home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

শিশুদের সামনে কথা বলার সময় সতর্কতা
২৪ জুন, ১৩
বিষয়টি বাংলাতে পড়ুন
  Viewed#:   419

হেলথপ্রায়র২১ ডেস্ক:

আপনি কি মনে করেন আপনার শিশু অবুঝ? বড়দের জরুরী কথার মানে সে বুঝতে পারছে না! শিশুরা যখন থেকে কথা বলতে শেখে তখন থেকেই সে কথাবার্তার মানে বুঝতে শেখা শুরু করে। অনেক সময় শিশুরা বড়দের আলাপচারিতা শুনে চিন্তিত এবং বিমর্ষ হয়ে পড়ে। এমনকি পূর্বের কোন ঘটনার মানে না বুঝে পরিবারের বাইরের কোন মানুষের সামনেঅপ্রীতিকর কোন কথাও বলে বসতে পারে।

শিশুদের সামনে আলোচনার সময় নিম্নের বিষয় গুলির ব্যাপারে সতর্কতা বজায় রাখুন

১) বাবা-মার মাঝে ঝগড়া - শিশুরা কখনোই যে বিষয়টি শুনতে চায় না তা হল তার বাবা- মার মধ্যকার ঝগড়া কলহ। বাবা- মার মাঝে ঝগড়া, অশালীন কথা শিশুকে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। সাধারণত যেসব শিশুরা পারিবারিক কলহ, অশান্তির মাঝে বড় হয় তারাই পরবর্তী জীবনে বদরাগী এবং জেদি স্বভাবের হয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার বিবাদ কখনোই সন্তানের সামনে আসা উচিত নয়। এইসব বিষয় আপনার সন্তানের অনুপস্থিতিতে আলোচনা করুন।

২) চাকরি এবং পারিবারিক সমস্যা - চাকরি এবং পরিবার দুটোকে একসাথে চালাতে অনেক সমস্যারই সৃষ্টি হতে পারে। আপনার স্ত্রী/স্বামীর সাথে পারিবারিক, আর্থিক সমস্যা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কথা বলার সময় সতর্ক থাকুন। শিশুরা এই ধরণের বিষয় নিজের মত করে বোঝে - হয়তোবা প্রয়োজনের থেকে তারা অনেক বেশি ঘাবড়ে যায়। পারিবারিক অথবা আর্থিক সমস্যা যদি গুরুতর হয় তাহলে আপনার শিশুর সাথে আলোচনা করে তাকে তার মত করে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করুন।

৩) কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা -শিশুদের সুস্থ মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে কুরুচিপূর্ণ আলাপচারিতা একেবারেই কাম্য নয়। শিশুরা প্রতিনিয়ত শুনছে এবং শিখছে। কোন কুরুচিপূর্ণ কথা, গালিগালাজ ইত্যাদি তারা না বুঝেই ভাষায় ব্যবহার করা শুরু করে। তাই শিশুদের সামনে কুরুচিপূর্ণ যেকোনো কথা শব্দ উচ্চারণ থেকে বিরত থাকুন।

৪) সমালোচনামূলক আলোচনা - শিশুর সামনে তার শিক্ষক, তার বন্ধুর বাবা-মা অথবা আপনার শ্বশুরবাড়ির মানুষজনের ব্যাপারে সমালোচনামূলক আলোচনা থেকে বিরত থাকুন। এই ধরণের আলোচনা শিশুর মনে গভীর প্রভাব ফেলে। যেই মানুষটিকে সে হয়তোবা পছন্দ করত তার ব্যাপারে নেতিবাচক কথাবার্তা শিশুকে চিন্তিত; এমনকি মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে।

৫) সন্তানদের নিয়ে অভিযোগ - অনেক বাবা মাই নিজেদের আলোচনার মাঝে শিশুর কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিযোগ করেন অথবা সন্তানদের পেছনে খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এইসব কথা বার্তায় শিশুরা লজ্জিত বোধ করে এবং নিজেদের দোষারোপ করে।মাঝে মাঝে শিশুরা বাবা মায়ের উপরও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে।

৬) দেশ, রাজনীতি এবং অপরাধ বিষয়ে আলোচনা -মনে রাখবেন, শিশুর কাছে তার পরিবার নিয়েই হল তার পৃথিবী। দেশ-বিশ্ব ইত্যাদি তার কাছে কম গুরুত্ত বহন করে। শিশুর সামনে দেশ, রাজনীতি, অপরাধ বিষয়ক আলোচনায় সচেতন হন। শিশুরা এইসব উত্তেজনামূলক খবরে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। যা আপনার কাছে হয়ত ছোটখাটো কোন আলোচনার বিষয় কিন্তু তাই হয়ত আপনার সন্তানকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলছে। শিশুর বয়সের সাথে সাথে তাকে তার উপযোগী করে এই ধরণের বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করুন।


তবে এও সত্য যে, আপনি সচেতন হওয়ার পরও, আপনার অজান্তে আপনার গোপনীয় অথবা জরুরী আলোচনা শিশু শুনে ফেলতে পারে। সেক্ষেত্রে শিশুর সাথে কঠিন আচরণ বা বকাঝকা না করে, তাকে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করুন।

- শিশুকে বকাঝকা না করে তাকে জিজ্ঞেস করুন সে কি শুনেছে । তাকে বোঝান সে যদি সত্য স্বীকার করে তাহলে আপনি তাকে একটুও বকা দেবেন না।

-হয়তোবা কোন পারিবারিক কারণে আপনি আপনার স্বামী/স্ত্রীর সাথে জোরে কথা বলে ফেললেন বা কোন অপ্রীতিকর মন্তব্য করে বসলেন। সেসব ক্ষেত্রে আপনার সন্তানকে তার উপযোগী করে পুরো ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলুন।

- মনে রাখবেন পারিবারিক কোন বড় বিষয় যেমন - চাকরি হারান, কারও অসুস্থতা ইত্যাদি আপনি বেশিদিন আপনার সন্তান থেকে গোপন রাখতে পারবেন না। তাই আপনার উচিৎ সন্তানকে এইসব ব্যাপারে মন খারাপ না করে ধৈর্য ধরা এবং মনোবল রাখার মত মানসিকতা গড়ে তোলার ব্যাপারে সহযোগিতা করা।

- শিশুর সামনে ফিসফিস করে বা ইশারায় কথা না বলে বরঞ্চ তাদের অনুপস্থিতিতে আলাপ করুন। বাবা মা কে এভাবে কথা বলতে দেখলে শিশুরা আরও কৌতূহলী হয়ে উঠে এবং তাদের মাঝে লুকিয়ে লুকিয়ে কথা শোনার প্রবণতা দেখা দেয়।

 

সূত্র -ইন্টারনেট

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: 23 Ways To Communicate With A Non-Verbal Child
Previous Health Tips: Home Remedies for Nail Fungus

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')