সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পোশাকশ্রমিক মনোয়ার হোসেন (২২) গত বৃহস্পতিবার মারা গেছেন। গত ২৪ এপ্রিল ওই ভবনধসের ঘটনার দিন বিকেলেই তাঁকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০৮ দিন লড়াইয়ের পর অবশেষে অজানার দেশে চলে গেলেন তিনি।
মনোয়ার হোসেন রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার যাদবপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। চাকরি করতেন ধসে পড়া ভবনের তিনতলার নিউ ওয়েব বটম নামের পোশাক কারখানায়। তাঁকে উদ্ধারের সময়ই মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল। দুই পা ছিল ভাঙা। হাসপাতালে ভর্তির পর রাতেই তাঁর মাথায় অস্ত্রোপচারের পর নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। তখনো তাঁর পরিচয় জানা যাচ্ছিল না। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে মা-বাবা ও স্বজনেরা আনুষ্ঠানিকতা শেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মনোয়ারের মৃতদেহ গ্রহণ করে মিঠাপুকুর নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে যাদবপুর মাদ্রাসা কবরস্থানে দাফন করা হয়। এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক চিকিৎসক রওশন আক্তার চৌধুরী বলেন, মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার কারণে সর্বাত্মক চেষ্টা করেও তাঁর জ্ঞান ফেরানো সম্ভব হয়নি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সংজ্ঞাহীন অজ্ঞাতপরিচয় এই যুবকটিকে প্রথমে মানিকগঞ্জের শুক্কুরি বেগম তাঁর ছেলে জাহাঙ্গীর বলে দাবি করেন। এরপর মিঠাপুকুর থেকে আবুল হোসেনের স্ত্রী মুনজেলা বেগম হাসপাতালে এসে যুবকটিকে তাঁর ছেলে মনোয়ার বলে দাবি করেন। এরপর উভয় পরিবারই যুবকটির জ্ঞান ফেরার অপেক্ষায় হাসপাতালে অবস্থান করতে থাকে। কয়েক দিন পর মাথার ব্যান্ডেজ খোলা হলে মুখমণ্ডল দেখে শুক্কুরি বেগম নিশ্চিত হন যুবকটি তাঁর ছেলে নন। এরপর হাসপাতাল থেকে চলে যান তাঁরা। আর মুনজেলা ছেলেকে চিনতে পেরে জ্ঞান ফেরার অপেক্ষায় থাকেন। এ নিয়ে প্রথম আলোতে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাঁর চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি অর্থ সহায়তা দেন।
পরিচালক রওশন আক্তার চৌধুরী বলেন, অনুদানের সব টাকাই ব্যাংকে ছিল। মনোয়ার মারা যাওয়ার পর সব টাকা তুলে তাঁর স্বজনদের হাতে দেওয়া হয়েছে। মনোয়ারের সঙ্গেই কাজ করতেন তাঁর মামা মোন্না মিয়া (২২), মামাতো ভাই মজনু মিয়া (২৫), নাজমুল হোসেন (১৯) এবং মজনুর শ্যালিকা খাদিজা বেগম (২২)। মজনু ছাড়া সবাই পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে।
সুত্র - প্রথম আলো

