home top banner

Health Tip

তারুণ্য দীর্ঘায়িত করার জন্য অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট
19 October,13
Tagged In:  bright youth life  
  Viewed#:   541

দীর্ঘ দিন বেঁচে থাকার আশা মানুষের প্রাচীন কাল থেকেই। অনেক দিন যেন যৌবন দীপ্ত জীবন যাপন করা যায় তার জন্য বহু যুগ ধরেই স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা কাজ করে চলেছেন। মানুষের বেঁচে থাকার সময় ক্রমান্বয়ে দীর্ঘায়িত হয়েছে এবং আরো হবে আশা করা যাচ্ছে। তার পরও আরো বেশি দিনের আয়ু, আরো প্রলম্বিত যৌবন প্রত্যাশা করে আসছে মানুষ। অনেকে এর জন্য অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট জাতীয় ওষুধ বেছে নিয়েছেন। অনেক চিকিৎসকও পরামর্শ দিচ্ছেন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গ্রহণ করার জন্য। এখানে আসলে কী ঘটে তা আলোচনা করা যাক।

মানুষের দেহের কোষ গুলোতে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রকম রাসায়নিক বিক্রিয়া চলছে।মানুষের বেঁচে থাকার জন্য এসব বিক্রিয়া অত্যাবশ্যক। এসব বিক্রিয়ার কারণে মুক্ত মৌল তৈরি হয় এবং তারা দেহে জমা হতে থাকে। সামান্য পরিমাণ মুক্ত মৌল হয়তো বা তেমন ক্ষতিকর নাও হতে পারে। কিন্তু যখন বয়স আগায় এবং বেশি পরিমাণ মুক্ত মৌল জমা হয় দেহে, তখন মুক্ত মৌল গুলো দেহকোষের ধ্বংস বা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দেহের যেসব কোষ স্বল্প সময়ে প্রতিস্থাপিত হওয়ার সামর্থ্য রাখে (ত্বক, মুখের ভেতরের মিউকাস স্তরের কোষ ও পাকস্থলীর আবরণী কোষগুলো ইত্যাদি) তাদের বেলায় মুক্ত মৌল ঘটিত কোষ মৃত্যু তেমন বড় কোনো ক্ষতি করতে পারে না। কিন্তু যেসব কোষ খুবই ধীরে ধীরে প্রতিস্থাপিত হয় বা আদৌ প্রতিস্থাপিত হতে পারে না (যেমন: স্নায়ুকোষ, হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশি ইত্যাদি) তাদের প্রতিটি কোষের মৃত্যুই ক্ষতির কারণ হয়। আর বেশি সংখ্যক এমন কোষের মৃত্যু বা ধ্বংস ঘটলে দেহের বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে।

মুক্ত মৌল গুলো যেকোনো মানুষের একক কোষীয় ক্রিয়া কর্ম থেকে শুরু হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত জমা হতে থাকে। দেহ কিছুটা বের করে দিতে পারে। তবে বেশির ভাগই দেহের ভেতরে থেকে যায় এবং কোষের ক্ষতি করতে থাকে। মুক্ত মৌল গুলো অক্সিডেটিভ বিক্রিয়া উপজাত। অক্সিডেটিভ বিক্রিয়া কোষের শক্তি উৎপাদনের প্রধান বিক্রিয়া। তাই অক্সিডেটিভ বিক্রিয়া গুলোকে বন্ধ বা হ্রাসও করা সম্ভব নয়।তবে দেহের ভেতরে যদি মুক্ত মৌল গুলোর উৎপাদন বন্ধ করা যায়, এদের জমা হওয়া হ্রাস বা বন্ধ করা যেত, তবে কোসের ধ্বংস বা মৃত্যুর একটি অভ্যন্তরীণ কারণ রহিত হতো; কিন্তু তা তো আর সম্ভব নয়।

মুক্ত মৌলের উৎপাদন বন্ধ করতে গেলেও কোষের ক্ষতি হবে। তাই কোষের আয়ু বৃদ্ধির বিকল্প চিন্তা করতে হয়। আর তা হলো রাসায়নিক ভাবে মুক্ত মৌলগুলোকে নিষ্ক্রিয় করা। আর সেটা সম্ভব। এ কাজেঅ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সহায়তা করে। দেখা গেছে, যেসব প্রাণী দীর্ঘ বছর বেঁচে থাকে তাদের দেহে সুপার অক্সাইড ডিসপুটেজ নামক এনজাইম তৈরি হয়, যা মুক্ত মৌলকে নিষ্ক্রিয় করতে পারে। মানুষের দেহের অভ্যন্তরেও মুক্ত মৌলকে নিষ্ক্রিয় করার মতো পদার্থ আছে। যেমন-বিলিরুবিন, গ্লুটাথিওন ইত্যাদি। আবার কিছু খাদ্য উপাদান থেকেও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। যেমন- বিটাক্যারোটিন, ভিটামিন সি ও ভিটামিন ই। এসব অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুলোকে প্রবলভাবে কাজ করতে দেখা যায় না। তবে ধীরে ধীরে হলেও ওরা মুক্ত মৌলের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের বিরোধিতা করে এবং কোষকে রক্ষা করতে সচেষ্ট হয়। তাই এসব অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাদ্য যেমন গাজর, মুলা, আপেল, আমলকী সহ তাজা ফলমূল ও শাকসবজি বয়স বাড়া গতিকে ধীর করতে সহায়ক হয়।

কারো কারো মতে, অ্যান্টি-অক্সিডেন্টগুলো হৃৎপিণ্ডকে রক্ষা করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।উপরে আলোচনার আলোকে আরো বেশি দিন সুস্থ দেহে যৌবন ময় জীবনযাপনের জন্য কেউকেউ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ওষুধ হিসেবে খাচ্ছেন; কিন্তু এসব ওষুধ মানুষের জন্য যথেষ্ট উপকারী হওয়ার সম্ভাবনা কম। তার প্রধান কারণ হলো, এসব ওষুধেঅ্যান্টি-অক্সিডেন্ট একজন প্রাত্যহিক চাহিদার চেয়ে বহুগুণ বেশি থাকে।অতিরিক্ত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কোষের অক্সিডেটিভ প্রক্রিয়া কমাবে, যা কোষের শক্তি উৎপাদনকে ব্যাহত করবে। পরিণামে কোষের মৃত্যু ত্বরান্বিত হবে। একই সাথে বিপুল পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট দেহের জন্য ক্ষতিকর হবে। এদিকে আমরা প্রতিদিনের খাদ্য থেকেও কিছু পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পেয়ে থাকি। এদের সম্মিলিত প্রভাবে কোষের মৃত্যুই শুধু এগিয়ে আসবে।এ ক্ষেত্রে একটাই কাজ করা যেতে পারে। তা হলো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান গুলো প্রতিদিন যথেষ্ট পরিমাণে খাওয়া। একই সাথে প্রাণিজ আমিষ বিশেষত গরু-ছাগলের গোশত খাওয়া কমিয়ে আনা এবং প্রতিদিন না হলেও সপ্তাহে অন্তত তিন দিন পরিমিত ব্যায়াম করা। জীবনের শৃঙ্খলাও দীর্ঘায়ু লাভে সহায়ক।


সূত্র - নয়া দিগন্ত

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: দারুচিনির গুণাগুণ
Previous Health Tips: কিডনির ইনফেকশন বা নেফ্রাইটিস

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')