দিল্লির চার ধর্ষকের ফাঁসির আদেশ
13 September,13
Posted By: Healthprior21
Viewed#: 19
আগেই তাদের দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন আদালত। সবাই অপেক্ষায় ছিলেন, কী সাজা হয়! আজ শুক্রবার দিল্লির আদালত জানিয়ে দিলেন, নির্ভয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় অভিযুক্ত চারজনের ফাঁসি হবে।
আজ শুক্রবার দিল্লির দ্রুতবিচার আদালতে ওই রায় দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলো অক্ষয় ঠাকুর, পবন গুপ্ত, বিনয় শর্মা ও মুকেশ সিং। গত বুধবার আদালতে বলা হয়, আসামিরা ঠান্ডা মাথায় গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছিল।
গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর দিল্লিতে চলন্ত বাসে ২৩ বছর বয়সী মেডিকেলের ওই ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হন। ২৯ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সাহসের পরিচয় দেওয়ায় ভারতের গণমাধ্যম ওই ছাত্রীকে ‘নির্ভয়া’ নামে অভিহিত করে।
এ মর্মান্তিক ঘটনার পর দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষ। জনরোষের মুখে ঘটনার কয়েক দিন পর বাসের চালকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। চলতি বছরের ১১ মার্চ তিহার জেলে থাকা অবস্থায় প্রধান আসামি বাসচালক রাম সিং মারা যান। তিনি আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করা হয়। এ ঘটনার আরেক আসামি কিশোর হওয়ায় তাকে তিন বছরের জন্য অপরাধ সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। আজ অভিযুক্ত বাকি চারজনকে ফাঁসির আদেশ দিলেন আদালত।
রায়ে সন্তুষ্ট নির্ভয়ার মা-বাবা
নির্ভয়াকে গণধর্ষণ ও তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত চারজনের ফাঁসির আদেশে সন্তুষ্ট তাঁর মা, বাবা। রায়ের পরপরই ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, রায়ে তিনি সন্তুষ্ট। আদালত চত্বরে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা সন্তুষ্ট। ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে।’ এ সময় নির্ভয়ার মা ও ভাইয়েরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
এর আগে রায় ঘোষণার সময় আদালতকক্ষে ছিলেন ওই ছাত্রীর মা-বাবা। রায়ে বিচারক বলেন, ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ ছিল ব্যতিক্রমের মধ্যেও ব্যতিক্রম। ওই অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডই প্রাপ্য।
এদিকে রায়ের আগে মেডিকেল ছাত্রীর মা বলেছিলেন, ‘ওই অপরাধের পরও তাঁদের (দোষী) কোনো অনুশোচনা ছিল না। তাই তাঁদের অবশ্যই ফাঁসিতে ঝুলাতে হবে।’ তিনি একই সঙ্গে দোষীদের আগুনে পুড়িয়ে মারারও পক্ষে ছিলেন। খবর এনডিটিভির।
এই সাজার পরও নারীরা নিরাপদ নয়?
রায়ে কতটা সন্তুষ্ট দিল্লির নারীরা? তাঁরা কী এখন কিছুটা নিরাপদ বোধ করছেন? দিল্লির কয়েকজন নারীর সাক্ষাত্কারের ওপর ভিত্তি করে আল জাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনই কিছু প্রশ্নের জবাব উঠে এসেছে।
বিন্নি বাবর (২১), ভ্রমণবিষয়ক লেখক
আমি এখনো নিরাপদ বোধ করছি না। ঘটনাটি ঘটেছে গত বছরের ডিসেম্বরে। আর রায় পেলাম আজ। এ রায়ের ফলে কিছুই বদলাবে না। ওই ঘটনার পর অনেক আন্দোলন হয়েছে। তবু ধর্ষণের ঘটনা থেমে থাকেনি। আমি এখনো ঘর থেকে বের হতে ভয় পাই। সন্ধ্যা সাতটার পর বাইরে থাকতে অনিরাপদ বোধ করি। যত দিন আমাদের আইনি কাঠামো ও মানসিকতার পরিবর্তন না ঘটবে, তত দিন পর্যন্ত নারীরা নিরাপদ নয়।
আকাঙ্ক্ষা ভারস্নেয়া (২৪), স্নাতকোত্তর বিভাগের শিক্ষার্থী
একটি রায়ে কিছুই হবে না। এ দেশের পুরুষদের মানসিকতার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত কোনো পরিবর্তনই সম্ভব নয়।
তিশি পাণ্ডে (২৩), শিক্ষার্থী
আমি বাসে যাতায়াত করি। সারাক্ষণই আতঙ্কে থাকি। ওই ঘটনার পর ভুলেও বেসরকারি বাসে উঠি না। সব সময় সরকারি বাসে চলাফেরা করার চেষ্টা করি। তবে সন্ধ্যার পর আর বাসে চড়ি না।
মাধবী বেহেল (২৩), শিক্ষার্থী
আমরা তো আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপরই ভরসা করতে পারি না। অন্য কারও ওপর আর কীভাবে ভরসা করব!
একবার আমার ও আমার এক বন্ধুর সঙ্গে দুর্বৃত্তরা খারাপ আচরণ করার পর আমি যখন পুলিশকে জানাই, তখন তারা ভীষণ নির্বিকার আচরণ করেছে।
যা-ই ঘটুক না কেন, আমাদের দেশের মানুষের মানসিকতাটাই এমন যে, সব দোষ নারীটার।
তানিয়া অরোরা, শিক্ষার্থী
যে দেশে নারীর ছোট পোশাক পরাকে সব সমস্যার মূল হিসেবে মনে করা হয়, সে দেশে নারী নিরাপদ বোধ করবে কীভাবে?
আগেই তাদের দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন আদালত। সবাই অপেক্ষায় ছিলেন, কী সাজা হয়! আজ শুক্রবার দিল্লির আদালত জানিয়ে দিলেন, নির্ভয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় অভিযুক্ত চারজনের ফাঁসি হবে।
আজ শুক্রবার দিল্লির দ্রুতবিচার আদালতে ওই রায় দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলো অক্ষয় ঠাকুর, পবন গুপ্ত, বিনয় শর্মা ও মুকেশ সিং। গত বুধবার আদালতে বলা হয়, আসামিরা ঠান্ডা মাথায় গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছিল।
গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর দিল্লিতে চলন্ত বাসে ২৩ বছর বয়সী মেডিকেলের ওই ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হন। ২৯ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সাহসের পরিচয় দেওয়ায় ভারতের গণমাধ্যম ওই ছাত্রীকে ‘নির্ভয়া’ নামে অভিহিত করে।
এ মর্মান্তিক ঘটনার পর দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষ। জনরোষের মুখে ঘটনার কয়েক দিন পর বাসের চালকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। চলতি বছরের ১১ মার্চ তিহার জেলে থাকা অবস্থায় প্রধান আসামি বাসচালক রাম সিং মারা যান। তিনি আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করা হয়। এ ঘটনার আরেক আসামি কিশোর হওয়ায় তাকে তিন বছরের জন্য অপরাধ সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। আজ অভিযুক্ত বাকি চারজনকে ফাঁসির আদেশ দিলেন আদালত।
রায়ে সন্তুষ্ট নির্ভয়ার মা-বাবা
নির্ভয়াকে গণধর্ষণ ও তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত চারজনের ফাঁসির আদেশে সন্তুষ্ট তাঁর মা, বাবা। রায়ের পরপরই ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, রায়ে তিনি সন্তুষ্ট। আদালত চত্বরে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা সন্তুষ্ট। ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে।’ এ সময় নির্ভয়ার মা ও ভাইয়েরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
এর আগে রায় ঘোষণার সময় আদালতকক্ষে ছিলেন ওই ছাত্রীর মা-বাবা। রায়ে বিচারক বলেন, ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ ছিল ব্যতিক্রমের মধ্যেও ব্যতিক্রম। ওই অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডই প্রাপ্য।
এদিকে রায়ের আগে মেডিকেল ছাত্রীর মা বলেছিলেন, ‘ওই অপরাধের পরও তাঁদের (দোষী) কোনো অনুশোচনা ছিল না। তাই তাঁদের অবশ্যই ফাঁসিতে ঝুলাতে হবে।’ তিনি একই সঙ্গে দোষীদের আগুনে পুড়িয়ে মারারও পক্ষে ছিলেন। খবর এনডিটিভির।
এই সাজার পরও নারীরা নিরাপদ নয়?
রায়ে কতটা সন্তুষ্ট দিল্লির নারীরা? তাঁরা কী এখন কিছুটা নিরাপদ বোধ করছেন? দিল্লির কয়েকজন নারীর সাক্ষাত্কারের ওপর ভিত্তি করে আল জাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনই কিছু প্রশ্নের জবাব উঠে এসেছে।
বিন্নি বাবর (২১), ভ্রমণবিষয়ক লেখক
আমি এখনো নিরাপদ বোধ করছি না। ঘটনাটি ঘটেছে গত বছরের ডিসেম্বরে। আর রায় পেলাম আজ। এ রায়ের ফলে কিছুই বদলাবে না। ওই ঘটনার পর অনেক আন্দোলন হয়েছে। তবু ধর্ষণের ঘটনা থেমে থাকেনি। আমি এখনো ঘর থেকে বের হতে ভয় পাই। সন্ধ্যা সাতটার পর বাইরে থাকতে অনিরাপদ বোধ করি। যত দিন আমাদের আইনি কাঠামো ও মানসিকতার পরিবর্তন না ঘটবে, তত দিন পর্যন্ত নারীরা নিরাপদ নয়।
আকাঙ্ক্ষা ভারস্নেয়া (২৪), স্নাতকোত্তর বিভাগের শিক্ষার্থী
একটি রায়ে কিছুই হবে না। এ দেশের পুরুষদের মানসিকতার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত কোনো পরিবর্তনই সম্ভব নয়।
তিশি পাণ্ডে (২৩), শিক্ষার্থী
আমি বাসে যাতায়াত করি। সারাক্ষণই আতঙ্কে থাকি। ওই ঘটনার পর ভুলেও বেসরকারি বাসে উঠি না। সব সময় সরকারি বাসে চলাফেরা করার চেষ্টা করি। তবে সন্ধ্যার পর আর বাসে চড়ি না।
মাধবী বেহেল (২৩), শিক্ষার্থী
আমরা তো আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপরই ভরসা করতে পারি না। অন্য কারও ওপর আর কীভাবে ভরসা করব!
একবার আমার ও আমার এক বন্ধুর সঙ্গে দুর্বৃত্তরা খারাপ আচরণ করার পর আমি যখন পুলিশকে জানাই, তখন তারা ভীষণ নির্বিকার আচরণ করেছে।
যা-ই ঘটুক না কেন, আমাদের দেশের মানুষের মানসিকতাটাই এমন যে, সব দোষ নারীটার।
তানিয়া অরোরা, শিক্ষার্থী
যে দেশে নারীর ছোট পোশাক পরাকে সব সমস্যার মূল হিসেবে মনে করা হয়, সে দেশে নারী নিরাপদ বোধ করবে কীভাবে?
সূত্র - প্রথম আলো