আমি চেলসি ম্যানিং। আমি একজন নারী।’ অকপটে এ কথা বলেছেন সদ্য আদালতের নির্দেশে ৩৫ বছরের কারাদণ্ডাদেশ পাওয়া মার্কিন সেনা ব্রাডলি ম্যানিং।
যুক্তরাষ্ট্রের গোপন কূটনৈতিক তথ্য ফাঁস করার দায়ে তাঁকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। হইচই ফেলে দেওয়া ওয়েবসাইট উইকিলিকস এসব তথ্য প্রকাশ করে দুনিয়াজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিবিসি অনলাইনের খবরে এ কথা জানানো হয়।
এনবিসির টুডে অনুষ্ঠানে পাঠানো এক বিবৃতিতে ম্যানিং বলেন, শৈশব থেকে তিনি নিজেকে নারী ভেবে আসছেন। তিনি হরমোন পরিবর্তনের জন্য থেরাপি শুরু করতে চান। পরিচিত হতে চান চেলসি বলে।
চরবৃত্তিসহ একাধিক অভিযোগে এ সপ্তাহেই ম্যানিংয়ের ৩৫ বছরের সাজা হয়েছে। তাঁর আইনজীবী ডেভিড কুমবস জানিয়েছেন, অন্তত সাত বছর কারাগারে থাকার পর ম্যানিং প্যারোলে মুক্তি পেতে পারেন। ম্যানিংকে ক্ষমা করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সাজার রায় ঘোষণার পর ম্যানিং কেন এমন তথ্য প্রকাশ করলেন—জানতে চাইলে কুমবস বলেন, মামলাটি অতিরঞ্জিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে ম্যানিং তথ্যটি আগে প্রকাশ করতে চাননি। সামরিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার সময় থেকে ম্যানিং তাঁর লিঙ্গ পরিচয় নির্ধারণ নিয়ে সংগ্রাম শুরু করেন।
থেরাপিস্টসহ প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ম্যানিং পুরুষ থেকে নারীতে পরিবর্তিত হওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। এ কারণে তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
ম্যানিংয়ের সাবেক সামরিক তত্ত্বাবধায়ক জানান, ম্যানিং একবার তাঁকে নিজের লম্বা পরচুলা ও ঠোঁটে লিপস্টিক লাগানো ছবি পাঠিয়েছিলেন।
ওকলাহোমা ও ওয়েলসে বড় হওয়া ম্যানিং বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ জোগাতে ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
সামরিক আদালতের তথ্যমতে, তিনি মেয়ে হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন। ম্যানিংকে গোয়েন্দা শাখায় বিশ্লেষক হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ২০০৯ সালে তাঁকে ইরাকে মোতায়েন করা হয়। ইরাক যুদ্ধে যাওয়ার পর তাঁর মোহভঙ্গ হতে শুরু হয় এবং তিনি ক্রমাগত পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
ওই বছরের মে মাসে আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধ-সংক্রান্ত মার্কিন সরকারের শত শত গোপন কূটনৈতিক বার্তা ম্যানিং সাড়াজাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকসে ফাঁস করেন।
সূত্র - প্রথম আলো

