অতিরিক্ত মাদকসেবন ঐশীকে বোধশূন্য করে দিয়েছিল— সেজন্যই সন্তান হয়েও মা-বাবাকে হত্যা করতে তার হাত কাঁপেনি। তবে সন্তান হিসাবে নয় একজন মাদকাসক্ত হিসেবে দৃশ্যত সে তার দুই প্রতিদ্বন্দ্বীকে হত্যা করেছে বলে মন্তব্য মনোবিদদের।
মাদকাসক্ত সন্তানকে ঘরে আটকে না রেখে নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করাটা জরুরি বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সস্ত্রীক পুলিশ কর্মকর্তা খুনের ঘটনা সমাজের জন্য সতর্কবার্তা বলে জানান তারা।
বেসরকারি টেলিভিশন ‘দেশ’র এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।
বাংলা শব্দ সম্ভারে সবচেয়ে প্রিয় সবচেয়ে আপন শব্দ 'মা'। সন্তানের কাছে মা-বাবার অবস্থান বরাবরই অন্য সব সম্পর্কের চেয়ে আলাদা। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় মা-বাবার স্নেহ-আদরেই বেড়ে উঠে বেশিরভাগ শিশু। কিন্তু কখনো কখনো সেই সন্তানই আবার হয়ে যায় বাবা-মায়ের হন্তারক। এমনই এক নজীরবিহীন, মর্মবিদারক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো পুলিশ অফিসার মাহফুজের একমাত্র মেয়ে ঐশী। মাদকাসক্ত ঐশী হত্যা করল প্রিয় বাবা-মাকে।
মনোবিজ্ঞানী আর সমাজ বিজ্ঞানীদের কাছে প্রশ্ন ছিল কতটা বেপরোয়া হলে কিংবা কী পরিমাণ মাদকাসক্ত হলে একজন সন্তান নিজের মা-বাবাকে পর্যন্ত হত্যা করতে পারে?
মনোবিজ্ঞানী ড. মোহিত কামাল বলেন, ‘এই মাদকাসক্তি তরুণি দুজন মানুষকে খুন করেছে, তারা হয়ত তার বাবা মা। কিন্তু বাবা-মা হিসাবে সে খুন করেনি, তারা খুন করেছে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে, আমাকে আটকে রেখেছে,অবরুদ্ধ করে রেখেছে, তার ভেতর ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, এই ক্ষোভকে সামাল দিতে পারেনি, কখন পারে না মাদকের প্রভাবে পারে না। আরো নানা কারণে পারে না।”
সমাজ বিজ্ঞানী মাহবুবা নাসরীন বলেন, ‘একই কোলজ সোসাইটি একই সঙ্গে ওপেন সোসাইটি। সন্তানে সঙ্গে আগে বাবা মায়ের নিবির বন্ধন ছিল পারিবারিক বন্ধন ছিল সমাজের যে একটা বন্ধন ছিল কমিউনিটির সঙ্গে যে বন্ধন ছিল সেই বন্ধনগুলো আস্তে আস্তে শিথিল হয়ে যাচ্ছে।’
পুলিশের কাছে দেয়া ঐশীর বক্তব্য মতে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরাফেরা আর ইয়াবে সেবনের কারণে বাসায় আটকে রাখা হতো তাকে। পরিবারের এই কড়াকড়ি শাসন ঐশীকে ক্ষিপ্ত করে তোলে। সেজন্যই বন্ধুদের সহায়তায় বাবা-মাকে খুন করে ঐশী।
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, মাদকাসক্ত সন্তানকে ঘরে আটকে না রেখে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
মোহিত কামাল আরো বলেন, ‘মাদকাসক্তমানেই একটা ব্রাণ রিলাপস্কিং রোগ। দীর্ঘ মেয়াদী বারবার হয় এমন একটা রোগ। সুতরাং রোগীকে চিকিৎসা করানোটিই গুরুত্বপূর্ণ। আটকে রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটা ভুল।’
এমন ঘটনা সমাজে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরির পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করবে বলে মনে করেন সমাজ বিজ্ঞানীরা।
মাহবুবা নাসরীন বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনাটা সমাজকে নড়া দেয়ার জন্য বড় একটা ঘটনা। আমরা অবশ্যই চাই না এ ধরনের ঘটনা দ্বিতীয়বার হোক। এখন থেকেই অবশ্য আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। সেখানে আমাদের সবার দায়িত্ব আছে। প্রতিটি সমাজ সচেতন মানুষের দায়িত্ব আছে।’
সমস্যা সমাধানে পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করার পাশাপাশি সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়ারও তাগিদ তাদের।
সূত্র -natunbarta.com

