home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

প্যারালাইসিস ও চিকিত্সা
২৪ জুন, ১৩
  Viewed#:   330

প্যারালাইসিস বা পক্ষাঘাতগ্রস্ততা হচ্ছে মানুষের শরীরের কোনো অংশের মাংসপেশির কর্মক্ষমতা হারানো। মাংসপেশি শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নাড়াচড়া করিয়ে থাকে, আর যদি ওই অংশের মাংসপেশির কর্মক্ষমতা হারায় তখন রোগী শরীরের ওই অংশের নড়াচড়া করার ক্ষমতা হারায়। অনেক সময় ওই অংশের বোধ বা অনুভূতি শক্তিও হারিয়ে ফেলে।
প্যারালাইসিস যে কোনো বয়সে, যে কোনো কারণে যদি হয়েই যায় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিত্সকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। আমাদের সবার উচিত এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া। প্যারালাইসিস রোগীদের ফিজিওথেরাপি চিকিত্সার মাধ্যমে পুনর্বাসন তথা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব, প্যারালাইসিসের প্রধান কারণই হচ্ছে রোগীর স্নায়ু বা নার্ভাস সিস্টেম অকেজো হওয়া। স্নায়ুই মূলত মানুষের মাংসপেশিতে এক ধরনের বৈদ্যুতিক শক্তি প্রেরণ করে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নাড়াচড়া করতে সাহায্য করে। আর যখনই স্নায়ু বা নার্ভাস সিস্টেম অকেজো হয় তখন রোগী প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—ব্রেইন স্ট্রোক, স্পাইনালকর্ড ইনজুরি, নার্ভ ইনজুরি, এমায়েট্রপিক লেটেরাল স্ক্লেরোসিস, বটুলিজিম যা এক ধরনের টক্সিসিটি, মালটিপল স্ক্লেরোসিস, জিবিএস। তাছাড়া মাংসপেশির রোগ মাসকুলার ডেসট্রপি হলেও প্যারালাইসিস হয়ে থাকে। শিশুদের পলিও রোগ, সেরিব্রাল পলসি উল্লেখযোগ্য।
যেহেতু প্যারালাইসিস বা প্রক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার নানাবিধ কারণ রয়েছে, তাই সর্বপ্রথম আমাদের খেয়াল রাখতে হবে রোগী কি কারণে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হলো। হঠাত্ করে প্যারালাইসিস হলেও রোগীকে সঙ্গে সঙ্গে কাছের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে, তা না হলে রোগীর জীবন বিপন্ন হতে পারে। রোগীর আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন হতে পারে। আমাদের দেশে প্যারালাইসিসের একটি বড় কারণ হচ্ছে ব্রেইন স্ট্রোক। মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হলে বা রক্তনালী ছিড়ে গেলে স্ট্রোক হয়ে থাকে। তার জন্য কিছু কারণ দায়ী। যেমন—উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া, হাইপোসাইথেমিয়া, থ্রম্বসাইথেমিয়া, আঘাত পেলে, মদ্যপান, জণ্মনিয়ন্ত্রণ ওষুধ, বংশগত। তাই স্ট্রোক প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ধূমপান বা মাদকদ্রব্য পরিহার করতে হবে। নিয়মিত গোসল, হাঁটা চলাফেরা করতে হবে। হঠাত্ উত্তেজিত হওয়া যাবে না। পরিমিত সুষম খাবার খেতে হবে, খাদ্য তালিকায় অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার, ফার্স্টফুড পরিহার করতে হবে। পরিমিত ঘুমাতে হবে। শিশুদের প্যারালাইসিসের অন্যতম কারণ পলিও। তাই সব শিশুকে পলিও টিকা খাওয়ানো উচিত। এ ব্যাপারে শিশুর অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।
প্যারালাইসিসের চিকিত্সার ক্ষেত্রে একিউট বা ক্ষণস্থায়ী অবস্থা এবং ক্রনিক বা দীর্ঘস্থায়ী অবস্থা এই দু’ভাগে চিকিত্সা দেয়া হয়ে থাকে। একিউট স্টেজে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি রাখতে হয়। সেক্ষেত্রে চিকিত্সকরা প্যারালাইসিসের কারণ নির্ণয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। অনেক সময় রোগীকে লাইফ সাপোর্ট দিতে হয়। আর ক্রমিক স্টেজে রোগীর দেখা যায় শরীরের একপাশ প্যারালাইসিস বা যে কোনো একহাত বা এক পা বা দুই পা বা চার হাত-পা প্যারালাইসিসে আক্রন্ত হতে পারে। প্যারালাইসিস রোগীকে ওষুধের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি চিকিত্সা চালিয়ে যেতে হবে এবং ফিজিওথেরাপি চিকিত্সার মাধ্যমে রোগীকে পুনর্বাসন করা সম্ভব, তার জন্য প্রথমদিন থেকেই ফিজিওথেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে চিকিত্সা চালিয়ে যেতে হবে। ফিজিওথেরাপি চিকিত্সায় চিকিত্সক বিভিন্ন কৌশলগত ব্যায়াম করিয়ে থাকেন, পাশাপাশি বিভিন্ন যন্ত্রপাতির মাধ্যমে ইলেক্ট্রোথেরাপি, প্রয়োজনে অর্থসিস বা প্রসথেসিসের মাধ্যমে চিকিত্সা দিয়ে থাকেন।

লেখক : চেয়ারম্যান, ডিপিআরসি
প্রবাল হাউজিং, রিং রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা

আমার দেশ,৪ ডিসেম্বর ২০১২

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: নিরাপদে ফর্সা হওয়ার কিছু টিপস:
Previous Health Tips: রেড মিট কেন কম খাবেন

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')