চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে গেলে একজন অভিনেতাকে যে শুধু অভিনয় করতে হয় তা নয়, দর্শক যেন চরিত্রটি অনুভব করতে পারে, সে জন্য তাকে করতে হয় নানা কসরত। অনেক সময় এর প্রভাব পড়ে অভিনেতাদের ব্যক্তিগত জীবনেও। চরিত্রের শরীরের ওজন বাড়ানো বা কমানো, আর শখের মাথার চুল ফেলে দেয়া এখন সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু এমনও ঘটনা আছে, যেখানে চরিত্রের প্রয়োজনে অভিনেতাদের দিতে হয়েছে বিশাল পরীক্ষা। এর সাম্প্রতিক উদাহরণ হলেন অ্যাশটন কুচার।
বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড অ্যাপল-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিভ জবসের জীবনকাহিনী অবলম্বনে জোশানা মিশেল স্টার্নের পরিচালনায় নির্মিতব্য ‘জবস’ চলচ্চিত্রে নামভূমিকায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন অ্যাশটন কুচার। স্টিভ জবসের চরিত্রের সঙ্গে মিশে যাওয়ার জন্য তার সবকিছু অনুসরণ করতে গিয়ে কুচার নিজেকে পরিণত করেছেন একজন ফলভোজী ব্যক্তিতে।
মজার ব্যাপার হলো, জবসের এই ফলের প্রতি ভালোবাসাই নাকি তাকে উৎসাহিত করেছিল নিজের কোম্পানির নাম অ্যাপল রাখতে। আর তাই জবসের শুধু ফল খাওয়ার নীতি নিজের খাদ্যতালিকায় ফলাতে গিয়ে কুচার ফল, সবজি, বাদাম আর নানা রকম বীজ খেয়ে নিজের ওজন কমিয়ে ফেলেছেন প্রায় ২০ পাউন্ড। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তাকে হাসপাতালে কাটাতে হয়েছে কয়েক দিন।
শুধু কুচারই নন, এই তালিকায় পাওয়া যাবে হলিউডের আরও অনেক তারকার নাম।
অস্কারের জন্য মনোনীত হওয়া ‘লা মিজারেবল’-এর পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে অ্যানা হাথওয়ে নিজের খাদ্যতালিকাকে মোটামুটি হৃদয়বিদারক পর্যায়েই নিয়ে গিয়েছিলেন। শুধু ‘ওটমিল পেস্ট’ অর্থাৎ যব ছিল তার খাদ্যতালিকায়, তাও আবার সাদামাটা ভর্তা হিসেবে! একই চলচ্চিত্রের অন্য একটি চরিত্রে অভিনয়ের জন্য হিউজ জ্যাকম্যান অবশ্য অ্যানার তুলনায় কিছুই করেননি, শুধু দাড়িই রেখেছিলেন মাত্র।
স্টিফেন গাগান পরিচালিত রাজনৈতিক থ্রিলার ‘সিরিয়ানা’য় একজন অত্যাচারিত সরকারি কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে জর্জ ক্লুনি খেয়েছেন প্রচুর পাস্তা, বাড়িয়েছেন ৩০ পাউন্ড ওজন; আর চরিত্রের প্রয়োজনে বিলাসের প্রতীক হিসেবে রাখতে পেরেছিলেন খালি দাড়িই।
যৌনকর্মী থেকে খুনিতে পরিণত হওয়া অ্যালিয়েন ওরনার্সের আত্মজীবনী অবলম্বনে ‘মনস্টার’ চলচ্চিত্রের নামভূমিকায় অভিনয়ের প্রয়োজনে শার্লিজ থেরন শুধু ডোনাট ও আলুর চিপস্ খেয়েই নিজের ওজন বাড়িয়েছিলেন ৩০ পাউন্ড!
স্ট্যানলি কুবরিকের পরিচালনায় ফুল মেটাল জ্যাকেট সিনেমায় অভিনয়ের জন্য শুধু চর্বিযুক্ত খাবার খেয়ে ৭০ পাউন্ড ওজন বাড়িয়েছিলেন ভিনসেন্ট ডি’ওনোফ্রিয়ো।
‘ডালাস বায়ার্স ক্লাব’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ম্যাথু ম্যাকেনজি কাপের পর কাপ চা খেয়ে নিজের ওজন কমিয়ে যে পর্যায়ে নিয়ে ফেলেছিলেন, তা ছিল রীতিমতো আশঙ্কাজনক।
‘ব্রিজেট জোন’স ডায়েরি’র থার্ড সিক্যুয়েলে রেনে জুয়েলগার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে নতুন কী খেলা দেখাচ্ছেন, তা জানা যায়নি এখনো। কিন্তু ২০০১ সালে প্রথমবার বড়পর্দায় অভিনয় করতে গিয়ে তিনি মাখন, পনির, মেয়োনেজ দিয়ে প্রচুর রুটি, ফ্রেঞ্চ টোস্ট আর ডিম খেয়ে ওজন বাড়িয়েছিলেন।
‘দ্য মেশিনিস্ট’ চলচ্চিত্রে ক্রিস্টিয়ান বেইলকে একনজর দেখলে তা আপনার ক্ষুধামন্দায় ভোগার জন্য যথেষ্ট! অভিনয়ের আগে শুধু আপেল আর কফি এবং হঠাৎ হঠাৎ টুনা মাছ খেয়ে নিজের ওজন কমিয়েছিলেন ৬২ পাউন্ড।
স্টিভেন সোডারবার্গের ‘দ্য ইনফরম্যান্ট’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ম্যাট ডেমন ৩০ পাউন্ড ওজন বাড়ানোর আগ পর্যন্ত স্টেকস, ডোরিটো, বিয়ারসহ চোখের সামনে আর হাতের কাছে যা পেয়েছেন, তা-ই খেয়েছেন।
সূত্র - natunbarta.com

