সাধারণত ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার খুব সহজে ধরা পড়ে না। ফলে এর ক্যান্সার দীর্ঘদিন যাবত শনাক্ত করাই সম্ভব হয় না। এমন এক সময় ধরা পড়ে যখন ক্যান্সার পুরোপুরি পরিপক্ক হয়ে যায়। চিকিৎসার জন্য এ অবস্থা রোগী এবং চিকিৎসক উভয়ের জন্যই মারাত্মক সমস্যা।
তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদেহের ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারকে খুব সহজেই পর্দায় ধরা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা এমন সম্ভাবনার কথা জোর দিয়ে দাবি করছেন।
গবেষকরা জানান, একেবারে প্রাথমিক ধাপে ডিম্বাশয়ের টিউমার শনাক্ত করা অনেক কঠিন। অনেক ক্ষেত্রেই অসম্ভব। তার মানে কার্যকরভাবে এর চিকিৎসা করতে অনেক দেরি হয়ে যায়। ওই দেরি হয়ে যাওয়া সময়টাতেই এ ধরনের ক্যান্সার তখন ধরা পড়ে।
৪ হাজার ৫১ জন নারীকে নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ক্যান্সার সাময়িকীতে। তাতে দেখানো হয়, ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পদ্ধতি শনাক্ত করা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের এই গবেষণাটি মোটামুটি এতটুকু আশা জাগিয়েছে যে, কার্যকরভাবে ডিম্বাশয়কে স্ক্রিনের আওতায় আনা সম্ভব। এটি সফল হলে ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে বিশাল ঘটনা ঘটবে।
তবে পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের গবেষণাই এ গবেষণার ধারাবাহিকতায় নিশ্চিত ফলাফল দিতে সক্ষম হবে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ নিয়ে আরো ব্যাপক গবেষণা জরুরি। যুক্তরাজ্যে এ নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা হচ্ছে। ২০১৫ সালের মধ্যে এ গবেষণা শেষ হবে। গবেষণা শেষে ডিম্বাশয় ক্যান্সারের যাবতীয় পরীক্ষা নিরীক্ষার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো যাবে বলে গবেষকরা আশা প্রকাশ করছেন।
তারা জানান, একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার ধরা পড়লে ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে পুরোপুরি সারিয়ে তোলা সম্ভব। কিন্তু যদি এটি প্রাথমিক ধাপ পার হয়ে বিলম্বে ধরা পড়ে তাহলে শুধু ৩০ ভাগ ক্ষেত্রে এর চিকিৎসা হতে পারে।
এছাড়া পেটে কিংবা তলপেটের ব্যথা, স্থায়ীভাবে ফোলা ও অন্যান্য পীড়ার মত ক্যান্সারের নানান উপসর্গ ও টিউমার হারিয়ে যেতে পারে। যেগুলো ধরার কিংবা শনাক্ত করার মত কোন স্ক্রিন নাই। কিংবা প্রচলিত স্ক্রিনে ধরা পড়ে না।
ওভারিয়ান ক্যান্সার একশন রিসার্চ সেন্টারের গবেষক ড. সারাহ ব্লাগডেন আশা প্রকাশ করে জানান, "যুক্তরাজ্যে চলমান পরীক্ষার সঙ্গে এটি সম্পর্কিত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই গবেষণাটি ক্ষুদ্র গবেষণা হলেও এটি দেখাতে সক্ষম যে, তাতে ডিম্বাশয়কে কার্যকরভাবে স্ক্রিনে ধরা সম্ভব।"
গবেষণাটির সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ডিম্বাশয়কে স্ক্রিনে কার্যকরভাবে পুরাপুরি ধরতে পারলেই এর ভেতরের ক্যান্সার শনাক্ত করা সম্ভব।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ওভারির ক্যান্সারে CA125 নামের রক্তে প্রায়ই প্রোটিন সর্বোচ্চ মাত্রায় থাকে। কিন্তু তারপরও অবিশ্বাস্য ঘটনা হলো এ অবস্থায়ও অনেকে ক্যান্সারের সমস্যাটা বুঝতে পারেনা। তাদের মধ্যে অনেকে এমনও আছেন যারা বেশ সুস্থ্য আছেন বলে দাবিও করেন।
তারা রক্তে প্রোটিনের CA125 মাত্রার ভিত্তিতে রোগীদের অবস্থা তারতম্য করতে এ ধরনের রক্ত পরীক্ষার ধারণা নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করছেন।
এতে করে কম ঝুঁকির রোগীদের বছরে একবার, মধ্যম ঝুঁকির রোগীদের তিন মাস পর একবার পরীক্ষা করা যায়। তবে মারাত্মক ঝুঁকির রোগীদের ক্ষেত্রে টিউমার ধরতে আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান করতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ইউনিভার্সিটির গবেষকরা জানান, গবেষণাটি গড়ে ১১ বছর বয়সের মেনোপোজ উত্তর নারীদের ক্ষেত্রে করা হয়।
আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যানের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে দশজনের ক্যান্সার শনাক্ত করা যায়। গবেষক ড. কারেন লু জানান, যুক্তরাজ্যের ৫০ হাজার মানুষের উপর এ গবেষণা চালানো হচ্ছে, যেটি নিশ্চিত ফল দেবে।
লু গবেষণার দুটি লক্ষ্যের কথা জানালেন। যেটাকে সামনে রেখে গবেষণাটি করা হচ্ছে। লু বলেন, "এখানে দুটি বড় ধরনের প্রশ্ন আছে। প্রথমত, তাতে আমরা কি প্রাথমিক ধাপে ক্যান্সার দেখতে পাব। নাকি আমরা মৃত্যুর সংখ্যাটা কমাতে পারি?"
সূত্র - poriborton.com

