গত এপ্রিলে রানা প্লাজা ধসের ঘটনার পর বাংলাদেশ থেকে একের পর এক খারাপ খবর আসতে থাকে। কিন্তু সবকিছু আড়াল করে দিয়েছে একটি সুখবর। গত জুনে বিশ্বব্যাংক বেশ নীরবেই ঘোষণা করেছে ওই খবরটি। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০০০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমেছে এক কোটি ৬০ লাখ। এর মানে, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অনুযায়ী দারিদ্র্যসীমা কমিয়ে আনার লক্ষ্য দুই বছর আগে পূরণ করতে পেরেছে বাংলাদেশ। বিখ্যাত টাইম সাময়িকীর ১৮ জুলাইয়ের অনলাইন সংস্করণের এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।
‘আফটার মাচ হার্টব্রেক, সাম গুড নিউজ অ্যাট লাস্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক টাইম-এর ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০০ সালে বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের (প্রতিদিন আয় দুই মার্কিন ডলারের চেয়ে কম, অথবা দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের হার দুই হাজার এক শর চেয়ে কম) সংখ্যা ছিল ছয় কোটি ৩০ লাখ। ২০১০ সালে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার কোটি ৭০ লাখ। অর্থাৎ ১০ বছরে এক কোটি ৬০ লাখ বা ২৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য টাইমকে জানান, বাংলাদেশ খুব সফলতার সঙ্গে প্রতি দশকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ১ শতাংশ করে বাড়িয়ে চলেছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের কাছ থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বড় যে শিক্ষাটি নিতে পারে তা হলো, সরকার একাই সবকিছু করতে পারে না। উন্নয়নশীল দেশে দারিদ্র্যের হার অনেক বেশি। অন্যদিকে সম্পদ ও সরকারের সামর্থ্য খুবই কম। কাজেই সামাজিক উদ্ভাবন ও অলাভজনক খাতের সঙ্গে সহযোগিতা করতেই হবে।’
টাইম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, মনোযোগ দেওয়ার মতো কিছু সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। যেমন স্বাস্থ্য খাতে অগ্রগতি। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর হার কমেছে, বেড়েছে শিশুদের টিকাদান ও সাক্ষরতার হার। এ ছাড়া জীবনযাত্রার মানও উন্নত হয়েছে।
টাইম-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের মানুষের উপার্জন বাড়ছে। অন্যদিকে জন্মহার ধারাবাহিকভাবে কমছে। এতে করে সম্পদ ও আয়ের ওপর চাপ কমে আসছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
সূত্র - প্রথম আলো

