home top banner

Health Tip

প্রি মেনসট্রুয়াল সিনড্রোম
17 August,13
  Viewed#:   365

প্রি মেনসট্রুয়াল সিনড্রোম কে সহজভাবে বলা যায় কিছু ইমোশনাল সমস্যার সমষ্টি যেখানে শারীরিক লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে আবার নাও দিতে পারে। প্রি মেনসট্রুয়াল সিনড্রোম কে অনেক সময় পেরি মেনসট্রুয়াল সিনড্রোম ও বলা হয়। কেননা এর লক্ষণসমূহ পিরিয়ডের আগে বা পরে যেকোনো সময় ই দেখা দিতে পারে। পিরিয়ডের সময় হওয়া শারীরিক সমস্যাগুলো যেমন- তলপেটে ব্যাথা, স্তনে ব্যাথা এগুলোর সাথে ইমোশনাল বা মানসিক সম্পৃক্ততা না থাকলে এগুলো প্রি মেনসট্রুয়াল সিনড্রোম নয়। প্রি মেনসট্রুয়াল সিনড্রোম হতে হলে ইমোশনাল সমস্যাগুলো অবশ্যই হবে, সাথে শারীরিক সমস্যা ও হতে পারে।

কখন হয়ঃ

সাধারণত পিরিয়ড শুরু হওয়ার ১০ দিন আগে লক্ষণ শুরু হয় এবং পিরিয়ড শুরু হলে বা শুরু হওয়ার অল্প কিছু সময় আগে লক্ষণগুলো চলে যায়।

লক্ষণসমূহঃ

১) দুশ্চিন্তা করা

২) মেজাজ খিটখিটে থাকা

৩) আনহ্যাপিনেস বা অসুখী মনে হওয়া

এই তিনটি খুব গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। এ ছাড়া আরও কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন-

১) স্ট্রেস

২) উদ্বিগ্ন হওয়া

৩) ঘুম না হওয়া

৪) মাথা ব্যাথা

৫) ক্লান্তি

৬) মুড এর পরিবর্তন

৭) ইমোশনাল সেনসিটিভিটি বেড়ে যাওয়া

৮) সেক্সে অনীহা

৯) নিজেকে দুঃখী মনে হওয়া

ব্যাক্তিভেদে ভিন্নতাঃ

একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম ভাবে প্রি মেনসট্রুয়াল সিনড্রোম দেখা দিতে পারে। যেমন – কারো ক্ষেত্রে পিরিয়ডের ৩/৪ দিন আগে অনেক দুশ্চিন্তা হতে পারে, কারো উদ্বিগ্নতা হতে পারে, কারো বা মেজাজ খারাপ হতে পারে। কিন্তু প্রতিটি চক্রে এর ভিন্নতা সাধারণত দেখা যায় না। যেমন – গত চক্রে যদি কারো মেজাজ খারাপ থাকে, সেক্ষেত্রে এই চক্রে দুশ্চিন্তা বা উদ্বিগ্ন থাকার ব্যাপারটা দেখা যায় না। তবে কম বেশি হতে পারে। যেমন – গতবারের চেয়ে এবার দুশ্চিন্তা কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে।

কাদের ঝুঁকি বেশিঃ

১) অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ

২) বয়স বাড়া

৩) স্ট্রেসপূর্ণ জীবনযাপন

৪) ডিপ্রেশন এ থাকা

৫) পরিবারে আর কারো থাকলে

৬) খাদ্যঃ  ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, ভিটামিন ই ও ডি এর অভাবে।

রোগ নির্ণয়ঃ

রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এখানে কোন নির্দিষ্ট পরীক্ষা নিরীক্ষার উপায় নেই। তিনটি মূল বৈশিষ্ট্য থেকে মূলত রোগ নির্ণয় করা যায়।

১) পিরিয়ডের পূর্বে মানসিক বা ইমোশনাল লক্ষণ দেখা যাওয়া

২) লক্ষণগুলো পিরিয়ডের ঠিক আগে বা শুরু হওয়ার পর চলে যাওয়া

৩) দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হওয়া।

**লক্ষণগুলো যেসময় শুরু হয়, ১০দিন আগে, সে সময়টায় সাধারণত ডিম্বাণু রিলিজ হয় অথবা চক্রের লুটিয়াল পর্ব চলে।

আপনার ও এমন হয় কিনা এটা জানার জন্য ক্যালেন্ডার এর পাতায় দাগ দিয়ে রাখুন। ঠিক পিরিয়ডের কয়েকদিন আগে মানসিকতার পরিবর্তন এবং পরে ঠিক হয়ে যাওয়া, দুটোই মার্ক করে রাখুন। অন্তত পর পর দুটো চক্রের রেকর্ড দেখে রোগ নির্ণয় করা যায়।

কেন এমন হয়ঃ

এখন পর্যন্ত সুস্পষ্ট কোনও উত্তর পাওয়া না গেলেও ধারণা করা হয়, পিরিয়ড চক্রে হরমোনের পরিবর্তনের জন্য এমন হয়। লুটিয়াল পর্বে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের সাথে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের নিউরোট্রান্সমিটারের ক্রিয়ায় এটা হতে পারে। সেরোটোনিন ও গ্লুটামেট এমন ই দুটো নিউরোট্রান্সমিটার।

 

চিকিৎসাঃ

চিকিৎসার জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। সাধারণভাবে জীবনযাত্রার পরিবর্তন, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন সাহায্য করতে পারে। চিকিৎসা করার জন্য আমরা মূলত SSRI গ্রুপের ওষুধ বেছে নিই। এছাড়া ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ই দেয়া যায়। হরমোন দিয়েও চিকিৎসা করা হয়। জন্মনিয়ন্ত্রণকারী পিল এক্ষেত্রে ভাল কাজ করে। ক্লোনিডিন, ফিনাইল অ্যালানিন, NSAID এগুলো ও দেয়া হয়। প্রতিটি মানুষ আলাদা, তাই সবার চিকিৎসা পদ্ধতি ও আলাদা হবে। তাই অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

চিকিৎসা না নিলেঃ

অনেকেই প্রি মেনসট্রুয়াল সিনড্রোম কে আলাদা করে কিছু ভাবেন না যেন এটা সাধারণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু ব্যাপারটা মোটেও তা নয়। যদি চিকিৎসা না নেয়া হয় তাহলে ক্লিনিক্যাল রোগ হতে পারে, যেমন-প্রি মেনসট্রুয়াল ডিসফোরিক ডিসঅর্ডার, ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশন, সাইকিক ডিসঅর্ডার ইত্যাদি। আপনার দৈনন্দিন জীবন তো ব্যাহত হয় ই, আপনার নিকট জনের কাছেও সুখকর হয় না।

করনীয়ঃ

১) নিয়মত স্বাস্থ্যকর খাবার খান

২) নিয়মিত ব্যায়াম করুন

৩) কাজে ডুবে থাকুন

৪) লবণ এবং চিনি খাওয়া কমিয়ে দিন

৫) ক্যাফেইন পরিহার করুন

৬) স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করুন

জীবন একটাই। রোগ ছোট হোক বা বড়, চিকিৎসা নিন, ভাল থাকুন আর জীবনকে উপভোগ করুন।

লিখেছেনঃ সানিয়া

Source: shajgoj


Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: Fight Back Against Isolation and Loneliness
Previous Health Tips: Advice for Parents to fight kids Acne

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')