home top banner

News

আত্মীয় শনাক্ত করার জটিলতা দূর হচ্ছে না
06 September,13
 Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   17

 অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, বিশেষ করে কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নিকটাত্মীয় শনাক্ত করার জটিলতা শিগগিরই দূর হচ্ছে না। কারণ, এ-সংক্রান্ত আইন সংশোধনের কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি।

মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন, ১৯৯৯ গত বছর সংশোধনের পরামর্শ দিয়েছিল আইন মন্ত্রণালয়। বিশেষজ্ঞদের তৈরি করা বিধিমালা আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় এটি সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দেয়। তবে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। অথচ আইনটি সংশোধন করা হলে মরণোত্তর কিডনি দানের পথে বাধাও দূর হতো।

জাতীয় কিডনি রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক এ কে এম জামানুল ইসলাম ভূইয়া প্রথম আলোকে বলেন, আইনে স্পষ্ট না থাকায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দাতা ও গ্রহীতার সম্পর্ক নির্ধারণে জটিলতায় পড়তে হয় চিকিৎসকদের। ২০১১ সালে এ নিয়ে লেখালেখির পর থেকে চিকিৎসকেরা আতঙ্কে আছেন।

দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১১ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে রাজধানীর বেশ কয়েকটি হাসপাতালে অবৈধ কিডনি ও যকৃৎ সংযোজনের সংবাদ ছাপা হয়। তাতে কিডনি বিক্রির সঙ্গে জড়িত চিকিৎসক ও দালালদের নাম প্রকাশ পায়। জয়পুরহাট জেলার কালাই এলাকার অনেক মানুষের কিডনি বিক্রির খবর দেশে-বিদেশে ব্যাপক সাড়া ফেলে। নিকটাত্মীয়ের মিথ্যা পরিচয় দিয়ে কিডনি কেনাবেচা হয়েছিল।

তখন চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, বিদ্যমান আইনে নিকটাত্মীয় শনাক্ত করার ব্যবস্থা না থাকায় অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালের ২ অক্টোবর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন-১৯৯৯-এর বিধিমালা তৈরির জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে। কিডনি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক হারুন অর রশিদকে কমিটির প্রধান করা হয়। কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে বিধিমালা দাখিল করতে বলা হয়। কমিটি বিধিমালা চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ে জমা দেয় ২৫ অক্টোবর।

যোগাযোগ করা হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট যুগ্ম সচিব মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, মন্ত্রণালয়ে নতুন আসায় তিনি কিছু জানেন না। তবে তাঁর কার্যালয় সূত্র জানায়, বিধিমালার চূড়ান্ত খসড়া ২০১২ সালের ৩ জুলাই আইন মন্ত্রণালয়ে মতামতের জন্য পাঠানো হয়। এক মাস পর ৪ জুলাই আইন মন্ত্রণালয় নথিতে মতামত দিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠায়। তাতে বলা হয়েছে, খসড়া বিধিমালায় কিছু ‘মৌলিক প্রকৃতির’ বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে, যা মূল আইনে নেই। এগুলো আইনে অন্তর্ভুক্ত করে আইন সংশোধন এবং সেই সংশোধিত আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিধিমালা করতে হবে।

মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন-১৯৯৯ এ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে বলা আছে, নিকটাত্মীয় (ছেলে, মেয়ে, বাবা, মা, ভাই, বোন, রক্তের সম্পর্কের চাচা, ফুফু, মামা, খালা এবং স্বামী-স্ত্রী) স্বেচ্ছায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করতে পারবেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, নিকটাত্মীয় শনাক্ত করার পদ্ধতি আইনে নেই।

কমিটির পক্ষ থেকে আত্মীয়তার যথার্থতা প্রমাণের জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যান/কমিশনার (ইউনিয়ন পরিষদ/উপজেলা পরিষদ/পৌরসভা) কর্তৃক ছবিসহ প্রত্যয়নপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র/পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন সনদ এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক হলফনামার কথা বলা হয়। স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে বিয়ের কাবিননামা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক সত্যায়িত হতে হবে। অঙ্গ প্রতিস্থাপন হয় এমন প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একটি কমিটি এবং জাতীয় পর্যায়ে একটি কমিটি গঠনের কথাও কমিটি বলেছিল।

কমিটির একাধিক সদস্য বলেছেন, প্রতিস্থাপনের জন্য নিকটাত্মীয় থেকে কিডনি পাওয়া এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। এ জন্য মরণোত্তর কিডনি দানের বিষয়টি আইনের আওতায় আনা উচিত। দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তি বা আইসিইউতে থাকা মুমূর্ষু রোগীর কিডনি নেওয়ার আইনি ব্যবস্থা বিভিন্ন দেশে চালু আছে। এ দেশেও চালু হলে কিডনির সংকট কিছুটা হলেও দূর হতো। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের নিষ্ক্রিয়তায় তাঁরা হতাশ।

কমিটির সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের প্রধান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম প্রথমআলোকে বলেন, ‘আমরা বিধিমালা তৈরি করে দিয়েছি। এরপর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের আর কিছু জানানো হয়নি।’

বিশিষ্ট কিডনি রোগ চিকিৎসক এবং বিধিমালা প্রণয়ন কমিটির সভাপতি হারুন অর রশিদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘মন্ত্রণালয় আমাদের কিছুই জানায়নি। মন্ত্রণালয় ডাকলে আমরা আবারও সহায়তা করতে রাজি আছি।’

সূত্র - প্রথম আলো

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: ভারতে বোতলজাত পানির ১০ শতাংশই মানোত্তীর্ণ নয়
Previous Health News: Laser-guided surgery finds brain cancer's boundary

More in News

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... See details

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... See details

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... See details

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... See details

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... See details

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')