home top banner

Health Tip

ব্রণ, মেছতা বা কালো দাগ দূর করার কার্যকর ২১ উপায় (পর্ব – ২)
18 June,13
View in English

৩। সুগন্ধমুক্ত Non-Comedogenic  মেইকআপ এবং স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন

Comedogenic মেইকআপ বলতে ঐ ধরনের মেইকআপ বুঝায়, যাতে এমন সব উপাদান থাকে যা ত্বকের ছিদ্র বন্ধ করে দিতে পারে। ফলে ত্বকে ব্রণ-মেছতা কিংবা লাল বা কালো ছোপ ছোপ দাগ তৈরী হয়। আর যখনই কোন মেইকআপ উপাদান কিংবা সিয়াবেসিয়াস গ্রন্থি থেকে নির্গত সিবাম ত্বকের ছিদ্রপথ বন্ধ করে দেয়, তখনই সেখানে ব্যাকটেরিয়া বাসা বাধে, বংশবিস্তার করে।
কিছু কিছু স্কিন কেয়ার ও মেইকআপ প্রোডাক্ট ত্বকের এইসব ছিদ্রপথ বন্ধ করে দেয় এবং ত্বককে চর্বিযুক্ত বা পিচ্ছিল করে ফেলে। এতে ত্বকে রোগ সংক্রমন, চুলকানি, প্রদাহ, এবং ছোপ ছোপ দাগ বা মেছতা দেখা দেয়ার সম্ভাবনা বহুগুন বেড়ে যায়। এসব কারনে দরকার Non-Comedogenic  প্রোডাক্ট যা ত্বকের ছিদ্রপথ বন্ধ করবে না এবং ত্বককে ভাল রাখতে সহায়তা করবে, এমন সব প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন। প্রোডাক্টটি Non-Comedogenic  কি না, তা মোড়কের গায়ে লেখা থাকে। এগুলোকে Non-Occlusive  মেইকআপ প্রোডাক্টও বলা হয় যা কসমেটিকস ব্যবহারের কারনজনিত মেছতা হতে দেয় না। এরই সাথে সুগন্ধহীন প্রোডাক্ট বেছে নিতে পারেন যদি আপনার সুগন্ধযুক্ত প্রোডাক্টে চুলকানি দেখা দেয় কিংবা এলার্জির সমস্যা থাকে।

৪। হঠাৎ করে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার বন্ধ করবেন না
যদিও বৈপরিত্য আছে, তবুও অনেকেরই বিশ্বাস যে ব্রণ-মেছতা প্রবণ ত্বক আর্দ্র রাখা প্রয়োজন। ত্বকের অতি প্রয়োজনীয় এই ময়েশ্চার বা আর্দ্রতা না থাকলে তা সিবেসিয়াস গ্রন্থিকে অতিরিক্ত সিবাম বা তেল নিঃসরনে উদ্দিপ্ত করতে পারে। যা থেকে পুনরায় ব্রণ-মেছতা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে।
কাজেই এমন প্রোডাক্ট বাছাই/পছন্দ করুন যা অয়েল-ফ্রি, হালকা, Non-Comedogenic,  পানি বা জেলযুক্ত ময়েশ্চারাইজার থাকে। যা আপনার ত্বককে আর্দ্র রাখে, তৈলাক্ত বা পিচ্ছিল করে না। ক্লিঞ্জিং কিংবা টোনিং করার পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। ব্রণ-প্রবন ত্বকের জন্য কিছু ব্র্যান্ড যেমন ‘Neutrogena, Sebamed  ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন।

৫। ব্রণ প্রতিরোধে ব্যায়ামকে ‘হ্যাঁ’ বলুন
বাড়তি চাপ বা অশান্তি ব্রণ-মেছতার অন্যতম কারন হিসাবে বিবেচনা করা হয়। ক্রমবর্ধমান কর্মব্যস্ততা আর উত্তেজনাপূর্ন কাজের চাপ এই অশান্তিকে আরো বহুগুন বাড়িয়ে দেয়। বেশি না, দৈনিক মাত্র ত্রিশ মিনিট ব্যায়াম আপনার শরীরকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি আপনাকে রাখে দূর্ভাবনামুক্ত এবং চাপমুক্ত – যা কিনা হরমোন নিঃসরনকেও নিয়ন্ত্রনে রাখে।
যখন আপনি ব্যায়াম করবেন, আপনি প্রচুর ঘামবেন। এতে আপনার ত্বকের ছিদ্র পরিস্কার হয়ে যাবে। তবে ঘামার পর অবশ্যই পরিস্কার তোয়ালে দিয়ে মুখমন্ডল আর শরীর মুছে ফেলুন। সেই সাথে সম্ভব হলে গোসল সেরে ফেলুন। ডীপ ব্রেদিং বা দীর্ঘ শ্বাস নেয়াও এক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক।

৬। বারবার মুখে হাত বুলানো বা স্পর্শ করা থেকে যথাসম্ভব বিরত থাকুন
যদিও অনেক সময় অনিচ্ছাস্বত্তেও হাত বারবার মুখমন্ডল স্পর্শ করে। তবে যতটা সম্ভব এর থেকে দূরে থাকুন। কারন আমরা সবাই জানি বিভিন্ন স্থান ধরা, স্পর্শ করার ফলে আমাদের হাতে প্রচুর জীবানুর সংক্রমন ঘটে। আর ঐ হাতে গাল, কিংবা চিবুক বা মুখমন্ডলের যেকোন স্থানে স্পর্শ করার ফলে ঐসব স্থানেও সহজেই ব্যাকটেরিয়ার আক্রমন হতে পারে। মুখের দাগ কিংবা ব্রণে অযথা চাপ দেয়া বা খোঁটানো থেকে বিরত থাকুন। এতে ঐসব স্থানে আরো সংক্রমন হওয়া থেকে যেমন বাঁচবে তেমনি দগদগে বাজে দাগ বা ক্ষতচিহ্ন আস্তে আস্তে কমতে থাকবে।
বারবার খোঁটানো বা চাপ দিয়ে শাঁসটাকে বের করে আনা হলে বিশ্রি ক্ষতচিহ্নগুলো আরো বেড়ে যেতে পারে। এমনকি স্থায়ী দাগে পরিনত হতে পারে। তাই মুখের ত্বক স্পর্শ করতে হলে অবশ্যই তার পূর্বে এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল সোপ দিয়ে হাত ধুয়ে নিন। মাথার চুলও যাতে এলোমেলোভাবে মুখমন্ডলে এসে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখুন। সম্ভব হলে বেনি করে বেধে রাখুন।

৭। স্বাস্থ্যকর এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খান
জাঙ্ক ফুড বা আজেবাজে খাবার এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার থেকে দূরে থাকুন। বিশেষ করে ভাজা-পোড়া খাবার থেকে। কারন এসব খাবারে স্যাচ্যুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকে। দেহকে আর্দ্র রাখতে, রক্তের দূষিত কিংবা বিষাক্ত বর্জ্য দূর করতে প্রচুর পানি পান করুন। এতে কোষ্ঠকাঠিন্যও দূর হয়।
প্রতিদিন কমপক্ষে একটি তাজা বা টাটকা ফল, সবুজ শাক, বাদাম, ভিটামিন ‘এ’ ও ‘সি’ সম্মৃদ্ধ খাবার আর দানাদার শস্যজাতীয় খাবার গ্রহন করুন। এসব খাবার ত্বকের তৈল নিঃসরন নিয়ন্ত্রন করে। আর নিঃসন্দেহে এটি ব্রণ-মেছতার প্রাদুর্ভাব থেকে আপনাকে রক্ষা করবে। 
যখনই ব্রণ নিয়ন্ত্রনের প্রশ্ন আসে, তখন এই পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত জরুরী হয়ে দেখা দেয়।
এরপর পড়ুন ব্রণ নিয়ন্ত্রনে প্রাকৃতিক পদ্ধতি...
 
 

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: How to Prevent and Remove Pimples/Acne – 21 Effective Methods Part - 3
Previous Health Tips: How to Prevent and Remove Pimples/Acne 21 Effective Methods (Part – 1)

More in Health Tip

হার্ট এটাক প্রতিরোধে

সম্প্রতি দীর্ঘ ১৬ বছরের এক গবেষণায় দেখা গেছে যারা সকালে খাবার ঠিকভাবে না খেয়েই দিন শুরু করেন, তাদের হার্টএটাকওঅন্যান্যহৃদরোগেরঝুঁকিঅন্যদেরতুলনায়২৭শতাংশবেশি।এছাড়াওযারাধূমপানওঅন্যমাদকেআশক্তএবংকমশারীরিকপরিশ্রমকরেন, অন্যান্য অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস রয়েছে, তারাও হৃদরোগের দিকেই ঝুঁকছেন। সময় থাকতে... See details

সকালে রুটি-ভাজি, না দুধ-কর্নফ্লেকস

এক মগ কফি হাতে নিয়ে আয়েশ করে যখনই একজন বসলেন টেলিভিশনের সামনে, তখনই আরেকজন এসে একরকম ছিনিয়ে নিলেন রিমোটটা, তিনি তাঁর পছন্দের অনুষ্ঠান দেখবেন। এক দিন পছন্দের নাটক না দেখলে কী হয়, পরে তো এটি আবার দেখাবেই। কিংবা খেলার স্কোর কি ইন্টারনেট থেকে জেনে নেওয়া যায় না?  স্বামীর সকালের নাশতায়... See details

রমজানের খাদ্যাভ্যাস

রমজান মাসে খাদ্যগ্রহণে সংযমী হওয়া প্র্রয়োজন। পাশাপাশি এ মাসের উপযোগী স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও ডায়েট সম্পর্কে কিছু তথ্যও রোজাদারদের জানা থাকলে ভালো হয়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যগ্রহণ এবং নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক অনুশীলন রমজানে একই সঙ্গে আধ্যাত্মিক ও শারীরিক চাহিদা মেটাতে পারে। অন্য মাসের... See details

প্রশ্ন : গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থেকে রাহনুমা খানম (৩১) লিখেছেন কয়েকদিন থেকে তারঘন ঘন প্রস্রাব হচ্ছে। ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ পেলেও প্রস্রাব ঠিকমতো হচ্ছেনা। তলপেটে কিছুটা অস্বস্তি বা ব্যথা আছে। সেই সঙ্গে চুলকানিসহ থকথকে সাদাস্রাব যাচ্ছে। এ সমস্যার সমাধান জানতে চ

সমাধান : সম্ভবত আপনার প্রস্রাব ইনফেকশন ও সেই সঙ্গে ক্যানডিডিয়েসিস বাছত্রাকের সংক্রমণ হয়েছে। এ জন্য চিকিৎসকের পরামর্শমতো আপনাকেঅ্যান্টিবায়োটিক বা ছত্রাকের জন্য অ্যান্টিফাংগাল ওষুধ খেতে হবে। মেয়েদেরসাধারণত প্রস্রাব ইনফেকশন বেশি হয়ে থাকে। এ জন্য আপনাকে প্রচুর পরিমাণেপানি জাতীয় খাবার খেতে হবে। টয়লেট... See details

সেই সাত বিষয় যা জীবনসঙ্গীকে অবশ্যই বলবেন

একটি সম্পর্ককে সফলভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সংলাপ খুবই জরুরি। এমন অনেক বিষয় আছে, যা হয়তো প্রিয় মানুষটিকে বর্তমান মুহূর্তে বলাটা একটু অস্বস্তিকর। কিন্তু তার পরও সম্পর্কের সুন্দর একটি ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ভেতরে চেপে না রেখে অকপটে তা বলে ফেলাই উচিত। সম্প্রতি টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এমন... See details

শিশুর জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হলে কী করবেন?

এ ধরনের সমস্যায় শিশুকে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসক দেখানো উচিত। তবে চিকিৎসক দেখানোর আগে ও পরে মা-বাবারও করণীয় আছে। মনে রাখতে হবে, জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হলে শিশুর শরীরের তাপমাত্রা কমাতে হবে। কারণ জ্বর কমে গেলে খিঁচুনি বন্ধ হয়ে যায়। শরীরের তাপমাত্রা কমানোর জন্য পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে চিপড়ে শিশুর... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')