হেলথপ্রায়র২১ ডেস্ক:
আপনি কি মনে করেন আপনার শিশু অবুঝ? বড়দের জরুরী কথার মানে সে বুঝতে পারছে না! শিশুরা যখন থেকে কথা বলতে শেখে তখন থেকেই সে কথাবার্তার মানে বুঝতে শেখা শুরু করে। অনেক সময় শিশুরা বড়দের আলাপচারিতা শুনে চিন্তিত এবং বিমর্ষ হয়ে পড়ে। এমনকি পূর্বের কোন ঘটনার মানে না বুঝে পরিবারের বাইরের কোন মানুষের সামনেঅপ্রীতিকর কোন কথাও বলে বসতে পারে।

শিশুদের সামনে আলোচনার সময় নিম্নের বিষয় গুলির ব্যাপারে সতর্কতা বজায় রাখুন
১) বাবা-মার মাঝে ঝগড়া - শিশুরা কখনোই যে বিষয়টি শুনতে চায় না তা হল তার বাবা- মার মধ্যকার ঝগড়া কলহ। বাবা- মার মাঝে ঝগড়া, অশালীন কথা শিশুকে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। সাধারণত যেসব শিশুরা পারিবারিক কলহ, অশান্তির মাঝে বড় হয় তারাই পরবর্তী জীবনে বদরাগী এবং জেদি স্বভাবের হয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার বিবাদ কখনোই সন্তানের সামনে আসা উচিত নয়। এইসব বিষয় আপনার সন্তানের অনুপস্থিতিতে আলোচনা করুন।
২) চাকরি এবং পারিবারিক সমস্যা - চাকরি এবং পরিবার দুটোকে একসাথে চালাতে অনেক সমস্যারই সৃষ্টি হতে পারে। আপনার স্ত্রী/স্বামীর সাথে পারিবারিক, আর্থিক সমস্যা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কথা বলার সময় সতর্ক থাকুন। শিশুরা এই ধরণের বিষয় নিজের মত করে বোঝে - হয়তোবা প্রয়োজনের থেকে তারা অনেক বেশি ঘাবড়ে যায়। পারিবারিক অথবা আর্থিক সমস্যা যদি গুরুতর হয় তাহলে আপনার শিশুর সাথে আলোচনা করে তাকে তার মত করে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করুন।
৩) কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা -শিশুদের সুস্থ মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে কুরুচিপূর্ণ আলাপচারিতা একেবারেই কাম্য নয়। শিশুরা প্রতিনিয়ত শুনছে এবং শিখছে। কোন কুরুচিপূর্ণ কথা, গালিগালাজ ইত্যাদি তারা না বুঝেই ভাষায় ব্যবহার করা শুরু করে। তাই শিশুদের সামনে কুরুচিপূর্ণ যেকোনো কথা শব্দ উচ্চারণ থেকে বিরত থাকুন।
৪) সমালোচনামূলক আলোচনা - শিশুর সামনে তার শিক্ষক, তার বন্ধুর বাবা-মা অথবা আপনার শ্বশুরবাড়ির মানুষজনের ব্যাপারে সমালোচনামূলক আলোচনা থেকে বিরত থাকুন। এই ধরণের আলোচনা শিশুর মনে গভীর প্রভাব ফেলে। যেই মানুষটিকে সে হয়তোবা পছন্দ করত তার ব্যাপারে নেতিবাচক কথাবার্তা শিশুকে চিন্তিত; এমনকি মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে।
৫) সন্তানদের নিয়ে অভিযোগ - অনেক বাবা মাই নিজেদের আলোচনার মাঝে শিশুর কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিযোগ করেন অথবা সন্তানদের পেছনে খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এইসব কথা বার্তায় শিশুরা লজ্জিত বোধ করে এবং নিজেদের দোষারোপ করে।মাঝে মাঝে শিশুরা বাবা মায়ের উপরও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে।
৬) দেশ, রাজনীতি এবং অপরাধ বিষয়ে আলোচনা -মনে রাখবেন, শিশুর কাছে তার পরিবার নিয়েই হল তার পৃথিবী। দেশ-বিশ্ব ইত্যাদি তার কাছে কম গুরুত্ত বহন করে। শিশুর সামনে দেশ, রাজনীতি, অপরাধ বিষয়ক আলোচনায় সচেতন হন। শিশুরা এইসব উত্তেজনামূলক খবরে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। যা আপনার কাছে হয়ত ছোটখাটো কোন আলোচনার বিষয় কিন্তু তাই হয়ত আপনার সন্তানকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলছে। শিশুর বয়সের সাথে সাথে তাকে তার উপযোগী করে এই ধরণের বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করুন।
তবে এও সত্য যে, আপনি সচেতন হওয়ার পরও, আপনার অজান্তে আপনার গোপনীয় অথবা জরুরী আলোচনা শিশু শুনে ফেলতে পারে। সেক্ষেত্রে শিশুর সাথে কঠিন আচরণ বা বকাঝকা না করে, তাকে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করুন।

- শিশুকে বকাঝকা না করে তাকে জিজ্ঞেস করুন সে কি শুনেছে । তাকে বোঝান সে যদি সত্য স্বীকার করে তাহলে আপনি তাকে একটুও বকা দেবেন না।
-হয়তোবা কোন পারিবারিক কারণে আপনি আপনার স্বামী/স্ত্রীর সাথে জোরে কথা বলে ফেললেন বা কোন অপ্রীতিকর মন্তব্য করে বসলেন। সেসব ক্ষেত্রে আপনার সন্তানকে তার উপযোগী করে পুরো ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলুন।
- মনে রাখবেন পারিবারিক কোন বড় বিষয় যেমন - চাকরি হারান, কারও অসুস্থতা ইত্যাদি আপনি বেশিদিন আপনার সন্তান থেকে গোপন রাখতে পারবেন না। তাই আপনার উচিৎ সন্তানকে এইসব ব্যাপারে মন খারাপ না করে ধৈর্য ধরা এবং মনোবল রাখার মত মানসিকতা গড়ে তোলার ব্যাপারে সহযোগিতা করা।
- শিশুর সামনে ফিসফিস করে বা ইশারায় কথা না বলে বরঞ্চ তাদের অনুপস্থিতিতে আলাপ করুন। বাবা মা কে এভাবে কথা বলতে দেখলে শিশুরা আরও কৌতূহলী হয়ে উঠে এবং তাদের মাঝে লুকিয়ে লুকিয়ে কথা শোনার প্রবণতা দেখা দেয়।
সূত্র -ইন্টারনেট

