home top banner

Health Tip

নতুন দাঁত উঠার সময়
22 August,13
  Viewed#:   448

শিশুর স্বাস্থ্যের যত্নের সম্পূর্ণ দায়িত্ব তার বাবা মায়ের। শিশুর স্বাস্থ্যের পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য প্রয়োজন পুষ্টিকর খাবারের। কিন্তু যেই দাঁত দিয়ে শিশু এই খাবার চর্বণ করে সেই দাঁতেরও প্রয়োজন সঠিক যত্নের। সাধারণত শিশুর ৬ মাস বয়সে প্রথম দাঁত উঠে। আড়াই বছর বয়সের মাঝে শিশুর প্রাথমিক দাঁতের পাটি গজায়। 

এখন হয়ত প্রশ্ন জাগতে পারে কেন শিশুর ছোট ছোট দাঁতের এত যত্ন নেয়া প্রয়োজন? শিশুর দাঁতের গঠনের উপরের শিশুর দেহের সুস্থতা অনেকটা নির্ভর করে। তাছাড়া শিশুর দাঁতের সঠিক গঠনের উপর শিশুর চোয়াল এবং চেহারার গঠন নির্ভর করে।

শিশুর দাঁতের সমস্যার উপসর্গ

শিশুরা যখন থেকে দাঁত দিয়ে কামড়ানো শিখে তখনই তাদের সাধারণত দাঁতের এবং মাড়ির সমস্যা হতে পারে। ৬ থেকে ২৪ মাস বয়সের মাঝে শিশুর কামড়ানোর অভ্যাস হয়। নিম্নে কিছু সমস্যা তুলে ধরা হল -

মাড়িতে ঘা হওয়া – যখন নতুন দাঁত উঠে তখন মাঝে মাঝে শিশুদের মাড়িতে ঘা হতে পারে।

দাঁতের ব্যথা থেকে অস্থিরতা – দাঁতের ব্যথা শিশুদের অস্থির করে তুলে। তাই তারা ক্রমাগত কাপড় অথবা হাতের কাছে যা পায় তাই কামড়ানোর চেষ্টা করে।

অনিদ্রা -  দাঁতের প্রবল ব্যথার কারনে শিশু ঘুমাতে পারে না। কান্না এবং নির্ঘুম রাত কাটানোর ফলে তাদের স্বাস্থ্যও খারাপ হতে শুরু করে।

 জ্বর এবং পেটে ব্যথা – দাঁত দিয়ে কামড়ানোর অভ্যাসের কারণে অনেক সময় শিশুর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে পারে যেমন – জ্বর, ডায়রিয়া বা পেটে ব্যথা।

শিশুর দাঁতের যত্নে

দাঁতের ব্যথা অনেক সময় শিশুদের জন্য অনেক কষ্টকর হয়ে উঠে। তাই এই সময়ে বাবা মায়ের উচিত শিশুর দাঁতের দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখা। নিম্নে শিশুর দাঁতের যত্নে কিছু টিপস দেয়া হল -

ঠাণ্ডা পানির ছোঁয়া

দাঁত দিয়ে কামড়ানো শুরু করলে শিশুর মাড়িতে আরাম দিতে এক টুকরো তুলো ঠাণ্ডা পানিতে ভিজিয়ে শিশুর মাড়ি মুছে দিন।

টিথিং রিং

যখন শিশুর দাঁত উঠে তখন শিশুর কিছু না কিছু কামড়াতে ইচ্ছা হয়। নানা রকম জিনিস শিশু মুখে দিলে শিশুর শরীরে জীবানু প্রবেশ করতে পারে। তাই শিশুদের কামড়ানোর জন্য কিছু রাবারের নরম টিথিং রিং পাওয়া যায়। এই রিং কিনে ফ্রিজে রেখে দিন। ঠাণ্ডা টিথিং রিং শিশুকে দিন। এতে শিশুর মাড়ির ব্যথা প্রশমিত হয়।

ঔষধ

 শিশুদের দাঁতের ব্যথা কমাতে অনেক রকম ওষুধ পাওয়া যায়। ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে শিশুকে ওষুধ খাওয়াতে পারেন।

টুথপেস্ট

বাজারে কিছু মেডিসিনাল টুথপেস্ট পাওয়া যায়। এই টুথপেস্ট গুলো দাঁতের এবং মাড়ির ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। তবে এই ধরনের টুথপেস্ট ব্যবহারের আগে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত।  

ব্রাশ করা

দিনে ২ বার ব্রাশ করলে মুখের ভেতরে ব্যক্টেরিয়ার সংক্রমণ কমে যায়। তাই ডাক্তাররা প্রতিদিন দুবার করে শিশুর দাঁত ব্রাশ করার পরামর্শ দেন। শিশুদের জন্য ফ্লুরাইড ফ্রি টুথপেস্ট ব্যবহার করা উচিত। 

খাবার

এই সময়ে শিশুর খাবারের মেন্যুর দিকে নজর রাখা উচিত। শিশুর খাবারে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম থাকা উচিত। খেয়াল রাখুন শিশুর খাবারে যেন চিনি বেশি না হয়। নানা রকম ফল পিষে শিশুকে খেতে দিন। প্রতিদিনকার খাবারে নির্দিষ্ট পরিমাণ শাক সবজি বরাদ্দ রাখুন।

ডেন্টিস্টের পরামর্শ

শিশুকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর নিয়মিত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত। দাঁত উঠার সময় থেকেই এই নিয়ম করা উচিত। এতে শিশুর দাতে অথবা মাড়িতে কোন সমস্যা হলে ডাক্তার আগেই তা সমাধান করতে পারবেন।

 

সূত্র - ইন্টারনেট

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: বসকে চাই বন্ধুর মতো
Previous Health Tips: গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়ের যত্ন

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')