রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে একটি মাদক নিরাময়কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে গত শনিবার দিবাগত রাতে জুয়া খেলার অভিযোগে মাদক ব্যবসায়ীসহ ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
জুয়া খেলার অভিযোগে গতকাল পুলিশের দায়ের করা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হলেও তাঁরা ওই সময় বৈঠক করছিলেন বলে স্থানীয় ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। এদিকে গতকাল রোববার তাঁরা আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, গোদাগাড়ী উপজেলার মহিষালবাড়ি এলাকায় মাদক নিরাময়কেন্দ্র ‘আসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে’ (আনিক) বসে আটক ব্যক্তিরা বৈঠক করছিলেন। একটি মাদক নিরাময়কেন্দ্রে মাদক ব্যবসায়ীদের গোপন বৈঠকের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যক্তিরা।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে গোদাগাড়ী পৌর এলাকার মাদারপুর মহল্লার মাদক ব্যবসায়ী নাজিবুর রহমান (৩০), মহিষালবাড়ি এলাকার আরশাদ আলী (৩৮) ও গড়ের মাঠ এলাকার শের শাহ রয়েছেন। তাঁরা গোদাগাড়ী এলাকার মাদক পাচারকারী সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য। কেন্দ্রের পরিচালক জাহাঙ্গীর আলমের নামেও মাদক পাচারের মামলা রয়েছে। কয়েক বছর আগে টাঙ্গাইলে হেরোইনসহ আটক এক ব্যক্তি পুলিশের কাছে জাহাঙ্গীরের নামে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। ওই মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়।
পুলিশ জানায়, শনিবার দিবাগত রাত একটার দিকে অভিযান চালিয়ে ৫৩ হাজার ৯৭৩ টাকা জব্দ করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সকাল থেকে প্রায় অর্ধশত মাদক ব্যবসায়ী তাঁদের ছাড়িয়ে আনতে গোদাগাড়ী থানায় ভিড় করেন। বেলা তিনটার দিকে আদালতে পাঠানোর আগ পর্যন্ত তাঁরা থানায় ছিলেন।
গোদাগাড়ী থানার ওসি আবু মোকাদ্দেম আলী বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী রয়েছেন। তাঁরা ইতিপূর্বে ওই কেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন। রাতে তাঁরা একসঙ্গে বসে জুয়া খেলছিলেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুমন রায় বলেন, গতকাল দুপুরে রাজশাহীর অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক ইমদাদুল হক তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেছেন।
সূত্র - প্রথম আলো

