ব্র্যান্ড ইমেজ ধসে পড়েছে লন্ডনভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের (জিএসকে)। সর্বশেষ বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটের (বিএসটিআই) অভিযানের পর মাঠ পর্যায়েও কোম্পানিটি সংকটে পড়েছে। ভ্রামমান আদালত ও সম্ভাব্য পুলিশি ঝামেলা এড়াতে জিএসকে-র নতুন পণ্য সেনসোডাইন টুথপেস্ট ফেরত দিচ্ছে খুচরা বিক্রেতারা। বাজারে ধস নেমেছে কোম্পানিটির।
রাজধানীর বিজয়নগরে গত রোববার অভিযান চালিয়ে বিএসটিআইয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবেদা আফসারি সেনসোডাইন টুথপেস্ট জব্দ করেন। এসব পণ্যের গায়ে মান নিয়ন্ত্রণকারী বিএসটিআইয়ের সিল ছিল না। এ ঘটনা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হবার পর সেনসোডাইন নিয়ে ভোক্তাদের মনে বিরাজ করছে আতংক আর কৌতূহল।
রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ আবাসিক এলাকার বাবুল ফার্মেসির মালিক আব্দুর রশিদ বলেন, বিএসটিআইয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালত সেনসোডাইন টুথপেস্ট বাজেয়াপ্ত করার পর সব ফেরত দিয়েছি। অবৈধ মাল রাখবো না। আমরা গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের অন্য ওষুধ রাখি। আমার দোকানের কর্মচারীকে কমিশনের লোভ দেখিয়ে এই পেস্ট রাখার অনুরোধ করে। তিনি জানান, ডাক্তাররা এই পেস্ট প্রেসক্রিপশনে লিখবে। আসলে সব ভুয়া।
রাজধানীর গুলশানের আপডেট ভ্যারাইটিজ স্টোরের ম্যানেজার অনিরুদ্ধ কবির বলেন, সেনসোডাইন পেস্ট আর রাখা সম্ভব হবে না। কারণ আমরা বেআইনী পণ্য বিক্রি করবো না। অনেক ক্রেতা অভিযোগ করেছেন নানা রকম চটকদার বিজ্ঞাপন থাকলেও আসলে এটি একটি নিম্নমানের পেস্ট।
ঢাকার বাইরেও সেনসোডাইন নিয়ে বিপদে পড়েছে জিএসকে। কারণ ডিস্ট্রিবিউটররা বিপুলপরিমাণ সেনসোডাইন পেস্ট ফেরত দিয়েছে।
জিএসকে সম্প্রতি চীনে ঘুষ দিয়ে ওষুধ বিক্রি করতে গিয়ে কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েছে। এর আগে ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যখাতে সবচেয়ে বড় দুর্নীতির সঙ্গে জিএসকে জড়িত ছিল। সেবার বিশ্বের চতুর্থ বৃহৎ ওষুধ কোম্পানিটি ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার জরিমানা দিয়ে ফৌজদারি অভিযোগ থেকে মুক্তি পায়। আর চীনে তাদের চারজন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ আইন মেনেই যে কোনো বহুজাতিক কোম্পানিকে তার পণ্য বাজারজাত করতে হয়। বাংলাদেশের বাজারে যে কোনো পণ্য বিপণনের জন্য বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) থেকে অনুমোদন নেওয়া আবশ্যক। কিন্তু জিএসকে তার সেনসোডাইন বাজারজাত করার ক্ষেত্রে কারো অনুমোদন নেয়নি।
এ বিষয়ে বিএসটিআইয়ের পরিচালক (মান) কমল কুমার দাস বাংলানিউজকে বলেন, ‘গুণমত মান পরীক্ষা করে বাজারজাত করার বিধি রয়েছে। কিন্তু আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান কোনো পরীক্ষা ছাড়াই সেনসোডাইন টুথপেস্ট বিক্রি করছিল।’ এই দায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সেট অ্যান্ড ফেভার ইন্টারন্যাশনালের।
যুক্তরাষ্ট্রে বিরাট অঙ্কের জরিমানা দিয়ে রফা হলেও চীনে ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনায় ব্যাপক ইমেজ সংকটে পড়েছে জিএসকে। আর বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশগুলোয় তাদের পণ্য সহজেই প্রবেশ করে, কোনোরকম আইনের তোয়াক্কা না করেই।
দেশীয় বাজারে জিএসকের বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, ভ্যাকসিন, হরলিক্স, গ্লুকোজ পাউডার ইত্যাদি পণ্য রয়েছে।
সূত্র - বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

