের সবুজ সবজি ও ফল; জলপাই, সরিষা ও সূর্যমুখী তেল, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড এবং নিয়মিত ব্যায়াম ইত্যাদি এইচডিএলের প্রাকৃতিক উৎস হিসেবে পরিচিত হয়ে আসছে সচেতন মানুষের কাছে।
বিজ্ঞানীরা এইচডিএলের মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর প্রমাণ পাননি, এ কথা বলেই ক্ষান্ত হন। তাঁরা মনে করেন, উপকারী কোলেস্টেরল হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়- প্রচলিত ধারণাটি একটি মিথও (লৌকিক বিশ্বাস) হতে পারে। তাঁরা বলেন, উপকারী কোলেস্টেরল সম্ভবত হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে কোনো ভূমিকাই রাখে না। তবে 'মন্দ কোলেস্টেরল' যে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
গবেষকদলটির প্রধান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হসপিটাল, ব্রড ইনস্টিটিউট ও হার্ভার্ড মেডিসিন স্কুলের বিজ্ঞানী সিকার কেথিরিজান বলেন, "গবেষণার ফলে এটাই পাওয়া গেছে, রক্তে বিভিন্নভাবে 'উপকারী কোলেস্টেরল' বাড়ানোর যে পরামর্শটি দেওয়া হয়ে থাকে, তা সম্ভবত (এলডিএলের কারণে) হৃদযন্ত্রের পেশি ক্ষতিগ্রস্ত করাকে দমাতে পারে না।" তাঁর নেতৃত্বে এ-সংক্রান্ত গবেষণা প্রবন্ধটি বিখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী 'দ্য ল্যানসেট'-এ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। হৃদরোগ সংক্রান্ত অতীতের ২০টি গবেষণা এবং ২১ হাজার হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা পর্যালোচনা করে নতুন গবেষণা পরিচালিত হয় বলে গবেষণা প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র : টাইম অব ইন্ডিয়া অনলাইন ওকালের কণ্ঠ

