বাংলাদেশের চালে ক্যাডমিয়াম সবচেয়ে বেশি
27 June,13
Posted By: Healthprior21
Viewed#: 19
মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ধাতব পদার্থ ক্যাডমিয়াম পাওয়া গেছে বাংলাদেশের চালে। বিশ্বের ১২ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের চালে অধিক পরিমাণে এর উপস্থিতি রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণা সংগঠন আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির অধীনে বিশ্বের ১২টি দেশের চালে ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতি নিয়ে এক গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
শরীরে অতিরিক্ত ক্যাডমিয়াম জমা হয়ে মারাত্মক বিষক্রিয়া দেখা দিতে পারে। ফলে বাড়তে পারে ক্যান্সার, হৃদ রোগ, বিকল হতে পারে কিডনি। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে ভূগর্ভস্থ পানিতে ক্যাডমিয়াম বেড়ে গেলে। দূষণ বাড়তে থাকলে গাছ পালা, জলজ প্রাণ মারা যাবে। দেশে কিডনি রোগী বেড়ে যাওয়ার পেছনে ক্যাডমিয়াম দূষণ একটি কারণ বলে মনে করেন গবেষণার সাথে জড়িতরা।
গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশের পরে শ্রীলঙ্কার চালে অধিক পরিমানে ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতি রয়েছে। এছাড়াও কম্পোডিয়া, ঘানা, ভারত, ইতালী, জাপান, নেপাল, স্পেন, থ্যাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের চালেও ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতি রয়েছে।
গবেষকরা বলছেন, বছরের পর বছর নিন্ম মানের টিএসপি সার ব্যবহারের ফলে মাটিতে ক্যাডমিয়ামের পরিমাণ বাড়ছে। আর মাটি থেকে গাছের মাধ্যমে ক্যাডমিয়াম চালে জমা হচ্ছে।
গবেষণা দলের সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দেশে বিভিন্ন অঞ্চলের চালে প্রতি কেজিতে ক্যাডমিয়ামের পরিমাণ .০১ থেকে .৩ পিপিএম পর্যন্ত পাওয়া গেছে এবং এর পরিমাণ বাড়ছে।
ড. রফিকুল ইসলামের মতে, চালে ক্যাডমিয়ামের প্রধান কারণ জমিতে নিম্নমানের টিএসপি সার প্রয়োগ। এছাড়াও গার্মেন্টস, ওষুধ কারখানা, ট্রেক্সটাইল, টেনারির অপরিশোধিত বর্জ্য পনিতে মিশে তা নদীসহ জলাশলের পানিতে ক্যাডমিয়ামের পরিমান বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই পানি বিভিন্নভাবে জমিতে যাওয়ার ফলে ফসলের ক্যাডমিয়াম উপস্থিতি বাড়ছে।
এই গবেষক জানান, গত বছর বাংলাদেশ মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই) সারা দেশ থেকে সারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে দেখেছে, ডিলারদের মাধ্যমে বিক্রি হওয়া ৪২ থেকে ৫০ শতাংশ সারে ভেজাল রয়েছে। পরীক্ষায় ভেজাল জিংক সালফেট ও জিপসাম সারের মধ্যে মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক হেভি মেটাল ক্যাডমিয়াম পাওয়া গেছে। যেসব কৃষক জমিতে এই সার প্রয়োগ করেন দীর্ঘ মেয়াদে তাদেরও কিডনি বিকল হয়ে যেতে পারে।
রফিকুল ইসলাম জানান, রাজধানীর পারপাশের নদীগুলোতে বিপজ্জনক মাত্রায় ক্যাডমিয়াম পাওয়া গেছে। রাজধানীর চারপাশে ফসল উৎপাদনে এসব নদী থেকে সেচ দেওয়া হলে উৎপাদিত ফসলেও ক্যাডমিয়ামের দূষণ থাকবে। এমনকি এই পানি দিয়ে সবজি ধোয়া বা সতেজ করা হলেও তা খাদ্য উপাদানে প্রবেশ করবে।
ক্যাডমিয়ামের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় সম্পর্কে তিনি বলেন, খাদ্য তালিকায় ভাতের পরিমাণ কমিয়ে ডাল, শাক সবজিসহ অন্যান্য উপদানের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে। এছাড়া জরুরি ভিত্তিতে নিম্নমানের টিএসপি সার ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। শিল্পকারখানায় বর্জ্য পরিশোধনের প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। ভোক্তাদের এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
সূত্র - সময়বিডি.কম