বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ জীবনে কখনো রক্তচাপ পরীক্ষা করে দেখেনি, ২১ শতাংশের বেশি মানুষ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হলেও কোনো ওষুধ সেবন করছে না। উচ্চ রক্তচাপ ও রোগটি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সাধারণ মানুষের মতো চিকিৎসকেরাও যথেষ্ট সচেতন নন।
গতকাল শনিবার জাতীয় বাতজ্বর ইনস্টিটিউট ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আলোচকেরা এ মন্তব্য করেন।
হেলথ রাইটার্স ফোরাম ১৭ মে বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস উপলক্ষে ‘উচ্চ রক্তচাপ এবং বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট, ২০১২’ শীর্ষক ওই বৈঠকের আয়োজন করে। চিকিৎসকেরা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ওজন কমানো, চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করা ও কায়িক পরিশ্রম করার পরামর্শ দেন। তাঁরা বলেন, বাংলাদেশে ১৮ ভাগ মানুষের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি, শতকরা ১০ দশমিক ৫ ভাগ পুরুষ এবং ৪১ দশমিক ৩ ভাগ নারী শারীরিক কসরত করে না। শতকরা ৮ ভাগ পুরুষ ও ৩৩ দশমিক ৭ ভাগ নারীর কোমরের বেড় অস্বাভাবিক।
জাতীয় অধ্যাপক আবদুল মালিক বলেন, উচ্চ রক্তচাপ হূদেরাগ, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (স্ট্রোক), কিডনি অকেজো হয়ে যাওয়া ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। দেশের সব হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও জনসমাগমস্থলে রক্তচাপ মাপার ব্যবস্থা থাকা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, একজন মানুষের রক্তচাপ যখন ১৪০ ও ৯০ হবে, তখনই তিনি উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন বলে ধরে নিতে হবে এবং তাঁকে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। জাতীয় হূদেরাগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক আবদুল্লাহ আল সাফী মজুমদার বলেন, উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়ার পরও অনেকে ওষুধ খেতে চায় না।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় বাতজ্বর ইনস্টিটিউট ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. সালাহউদ্দীন আহমেদ, নাট্যব্যক্তিত্ব শহীদুল ইসলাম সাচ্চু, নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ সজল আশফাক প্রমুখ।
Source: The Daily Prothom Alo

