home top banner

Health Tip

জেনে নিন গর্ভধারনের খুঁটিনাটি – পর্ব ৪
25 April,13
View in English
Tagged In:  pregnancy step  pregnancy care  

pregnantগর্ভাবস্থায় ওজন বৃদ্ধিঃ কতটুকু স্বাস্থ্যসম্মত

আপনি চান কিংবা না চান গর্ভাবস্থায় ওজন বৃদ্ধি প্রত্যাশিত। আপনার বাচ্চার শারীরিক বৃদ্ধি-উন্নতি নির্ভর করে এই ওজন বৃদ্ধির উপর। দুইজনের জন্য খাওয়া মানে এই নয় যে আপনাকে যা খুশি, যত খুশি, যতবার ইচ্ছা খেতে হবে। স্বাস্থ্যসম্মত জীবন-যাপন আর খাবারের মাধ্যমে ওজন বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রন করতে হবে যাতে বাচ্চার স্বাস্থ্য ভাল থাকে আর আপনিও প্রসব পরবর্তি অল্প সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত ওজন ছেঁটে ফেলতে পারেন।

ওজন বৃদ্ধির গাইডলাইন

গর্ভাবস্থায় ওজন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একই সাইজ, একই পরিমান সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। আপনার জন্য কতটুকু ওজন বাড়া দরকার তা’ নির্ভর করে বিভিন্ন ফ্যাক্টরের ওপর যেমন গর্ভপূর্ব ওজন, Body Mass Index (BMI)  এর উপর। সেই সাথে আপনার ও আপনার বাচ্চার স্বাস্থ্যও আপনার ওজন বাড়াতে ভূমিকা রাখে। এগুলো বিবেচনা করে আপনার জন্য কতটুকু ওজন বৃদ্ধি প্রয়োজন তা বলে দিবে আপনার ডাক্তার। তবে এখানে একটি সাধারন গাইডলাইন দেয়া হলঃ

গর্ভপূর্ব ওজন

অনুমোদিত ওজন বৃদ্ধি

কম ওজন (বিএমআই ১৮.৫ এর নীচে)

২৮-৪০ পাউন্ড (প্রায় ১৩-১৮ কেজি)

স্বাভাবিক (বিএমআই ১৮.৫ থেকে ২৪.৯)

২৫-৩৫ পাউন্ড (প্রায় ১১-১৬ কেজি)

বেশি ওজন(বিএমআই ২৫ থেকে ২৯.৯)

১৫-২৫ পাউন্ড (প্রায় ৭-১১ কেজি)

স্থুলকায় (বিএমআই ৩০ এর উপর)

১১-২০ পাউন্ড (প্রায় ৫-৯ কেজি)

 

যদি আপনি জমজ বা একাধিক বাচ্চা গর্ভধারন করেন সেক্ষেত্রেঃ


গর্ভপূর্ব ওজন

অনুমোদিত ওজন বৃদ্ধি

স্বাভাবিক (বিএমআই ১৮.৫ থেকে ২৪.৯)

৩৭-৫৪ পাউন্ড (প্রায় ১৭-২৫ কেজি)

বেশি ওজন(বিএমআই ২৫ থেকে ২৯.৯)

৩১-৫০ পাউন্ড (প্রায় ১৪-২৩ কেজি)

স্থুলকায় (বিএমআই ৩০ এর উপর)

২৫-৪২ পাউন্ড (প্রায় ১১-১৯ কেজি)

যখন আপনি স্থুলকায়

গর্ভপূর্ব অবস্থায় যদি আপনি স্থুলকায় কিংবা বেশি ওজনের হয়ে থাকেন তবে গর্ভাবস্থায় নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে যার মধ্যে আছে গ্যাস্টেশনাল ডায়াবেটিস আর উচ্চ রক্তচাপ। যদিও গবেষকরা গর্ভাবস্থায় কিছু ওজন বৃদ্ধি স্বাভাবিক এবং প্রয়োজনীয় বলে মত দেন তা হোন আপনি বেশি ওজনের কিংবা স্থুলকায়। তবে নিরাপদ ওজন বৃদ্ধির নিয়ন্ত্রনে আপনাকে অবশ্যই গাইডলাইন মেনে চলতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে আপনার ডাক্তারের পরামর্শই চূড়ান্ত। কারন আপনার যদি অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি ঘটে আর সেটা যদি প্রসব পরবর্তি সময়ে কমে না যায়, তাহলে সেটা আপনার জন্য দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি হয়ে দেখা দিতে পারে। আবার গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ওজন বাচ্চার স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ন হতে পারে, ডেলিভারি হতে সমস্যা হতে পারে।
যারা কম ওজন সম্পন্ন তাদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় অতি অবশ্যই গ্রহনযোগ্য মাত্রা পর্যন্ত ওজন বাড়াতে হবে। প্রয়োজনীয় ওজন বৃদ্ধি না হলে আপনার বাচ্চাও কম ওজনের হতে পারে, নির্ধারিত সময়ের আগেই জন্ম নিতে পারে।

গর্ভাবস্থায় ওজন বৃদ্ধি কোথায় যায়

গাইডলাইন অনুযায়ী যে ওজন বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে বাচ্চার ওজন ৭ থেকে ৮ পাউন্ড বা ৩ থেকে ৩.৫ কেজি বাদ দিলে বাকিটা কোথায় যায়।

বিশ্লেষকরা বলছেনঃ
বাচ্চাঃ ৭-৮ পাউন্ড বা প্রায় ৩-৩.৫ কেজি
স্তন বৃদ্ধিঃ ২ পাউন্ড বা প্রায় ১ কেজি
জরায়ুর বৃদ্ধিঃ ২ পাউন্ড বা প্রায় ১ কেজি
প্লাসেন্টাঃ ১.৫ পাউন্ড বা প্রায় ০.৭ কেজি
এমনিওটিক ফ্লুইডঃ ২ পাউন্ড বা প্রায় ১ কেজি
রক্ত বৃদ্ধিঃ ৩-৪ পাউন্ড বা প্রায় ১.৪-১.৮ কেজি
অন্যান্য ফ্লুইড বৃদ্ধিঃ ৩-৪ পাউন্ড বা প্রায় ১.৪-১.৮ কেজি
চর্বি জমেঃ ৬-৮ পাউন্ড বা প্রায় ২.৭-৩.৬ কেজি

কোন পর্যায়ে কতটুকু

গর্ভের প্রথম তিনমাস বেশিরভাগ মহিলাদের বেশি ওজন বৃদ্ধির প্রয়োজন পড়ে না। আপনি যদি ভাল স্বাস্থ্যের অধিকারী হন তবে প্রথম কয়েক মাস কয়েক পাউন্ড বা ২ কেজি’র কম ওজন বাড়লেই যথেষ্ট। আপনাকে স্বাভাবিক খাবার থেকে ১৫০-২০০ ক্যালরী সম্পন্ন খাবার বেশি খেতে হবে।

তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে ধারাবাহিক ওজন বৃদ্ধি ঘটাতে হবে। তার মানে এই পর্যায়ে প্রসবের পূর্ব পর্যন্ত প্রতি মাসে কমপক্ষে ৩-৪ পাউন্ড বা প্রায় ১.৪-১.৮ কেজি করে বাড়াতে হবে। অতিরিক্ত প্রায় ৩০০ ক্যালরী সম্পন্ন খাবার প্রয়োজন কাংখিত ওজন বৃদ্ধির জন্য।

সৌজন্যেঃ হেলথ প্রায়র ২১

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: Getting Pregnant Part 5
Previous Health Tips: Mental Health Activities

More in Health Tip

নিজের মত বাঁচুন

নিজের মত বাঁচুন আমাদের মন ভালো থাকলেই শরীর ভালো থাকে। দেহের সুস্থতার থেকে মনের সুস্থতা অনেক বেশি জরুরি। কারণ আমাদের মনই যে  কোনো ব্যাপারে প্রথমে সাড়া দেয়। আর তাই শুধু শারীরিক সুস্থতা ও কায়িক পরিশ্রম দিয়েই একজন মানুষ সবসময় ভালো থাকতে পারে না, যদি তার আত্মিক বা মানসিক স্বাস্থ্য ভালো না হয়। মন... See details

সকালের নাস্তায় রাখুন স্বাস্থ্যকর ৭ টি খাবার

সকালের নাস্তা হলো সারাদিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন খাবার। সকালের নাস্তাটা অন্য বেলার খাবারের চাইতে তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর এবং ভারী হতে হয়। সারারাত শেষে সকাল বেলা রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ সবচেয়ে কম থাকে। গ্লুকোজ হলো মস্তিষ্কের জ্বালানী। নাস্তা খাওয়ার পর রক্তের গ্লুকোজ স্বাভাবিক হয় এবং মস্তিষ্ক ঠিক মত... See details

বেকিং পাউডারের সাথে রূপচর্চার আবার কি সর্ম্পক?

অনেকেই হয়তো ভাবছেন, বেকিং পাউডারের সাথে রূপচর্চার আবার কি সর্ম্পক? বেকিং পাউডার দিয়ে তো রান্না ঘরে মজার মজার খাবার তৈরি হয়। কিন্তু জেনে অবাক হবেন, রূপচর্চার ক্ষেত্রেও বেকিং পাউডারের রয়েছে অনেক উপকারী দিক। চলুন জানা যাক বেকিং পাউডারের উপকারিতা সর্ম্পকে। ফেসওয়াস হিসেবে বেকিং... See details

একটাই সমাধান: অ্যালোভেরা

আমরা বিভিন্ন সময় নিজেদের শরীর এবং ত্বকের নানা সমস্যা নিয়ে চিন্তিত থাকি। কেউ হয়তো অনেক মোটা হয়ে যাচ্ছি, ব্যায়াম করার সময় নেই। কারও বা ত্বকে কালো দাগ, ব্রণ বা শুষ্কতা দূর করার উপায় খুঁজছি। আর চুলের সমস্যা তো মনে হয় সবচেয়ে বেশি, চুল পড়ে যাচ্ছে, নিস্তেজ আর রুক্ষভাব কিছুতেই যাচ্ছে না। সত্যি... See details

জল, রোদ আর আপনার সন্তান

‘সৃজনী তার রুমের একপাশে বসে নিঃশব্দে কাঁদছে। রাতে খাবারটা দেওয়া হয়েছে সেই কবে। বুয়া বার বার খেতে বলার পরও সে কোনো ভাবেই খাবার টেবিলে যাচ্ছে না। স্কুল থেকে একটুদেরিতে বাসায় ফেরার কারণে মায়ের ছোট্ট একটি তীর্যক মন্তব্যে সৃজনী দারুন আঘাত পেয়েছে।’   আমরা... See details

চুলকানি / ইনফেকটেড স্ক্যাবিস

প্রশ্ন : আমার শিশুর নাম রাজীব, বয়স ১১ বছর। মাদ্রাসায় পড়ে, হোস্টেলে থাকে। গত ২-৩ সপ্তাহ ধরে তার সারা গায়ে পানিভর্তি গোটা এবং সঙ্গে কিছু শক্ত দানা  হয়েছে। খুব চুলকায় এবং রাতে বেশি চুলকায়। এখন পুরো পরিবারেই কম-বেশি চুলকানি আছে। প্রতিকার কী? উত্তর : চুলকানির পানির গোটা ও শক্ত দানা সাধারণত... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')