home top banner

Health Tip

ব্রণ, মেছতা বা কালো দাগ দূর করার কার্যকর ২১ উপায় (পর্ব – ৩)
18 June,13
View in English

ব্রণ-মেছতার প্রাকৃতিক প্রতিকার

পিম্পল চিকিৎসায় প্রচলিত কিছু ওষুধ কিংবা প্রোডাক্টের ব্যবহার আমরা সচারচর দেখি। যেমন যেসব প্রোডাক্টে স্যালিসাইলিক এসিড, বেনজয়েল পারঅক্সাইড, সালফার এবং এন্টি-বায়োটিক এজেন্ট যেমন ট্রাইক্লোসান, টপিক্যাল এন্টি-বায়োটিক যেমন ক্লিন্ডামাইসিন, ইরাইথ্রোমাইসিন, টপিক্যাল রেটিনয়েডস – রেটিনয়েড এসিড ক্রীম অথবা জেল ইত্যাদি থাকে, এসবের পাশাপাশি কিছু কিছু হোম রেমেডি ব্যবহার করতে পারেন যেগুলো পিম্পল দূর করতে কার্যকর।

 

৮। কমলা লেবু 

 

কমলা লেবুর খোসা কয়েকদিন রৌদ্রে ফেলে ভালভাবে শুকিয়ে নিন যেন মচমচে হয়। এখন মিক্সার মেশিনের সাহায্যে ভাল করে গুঁড়া করে বায়ুরোধী কন্টেইনারে ভরে রাখুন। প্রতিদিন এই পাউডার একটুখানি হলুদ গুঁড়ার সাথে পানিতে মিশিয়ে পেস্ট তৈরী করুন এবং সারা মুখমন্ডলের ত্বকে মাখুন। কিছুক্ষন রেখে আলতো করে ঘষে ধুয়ে ফেলুন। এটা আপনি ফেইস ওয়াসের পরিবর্তে প্রতিদিন ব্যবহার করতে পারেন। এতে আপনার ত্বক হবে মোলায়েম, উজ্জ্বল আর দূর হবে পিম্পল। কিভাবে পিম্পল দূর করবেন, এই প্রশ্নের সহজ উত্তর হতে পারে এই সহজ পদ্ধতিটি।

 

৯। টুথপেস্ট

পিম্পল দূর করতে টুথপেস্টের জুড়ি নেই। আপনার পিম্পল থাকলে আজই টুথপেস্ট ব্যবহার করে দেখতে পারেন। ঘুমানোর আগে মুখমন্ডল ভাল করে ধুয়ে পরিস্কার হাত দিয়ে সামান্য পরিমানে টুথপেস্ট নিয়ে সরাসরি পিম্পল আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে দিন। সকালবেলা ঘষে পরিস্কার করে ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিনের ব্যবহার্য একটু ভালমানের টুথপেস্ট হলেই চলবে।

 

তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন ঘুমাতে যাওয়ার আগেই টুথপেস্ট শুকিয়ে যায়, না হলে বালিশে বা বিছানার চাদরে মেখে যেতে পারে। টুথপেস্ট পিম্পল দূর করতে ও ফোলা কমাতে সাহায্য করে।

 

১০। বেকিং সোডা 

আপনি যদি আপনার ত্বকে টুথপেস্ট লাগিয়ে রাখতে না চান বা পছন্দ না করেন সেক্ষেত্রে বিকল্প হতে পারে বেকিং সোডা। একটুখানি বেকিং সোডা পানিতে মিশিয়ে পেস্টের মত করে পিম্পল আক্রান্ত স্থানে আগের নিয়মে ঘুমানোর আগে লাগিয়ে রাখুন। সকালবেলা ধুয়ে ফেলুন। ব্রণ-মেছতা দূর করতে বেকিং সোডা সম্ভবত সবচাইতে সস্তা আর কার্যকরী ব্যবস্থা।

 

১১। এলোভেরা 

কে না জানে এই জাদুকরী উদ্ভিদটি সম্পর্কে। পিম্পল সারাতে এলোভেরা খুবই কার্যকর। টাঁটকা পাতা থেকে জেলের মত শ্বাঁসটা বের করে নিন। আক্রান্ত স্থানে দিনে অন্ততঃ একবার করে লাগান। যদিও এটা কাজ করে একটু ধীরে তবে ত্বকের দগদগে ঘা সারাতে আর ত্বকের নতুন কোষ তৈরীতে এলোভেরা খুবই কার্যকরী।

 

১২। আইস কিউবস  বা বরফের টুকরা 

আক্রান্ত স্থানে বরফের টুকরা আস্তে আস্তে ঘষুন। এতে ঘা এর জ্বালাপোড়ায় আরাম হবে। লালদাগ মিলাতে সাহায্য করবে। এতে অবশ্য ত্বকের খোলা ছিদ্র বন্ধ হবে।

 

১৩। পুদিনা পাতা 

সারারাত ধরে পুদিনা পাতার রস আক্রান্ত স্থানে মেখে রাখতে পারেন। এতে ব্রণ দূর হবে। পিম্পল দূর করার অন্যতম কার্যকরী পদ্ধতিটি এটি আর পিম্পলের দাগ দূর করার ক্ষেত্রে আপনার প্রশ্নের সহজ উত্তরও এটি।

 

১৪। আপেল সিডার ভিনেগার 

প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরী আপেল সিডার ভিনেগার ত্বকের পিএইচ মাত্রা নিয়ন্ত্রন করে। পিম্পল দূর করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকরী উপাদান। এটি ত্বকের ব্রণ-মেছতার দাগও দূর করে।

এক কাপ পানিতে আধা চা-চামচ আপেল সিডার ভিনেগার নিন। এতে তুলা ভিজিয়ে আলতো করে আক্রান্ত স্থানে লাগান। সারারাত এভাবে রেখে সকালবেলা যথানিয়মে ধুয়ে ফেলুন।

 

১৫। ওটমিল 

ওটমিল কার্যকরভাবে ত্বকের দূষন বা সংক্রমন দূর করে। ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নেয়, ব্রণ-মেছতা দূর করার ক্ষেত্রে কাজ করে।

আপনি যেভাবে ওটমিল রান্না করে খান, সেভাবে রান্না করুন এবং ঠান্ডা হতে দিন। পরিস্কার ত্বকে ফেইস মাস্ক হিসাবে ব্যবহার করুন। ১০-১৫ মিনিট এভাবে রেখে ধুয়ে ফেলুন। এরপর হাতের তালু দিয়ে হালকা মেসেজ করে ত্বক শুকিয়ে নিন এবং টোনার ব্যবহার করুন সাথে ময়েশ্চারাইজার।

 

১৬। রসুন 

রসুনকে বলা হয় ‘একনি কিলার’। তাজা স্লাইস করা রসুনের পাতলা টুকরা সরাসরি পিম্পল আক্রান্ত স্থানে অস্তে করে ঘষুন, এক্ষেত্রে রসুনের রসও ব্যবহার করতে পারেন  ন। ২০-২৫ মিনিট এভাবে রাখুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন অথবা পরিস্কার ভেজা নেকরা দিয়ে মুছে ফেলুন।

অনেকের কাছেই রসুনের কটু গন্ধ বিরক্তিকর বা বিব্রতকর লাগতে পারে। জেনে রাখুন নিশ্চিতভাবেই এটি পিম্পল দূর করতে খুবই কার্যকরী প্রাকৃতিক ওষুধ। তবে যাদের ত্বক অতি সংবেদনশীল তাদের রসুন ব্যবহার না করাই ভাল।

 

১৭। চন্দনকাঠ 

গোলাপজলে মেশানো চন্দনকাঠের পেস্ট পিম্পল চিকিৎসায় প্রাকৃতিক ওষুধ হিসাবে খুবই কার্যকর। এই পেস্ট আক্রান্ত স্থানে লাগান, শুকাতে দিন। তারপর ধুয়ে ফেলুন। দিনে দু’বার করে কয়েকদিন লাগান আর দেখুন কেমন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হচ্ছে। চন্দন ত্বকের ঘা-জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে আর ত্বকে নিঃসরিত অতিরিক্ত তেল শুষে নেয়।

এসব ছাড়াও পিম্পল দূর করতে ও প্রতিরোধ করতে বিকল্প হিসাবে ‘Fuller’s Earth’  যা ‘মুলতানি মাটি’ নামে সমধিক পরিচিত, ব্যবহার করতে পারেন।

 

এরপর পড়ুন ‘একনি’ দূর করতে ড্রাগ স্টোর প্রোডাক্ট সম্পর্কে।

 

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: Wash Your Hand Properly
Previous Health Tips: How to Prevent and Remove Pimples/Acne 21 Effective Methods (Part – 2)

More in Health Tip

গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে কি ইনসুলিন ছাড়া আর কোনো ওষুধ ব্যবহার করা নিরাপদ?

গর্ভস্থ শিশুর জন্য বেশির ভাগ ওষুধই অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ। কেবল ইনসুলিনই প্রায় সম্পূর্ণ নিরাপদ হিসেবে প্রমাণিত। তাই অকারণে ঝুঁকি না নেওয়াই ভালো।   সূত্র - প্রথম আলো See details

বজায় রাখুন হরমোনের ভারসাম্য, "ব্যালান্স" করুন জীবন

হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে আমাদের দেহের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে অল্পতেই অনেক রোগ-ব্যধি বাসা বাঁধে শরীরে। মুখে ও শরীরে ব্রন ওঠা হরমোনের ভারসাম্যহীনতার প্রথম ও প্রধান লক্ষন। চুল অতিরিক্ত পরিমাণে পড়া, মুটিয়ে যাওয়া, শারীরিক গঠনে সমস্যা হওয়াও হরমোনের ভারসাম্যহীনতার সমস্যা। এছাড়াও... See details

গরমের স্বাস্থ্য-সমস্যা ও সমাধান !

গরমের স্বাস্থ্য-সমস্যা: ১. ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা ২. হিট স্ট্রোক ৩. ডায়রিয়া ৪. গ্যাস্ট্রিক-সমস্যা ৫. হজমে গোলমাল ৬. গরমজনিত ঠান্ডাজ্বর ৭. সামার বয়েল বা র্যাশ এসব সমস্যার সমাধান: ১. এই গরমে পানি, তরলজাতীয় ও ঠান্ডা খাবার যেমন ডাব, লেবুর শরবত, খাবার স্যালাইন, তরমুজ, ঠান্ডা দুধ... See details

রাগবেন না দয়া করে!

রাগ, যা মানুষের চরম শত্রু। রাগ সুন্দরকে মুহূর্তের মধ্যে কুৎসিত করে তুলতে পারে। রাগের জন্য কেউ আপনাকে শাস্তি না দিক, রাগ আপনাকে ঠিকই শাস্তি দেবে। কিভাবে? দেখুন- ক্রোধের সময় অ্যাড্রেনালিন ও নরঅ্যাড্রেনালিন হরমোনের নিঃসরণবেড়ে যায়। এই হরমোন দুটি রক্তনালিকে সংকুচিত করে এবং হৃৎস্পন্দন... See details

কেমিক্যাল মুক্ত ফল কিভাবে খাবেন

শুরু হয়েছে মধুমাস জ্যৈষ্ঠ। বাজারে উঠতে শুরু করেছে আম, কাঁঠাল, লিচু সহ আরও অনেক ফল। কিন্তু, ফল গাছে নির্ভেজাল হয়ে জন্ম নিলেও আমাদের খাওয়ার পূর্বে তা আর নির্ভেজাল থাকে না। ফরমালিন তো আছেই, এখন ফল আগে পাকানোর জন্য আমাদের ব্যবসায়ী মামারা এক এক জন বিজ্ঞ রসায়নবিদ হয়ে আবির্ভাব হয়েছেন। তাই, ফল পাকাতে... See details

প্রতিনিয়ত আপনার বুদ্ধিমত্তা কমিয়ে দিচ্ছে যে খাবারগুলো

আমরা যা খাই তার প্রভাব আমাদের ওপর খুব ভালো করেই পরে। কারণ খাবারের সাথে আমাদের দেহের সকল কার্যক্রম জড়িত। পরিমিত এবং ভালো খাদ্যাভ্যাস আমাদের দেহ, মন ও মস্তিস্ক সবই রাখে সুস্থ। এবং বাজে খাদ্যাভ্যাস কমিয়ে দেয় আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং আমাদের করে তোলে অসুস্থ। আমরা অনেকেই অনেক কিছু জানি এবং বুঝি... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')