দেশের বেশিরভাগ মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত। শত সমস্যা, হয়রানি সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত যেটুকু চিকিৎসা সেবা বহাল আছে তা পাওয়া যায় সরকারি হাসপাতালে। কিন্তু এই সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিভিন্ন চিকিৎসা সেবায় ‘ইউজার ফি’র নামে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে এবং সে টাকা কতিপয় চিকিৎসক কর্মচারীরা নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের নেতারা।
জানা গেছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন অধ্যাপক নির্ধারিত বেতনের পরেও গতবছর ইউজার ফি বাবদ অর্ধকোটিরও বেশি টাকা ভাগে পেয়েছেন। এমনকি নিম্নপদস্থ কর্মচারীরাও এই খাত থেকে কয়েক লক্ষ করে টাকা পেয়ে থাকেন। আশির দশকে স্বৈরাচার সামরিক শাসক এরশাদের সূচনা করা সরকারি হাসপাতালে টিকিট কেটে টাকার বিনিময়ে চিকিৎসা সেবা দেয়ার পদ্ধতি আজও বহাল এবং সেই ধারাবাহিকতায় আজ ‘ইউজার ফি’র নামে লক্ষ লক্ষ টাকা জনগণের পকেট কেটে আদায় করা হচ্ছে। এবং সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ধীরে ধীরে উঠিয়ে নেয়ার পাঁয়তারা চলছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল দরিদ্র, শ্রমজীবী খেটে-খাওয়া মানুষের প্রধান শত্রু বিশ্বব্যাংকের ফর্মুলা অনুযায়ী এটি করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের আজ্ঞাবহ আমাদের সরকার এবং শাসকেরা সরকারি হাসপাতালে নানা ধরনের ফি ধার্য্য করে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা সুবিধা থেকে জনসাধারণকে বঞ্চিত করছে এবং চিকিৎসা সেবা বাণিজ্যিকীকরণ ও বেসরকারিকরণের চক্রান্ত করছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার গেটে সরকারি হাসপাতালে ইউজার ফি গ্রহণের নামে লুটপাট বন্ধের দাবিতে দলটির উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা এসব অভিযোগ করেন।
ঢাকা মহানগর সম্পাদক নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নাননু, সম্পদকমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আবদুস সাত্তার, গণতান্ত্রিক শ্রমিক ফেডারেশনের আহ্বায়ক শামীম ইমাম প্রমুখ।
বক্তারা বলেছেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার স্বেচ্ছাচারী অবস্থাকে পুঁজি করে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্বচ্ছল-অস্বচ্ছল রোগীদের পকেট ফাঁকা করে চলছে প্রতিনিয়ত। নিঃস্ব করছে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত সাধারণ মানুষদের। যেখানে সরকার গার্মেন্টস মালিকদের (কর অবকাশসহ), রিয়েল এস্টেট ব্যাবসায়ীদের, সামরিক বাহিনী, সরকারি আমলাদের নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় দিয়ে থাকে। সেখানে স্বাস্থ্যখাত চরম অবহেলিত যে দেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলের নেত্রী, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী, এমপিরা সরকারি খরচে আমেরিকা, লন্ডন, সিঙ্গাপুরে ব্যয়বহুল চিকিৎসা করান। সেই দেশের সাধারণ শ্রমজীবী জনগণের জন্য ‘ইউজার ফি’ নেয়া হয় কেন?
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সরকারি হাসপাতালে ‘ইউজার ফি’ নেয়া বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।
সূত্র - natunbarta.com

