home top banner

News

নিরামিষ ছেড়ে কাটলো বন্ধ্যাত্ব
12 September,13
 Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   26

যিনি সন্তান জন্ম দিতে পারেন না, তার যে কী কষ্ট একমাত্র সেই নারীকে ছাড়া তা আর কে বুঝতে পারে? কিন্তু একটি সন্তানের মুখ দেখতে সেই নারী দুনিয়ায় হেন কোনো চেষ্টা-তদবির নেই, যা করেন না।
যুক্তরাজ্যের এমনই একজন লরা ডিক্সন। দীর্ঘদিনের নিরামিষভোজী। ৩৪ বছরের এই নারীকে চিকিৎসক বলে দিলেন আর কখনো তার সন্তান হবে না। তবে নিরামিষ খাবার ছেড়ে রীতিমতো আমিষভোজী হওয়ার পর আশ্চর্যজনকভাবে তার গর্ভসঞ্চার হয়ে ওঠে।
চিকিৎসক না করে দিলেও ডিক্সন দমে গেলেন না। অনেক ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতির আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। সর্বশেষ তিনি ইনফার্টিলিটি বা বন্ধ্যাত্ব থেকে মুক্তির আইভিএফ (in vitro fertilization) চিকিৎসা পদ্ধতির শরণাপন্ন হলেন। ধারণা করা হয়, এটিই এখন পর্যন্ত প্রজনন অক্ষমতা কাটিয়ে সন্তান জন্মদানের সর্বাধুনিক উপায়।
উল্লেখ্য, শরীরের বাইরে পুরুষের বীর্যের মিশ্রণে নারীর ডিম্বাণু উর্বর করে তোলার কিংবা বন্ধ্যাত্ব কাটিয়ে ওঠার একটি প্রক্রিয়াকে in vitro fertilization (আইভিএফ) বলা হয়।
আইভিএফ ইনফার্টিলিটির প্রধান চিকিৎসা। যখন সন্তান উৎপাদনের অন্যান্য চিকিৎসা প্রযুক্তিগুলো ব্যর্থ হয়ে যায় তখন জন্মদানে অক্ষম নারীকে সক্ষম করে তুলতে এই প্রক্রিয়াকেই চিকিৎসার শেষ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
 
আইভিএফের মাধ্যমে মূলত নারীর ডিম্বাণুর প্রক্রিয়াকে পর্যবেক্ষণ করা হয়। যেটি করা হয় বিশেষ কোনো গবেষণাগারে। একইসঙ্গে সেখানে কোনো টিউব বা কোনো একটি তরল মাধ্যমে নারীর ডিম্বাণু এবং পুরুষের বীর্যকে উর্বর বা সক্রিয় করে তোলার চেষ্টা করা হয়।
যখন এই উর্বরায়নের জন্য বাছাই করা প্রাকৃতিক ডিম্ব সংগ্রহ করে একজন নারীকে একটা সময় পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে রাখা হয় তখন সেটাকে বলা হয় আইভিএফের একটি সার্কেল।
এই প্রক্রিয়ায় সন্তান জন্মদানের জন্য মোট ৩টি সার্কেল অনুসরণ করতে হয় একজন নারীকে। এর আগে ডিক্সন ১০ বছর ধরে গর্ভবতী হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ব্যর্থ হয়ে তিনি আইভিএফ পদ্ধতি গ্রহণ করেন। এ পদ্ধতিতে তিনটি সার্কেল শেষ করতে হয়। একটি সার্কেল শেষ করতে প্রায় দুই মাস সময় লেগে যায়। এভাবে তিনি সবকটি সার্কেলই শেষ করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে নিরাশই হতে হয়।
তবে শেষ সার্কেলে এসে ডিক্সন আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন। কারণ তার গর্ভ সন্তান জন্মদানের উপযোগী হয়ে ওঠে। কিন্তু গর্ভবতী হয়েও শেষপর্যন্ত সন্তান জন্ম দিতে পারেননি। গর্ভ নষ্ট হয়ে যায়।
শেষে তিনি সরে এলেন এ পদ্ধতি থেকে। সিদ্ধান্ত নিলেন, নিরামিষ খাবার ছেড়ে দেবেন। প্রতিদিনের খাবারের রুটিনে বাড়িয়ে দেবেন প্রোটিনের মাত্রা।  
ডিক্সন স্বাভাবিকভাবেই স্লিম প্রকৃতির ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিরামিষভোজী। পরে ডিক্সন নিরামিষ খাবার ছাড়ার পর চিকেন, বেকন, আর বার্গারে তার ওজন বেশ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। প্রতিদিন তিন মাত্রায় তার খাবারের মেনু তৈরি হয়। ব্রিটেনের মার্কস এবং স্পেনসারের বিখ্যাত অর্গানিক চিকেন এবং সালাদের স্যান্ডউইচ তার প্রতিদিনের খাবার। তার সাথে ছিল ম্যাকডোল্ডের নাস্তা। আর ছিল ম্যাকমাফিনের ডিম। এভাবে তিনি ৩৫ সপ্তাহ খেয়ে চললেন। তাতে উচ্চ মাত্রার প্রোটিন লাভ করতে সক্ষম হন ডিক্সন। ৩৫ সপ্তাহেই ডিক্সন গর্ভবতী হয়ে উঠেন।
 
গর্ভবতী হওয়ার পর এক পর্যায়ে ডিক্সন পরীক্ষা করে জানলেন তিনি ৩ সন্তানের জন্ম দিতে যাচ্ছেন। এরপর ডিক্সন সন্তান জন্ম না দেওয়া পর্যন্ত নিরামিষ খাবার পুরোপুরি ত্যাগ করেন।
ডিক্সন বলেন, “একবার গর্ভ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় একটি সন্তান হারাই। এরপর মনে হলো, তিনটি সন্তান তো আমি কখনোই গর্ভে ধারণ করতে পারবই না। কিন্তু এরপর আমার ক্ষুধার আঘাত আর কখনো গোশত খাব না এ অবস্থা থেকে সরে আসলাম। তখন দিনে কমপক্ষে ছয় বার খেতাম।”
চিকিৎসকরা জানান, ডিক্সনের খাবারে প্রোটিনের পর্যাপ্ত মাত্রাই তার সফল গর্ভধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করে। তার সঙ্গে যুক্ত ছিল ডিক্সনের বিপুল পরিমাণ খাবারের রুচি ও আগ্রহ।
দি লন্ডন নিউট্রিশনিস্ট-এর পরিচালক বিশিষ্ট পুষ্টিবিজ্ঞানী জো ট্র্যাভারস জানান, “প্রচুর প্রমাণ আছে, উদাহরণ আছে যে, নারীদের স্বাদের অভিজ্ঞতা গর্ভধারণের মধ্য দিয়ে পরিবর্তন হয়ে যায়। নারীরা যখন তিন মাসের একটি পিরিয়ডের মধ্য দিয়ে যায় তখন তাদের পছন্দ ও অবস্থাও পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে।”
দুই পুত্র সন্তান ম্যাসন, ম্যাক্স আর একমাত্র মেয়ে মিয়া তার সব দুঃখ, হতাশা দূর করে দিয়ে ঘর আলো করে দিলো।
 
সূত্র -poriborton.com

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: শৈশবে শোনা গানের প্রভাব থাকে আজীবন
Previous Health News: ধূমপান থেকে মুক্তি দেবে টীকা

More in News

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... See details

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... See details

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... See details

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... See details

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... See details

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')