home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

অটিস্টিক শিশুর চিকিৎসা ও পুনর্বাসন
১৯ সেপ্টেম্বর, ১৩
Tagged In:  Autistic child  
  Viewed#:   284

উন্নয়নশীল দেশ আমেরিকার মতো বাংলাদেশেও অটিস্টিক শিশুর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে। কিন্তু হতাশার বিষয় এই, এসব শিশুর চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দেশে পূর্ণাঙ্গ কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। যদিও বেসরকারিভাবে কিছু স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যা ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হলেও এই শিশুদের শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মোহাম্মদপুর বাবর রোডে অবস্থিত অকুপেশনাল থেরাপি অ্যান্ড সেনসরি ইন্টিগ্রেশন সেন্টার একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিষ্ঠান, যা অটিজমসহ শিক্ষণে প্রতিবন্ধিতামূলক শিশুদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পূর্ণাঙ্গ সেবা প্রদানের জন্য কাজ শুরু করেছে।

আমাদের দেশের চিকিৎসকেরাও এসব শিশুর ব্যাপারে খুব বেশি জ্ঞাত না হওয়ায় অটিস্টিক শিশুদের শনাক্তকরণ করতে অনেক সময় লেগে যায়, যার ফলে এদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনও দেরিতে শুরু হয়। কিন্তু সমীক্ষায় দেখা গেছে, তাড়াতাড়ি এদের চিকিৎসা (ঊধৎষু ওহঃবৎাবহঃরড়হ) শুরু করার ফলে এদের কর্মদক্ষতা, আচরণ ও কমিউনিকেশনের অনেক উন্নতি হয়েছে। তাই আমরা যদি এই শিশুদের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য জানতে পারি, তাহলে অতি সহজে অটিস্টিক শিশুদের চিহ্নিত করে তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন করা সম্ভব।

অটিস্টিক শিশুদের চেনার উপায় অটিস্টিক শিশুদের মধ্যে সাধারণত পাঁচটি আচরণগত ও যোগাযোগের সমস্যা প্রায়ই লক্ষ করা যায় :

১. কমিউনিকেশন (যোগাযোগ) করতে সমস্যা : উদাহরণ : কথাবার্তা একদম বলতে না পারা বা পুনরাবৃত্তিমূলক কথা বলা এবং আর্টিকুলেশন করতে সমস্যা -তোতলিয়ে কথা বলার ফলে সামাজিক মূল্যায়ন কমে যায়, ফলে যোগাযোগ রক্ষা করার সময় খুব আবেগময় হয়ে ওঠে।

২. মানুষ বা বস্তুর সাথে সম্পর্ক করতে সমস্যা : উদাহরণ : আই কন্টাক্ট না করতে পারা বা খুব কম পারা এবং অন্য শিশু বা বয়স্কদের সাথে না মেশা।

৩. স্বাভাবিক বিকাশগত (ডেভেলপমেন্ট) সমস্যা : -স্বাভাবিকভাবে শারীরিক বৃদ্ধি (মটর), ভাষা এবং সামাজিক ধাপ বিকাশ হতে পারে না। উদাহরণ : একটি শিশু খুব ভালোভাবে বসতে পারছে, কিন্তু দাঁড়াতে বললে সে আর পারছে না বা দেরি হচ্ছে।

৪. নিজস্বভাবে চলনে (মটিলিটি) সমস্যা : কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যার জন্য অটিস্টিক শিশুরা আপনাআপনি বা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে চলতে সমস্যা হয়। Ñ হাতের আঙুল আন্দোলিত বা নড়াচড়া (ফিকিং) করা এবং পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে হাঁটা ও শরীর দোলানো।

৫. সেনসরি প্রসেসিং এবং পারসেপশন করতে সমস্যা : অটিজম আক্রান্ত শিশুদের ৩০ বছর পর্যন্ত সেনসরি প্রসেসিং এবং পারসেপশন করতে সমস্যা হয়। (প্রধানত দেখা, শোনা, ব্যালেন্স বা ভারসাম্য)।

ডাক্তার এ জিন আয়ারস দুই ধরনের সেনসরি সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন :

১. রেজিস্ট্রেশন বা অরিয়েন্টেশন অব সেনসরি ইনপুট : ফলে দেখা যায় শিশুর প্রতি যে সেনসেশন যাচ্ছে বা উপস্থাপন হচ্ছে তা সে সঠিকভাবে হয়তো সাথে সাথে (১ মিনিটের মধ্যে) প্রকাশ করতে পারছে না, কিন্তু পরক্ষণেই (১ ঘণ্টা বা এক দিন পর) একই ধরনের অনুভূতি উপস্থাপনের ফলে কম বা বেশি প্রকাশ করছে।

২. কন্ট্রোল বা মডুলেশন অব স্টিমুলাস : একই রকমভাবে দেখা যায়, শিশু এক সময় ঠিকই সেনসেশন কন্ট্রোল করছে, কিন্তু পরক্ষণেই তা কন্ট্রোল বা মডুলেট করতে পারছে না।

চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য অত্যন্ত অত্যাবশ্যকীয় অকুপেশনাল থেরাপি প্রফেশনালরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশে অটিস্টিক শিশুদেরকে সেবা প্রদান করতে শুরু করেছে। অকুপেশনাল থেরাপি হচ্ছে চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি স্বীকৃত বিভাগ যা একটি শিশুর শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিগত উভয় দিকের সমস্যারই চিকিৎসা প্রদান করে থাকে। এই চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে শারীরিক ব্যায়াম, দক্ষতার প্রশিক্ষণ, উদ্দেশ্যমূলক কাজের ব্যবহার। এ ছাড়া সহায়কদ্রব্য প্রদান, পরিবেশের পুনর্বিন্যাস বিশেষ করে স্কুল ও বাড়িতে কখনো কখনো কর্মক্ষেত্রের পরিবেশের পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে শিশুদেরকে অধিকতর দৈনন্দিন কাজ ও পড়াশোনায় সক্ষম করতে সহায়তা করা হয়।

অটিস্টিক শিশুদের ক্ষেত্রে অকুপেশনাল থেরাপি চিকিৎসা :

অটিস্টিক শিশুদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য অকুপেশনাল থেরাপি অত্যাবশক। অকুপেশনাল থেরাপিস্ট (ওটি) প্রথমেই অটিস্টিক শিশুর ডেভেলপমেন্টাল, ফাংশনাল, কগনেটিভ, কমিউনিকেশন, সাইকোসোশ্যাল, সেনসরি প্রসেসিং অ্যান্ড পারসেপশন অ্যাসেসমেন্ট করে সমস্যা নিরূপণ করেন। এ জন্য ওটি কয়েকটি স্ট্যান্ডারাইজড টেস্ট করে থাকেন, যার মধ্যে এসআইপিটি অন্যতম। তারপর অকুপেশনাল থেরাপিস্ট সেনসনি ইন্টিগ্রেশন ট্রিটমেন্ট এপ্রোচ, বিহেভিওরাল মডিফিকেশন, কনডাকটিভ এডুকেশনের মাধ্যমে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে চিকিৎসা ও পুর্নবাসন শুরু করেন। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় এনভায়রনমেন্টাল মোডিফিকেশন বা এডাপটেশন, অগমেন্টেটিভ অ্যান্ড অল্টারনেটিভ কমিউনিকেশন ডেভেলপমেন্ট, এডিএল প্লান অকুপেশনাল থেরাপি চিকিৎসার অন্তর্ভুক্ত।

সেনসরি ইন্টিগ্রেশন কী?

সেনসরি ইন্টিগ্রেশন হচ্ছে গঠনগতভাবে অনুভূতির ব্যবহার। আমাদের অনুভূতি আমাদের তথ্য দেয় যার ভিত্তিতে আমরা পৃথিবীতে কাজ করি। এই সেন্স বা অনুভূতি (ভেসটিবুলার, টেকটাইল, প্রোপিওচেপটিভ, ভিজুয়াল, অডিটরি গ্যাস্ট্রেটরি, অলফেকটরি) আমাদের শরীরের ভেতর এবং বাহির উভয়ের উদ্দীপনা থেকেই আসে। সেনসরি ইন্টিগ্রেশন স্নায়ুতান্ত্রিক তথ্য গঠন করার প্রক্রিয়া যে তথ্য আমাদের চারপাশ থেকে আমরা পাই। অন্য কথার সেনসরি ইন্টিগ্রেশন হচ্ছে একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়া (ট্রিটমেন্ট অ্যাপ্রোচ) যা শিক্ষণের বা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুদের পরিপূর্ণ মানসিক শক্তি, পরিপূর্ণতা ও মেধা সর্বোচ্চ পর্যায় ব্যবহার করার সুযোগ করে দেয়। ১৯৬০ সালে অকুপেশনাল থেরাপিস্ট ডাক্তার এ জিন আয়ারস এই চিকিৎসাপদ্ধতির উদ্ভাবন করেন। অকুপেশনাল থেরাপিস্ট ভেসটিবুলার, টেকটাইল, প্রোপিওচেপটিভ এই তিনটি প্রিমিটিভ এবং প্রাথমিক সেন্সকে নিয়ে সেনসরি ইন্টিগ্রেশন অ্যাপ্রোচের মাধ্যমে অটিস্টিক শিশুদের চিকিৎসা শুরু করে থাকেন।

সেনসরি ইন্টিগ্রেশন ট্রিটমেন্ট গাইড লাইন

চিকিৎসার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা অন্যদেরসহ (পিতামাতা, শিক্ষক) যা পরিমাপ যোগ্য, পর্যবেক্ষণ ও অর্জন সম্ভব। ট্রিটমেন্ট প্রোগ্রাম বিভিন্ন ধাপে শুরু করা ( যেমন : সরাসরি থেরাপি, মনিটরিং এবং কনসালটেশন। অন্য পেশার লোকদের সাথে চিকিৎসার উদ্দেশ্য নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা। থেরাপি প্রদান এর সাথে শিশুর উন্নতি এবং রেসপন্স মনিটর বা পর্যবেক্ষণ করা। সেনসরি ইন্টিগ্রেশন ট্রিটমেন্ট (চিকিৎসা)  সাধারণত দুই ভাবে সেনসরি ইন্টিগ্রেশন চিকিৎসা দেয়া হয় : কাসিক্যাল সেনসরি ইন্টিগ্রেশন ট্রিটমেন্ট ব্যালেন্স করা স্ট্রাকচার (গাঠনিক) এবং ফ্রিডম (স্বাধীনতা) এর মধ্যে, অ্যাক্টিভ পার্টিসিপেশন * বিভিন্ন থেরাপিউটিক কৌশল প্রয়োগ করে, উদাহরণ : ব্রাশিং থেরাপি, লেপোপ্রেসিং অ্যাক্টিভিউ, জয়েন্ট কম্প্রেশন, স্কুটার, বোর্ড, সুয়িং, ভাইব্রেশনাল টয়, রকিং, স্পিনিং ইত্যাদি।

আটিস্টিক শিশুদের মা-বাবার জন্য পরামর্শ 

আশার বিষয় এই যে বাংলাদেশে অকুপেশনাল থেরাপিস্টের সংখ্যা খুব কম হলেও কেউ কেউ অটিজম ও সেনসরি ইন্টিগ্রেশন নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। তাই যদি আপনার শিশুর মধ্যে উল্লিখিত অটিজমের বিশেষ বৈশিষ্ট্য লক্ষ করেন তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনার শিশুকে একজন অভিজ্ঞ অকুপেশনাল থেরাপিস্টের মাধ্যমে তার সেনসরি ইন্টিগ্রেটিভ ডিফেনসিভনেস এবং অকুপেশনাল পারফরম্যান্স স্কিলসের অ্যাসেসমেন্ট করে তার এডুকেশনাল এবং অন্যান্য ডেভেলপমেন্টাল প্লান (আচরণ, যোগাযোগ) করা উচিত। এর ফলে আপনার কোমলমতি শিশুটি আগের চেয়ে বেশি গঠনমূলক আচরণ করতে পারবে এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে আরো বেশি দক্ষতা অর্জন করতে পারবে। আমরা যদিও অনেকেই মনে করছি যে অটিজমের কোনো চিকিৎসা নেই; কিন্তু গবেষণার দেখা যায় সে সেনসরি ইন্টিগ্রেশন চিকিৎসার মাধ্যমে এই শিশুদের আচরণগত ও যোগাযোগের এবং শিক্ষণের অনেক উন্নতি হয়েছে।

সূত্র - দৈনিক নয়া দিগন্ত

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: Depression with diabetes may speed mental decline
Previous Health Tips: অপারেশনের পর রোগীকে ডিম ও দুধ খেতে দেয়া

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')