প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০০১ সংশোধনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ ছাড়া মেধাসম্পদ সুরক্ষার জন্য ভৌগোলিক নির্দেশক আইন, ২০১৩-এর খসড়ায় নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় সংসদ ভবনে গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইয়া সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বৈঠকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০০১ সংশোধনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এ আইন বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় পর্যায়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি সমন্বয় কমিটি থাকবে। এ ছাড়া সমাজকল্যাণ সচিবের নেতৃত্বে একটি নির্বাহী কমিটি এবং জেলা, উপজেলা, শহর ও ইউনিয়ন পরিষদেও কমিটি থাকবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিবন্ধন করিয়ে তাদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। তিনি জানান, প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী কেউ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য করলে এবং সে জন্য ক্ষতিপূরণ না দিলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা যাবে। প্রতিবন্ধী নয়, এমন কেউ জালিয়াতি করে পরিচয়পত্র নিলে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
মোশাররাফ হোসাইন বলেন, নাটোরের কাঁচা গোল্লা, কুমিল্লার রসমালাই, ঢাকার জামদানি, মুক্তাগাছার মণ্ডা, পোড়াবাড়ীর চমচম, চিনিগুড়া চাল, পদ্মার ইলিশ ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের সম্পদ। এগুলো সুরক্ষার জন্য ভৌগোলিক নির্দেশক আইন, ২০১৩ প্রণীত হচ্ছে। মেধাস্বত্বসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি ১৯৯৫ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছে, এতে বাংলাদেশ অনুস্বাক্ষর করেছে। এখন নির্দিষ্ট স্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পণ্যের প্রতীক দেওয়া হচ্ছে। এটাও একধরনের কপিরাইটের মতো।
প্রস্তাবিত আইনের মাধ্যমে মেধাসম্পদগুলোর স্বীকৃতি পেতে নিবন্ধন ও ট্রেডমার্কের জন্য আবেদন করতে হবে জানিয়ে সচিব বলেন, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংগঠন বা সরকারি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবে। কোনো আপত্তি থাকলে তা শুনানি করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। রেজিস্ট্রারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করা যাবে। তিনি বলেন, ‘এ আইন কার্যকর হলে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্যসামগ্রীর সুনাম রক্ষা করা সম্ভব হবে। কারণ, ব্যবসার ক্ষেত্রে এ সুনাম খুব গুরুত্বপূর্ণ। জামদানি আমাদের সম্পদ হলেও ভারত আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জামদানির মেধাস্বত্ব নিয়ে নিয়েছে। আমরা এখনো চেষ্টা করছি। কারণ, এটি মূলত ঢাকার। দেরিতে উদ্যোগ নেওয়ায় ক্ষতি হয়েছে। তবে এখনো সময় আছে স্বার্থ রক্ষা করার। সে উদ্দেশ্যেই এ আইন হচ্ছে। জামদানির ক্ষেত্রে যে ক্ষতি হয়েছে, আশা করি ভবিষ্যতে এমন ক্ষতি হবে না।’
এ ছাড়া বৈঠকে পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার (সংশোধন) আইন, ২০১৩ খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সৌদি আরবে যাঁরা আকামা সমস্যায় আছেন, ১২ জুলাই পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে ১৫ লাখ জনকে নতুন পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সেখানে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের মধ্যে ৫০ হাজার জনের পাসপোর্ট নবায়ন করা হয়েছে, ৭১ হাজার জনকে ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি সৌদি আরব সফর শেষে মন্ত্রিসভাকে এসব তথ্য জানান।
সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারের সাফল্য বেশি: সংবাদ ব্রিফিংয়ে মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইয়া বলেন, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের চেয়ে বর্তমান সরকারের সাফল্য বেশি। এ সরকারের সাড়ে চার বছরে এক হাজার ২৭২টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে। একই সময়ে বিগত জোট সরকারের সময়ে বাস্তবায়িত হয়েছিল ৫৪৬টি সিদ্ধান্ত। তিনি জানান, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সচিব জানান, গত সাড়ে চার বছরে (জুন, ২০১৩ পর্যন্ত) মন্ত্রিসভার ২০৮টি বৈঠক হয়েছে। এক হাজার ২৮টির সারসংক্ষেপ উপস্থাপিত হয়েছে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৯৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ৮৯টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নাধীন আছে। তিনি জানান, একই সময়ে ২২৯টি আইন পাস হয়েছে। ১৮টি অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৩১টি আইন প্রক্রিয়াধীন।
মোশাররাফ হোসাইন জানান, বিগত জোট সরকারের আমলে একই সময়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়েছে ১৮৯টি। সিদ্ধান্ত হয়েছে ৬৭৪টি, বাস্তবায়ন হয়েছে ৫৪৬টি। আইন পাস হয়েছে ১৫৩টি। বাস্তবায়নের হার ৮১ শতাংশ।
সচিব বলেন, বর্তমান সংসদের মেয়াদ প্রায় শেষ। সে জন্য মন্ত্রিসভা জনগুরুত্বপূর্ণ আইনগুলো দ্রুত পাস করিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
সূত্র - প্রথম আলো

