home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

ত্বকের যত্ন নিয়ে ভাবছেন! শুরু করুন এখনই
২০ জুলাই, ১৩
View in English

আগে কখনো ত্বকের যত্ন নেন নি, ভাবছেন খুব দেরী হয়ে গেছে! মেঘে মেঘে অনেক বেলা হয়ে গেছে, আপনার বয়স মধ্য বিশে পৌঁছেছে। কিংবা আপনার ত্বকের বয়স বেড়ে যাচ্ছে আর আপনি এখনো খেয়ালই করেন নি। আপনার ফেভারিট প্রোডাক্টগুলো মনে হচ্ছে কাজ করছে না। হ্যাঁ, আপনার জিন, দৈনন্দিন অভ্যাস, রোদে ঘুরে বেড়ানো – অনেক কারনই এই পরিবর্তনের জন্য দায়ী। সুতরাং আর দেরী নয়, বয়স বিবেচ্য নয়। ত্বককে মসৃন, তুলতুলে আর উজ্জ্বল করতে আজই শুরু করুন ত্বকের যত্ন। প্রয়োজনে একজন দক্ষ ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিতে পারেন।

সুপ্রতিষ্ঠিত বা নামী কোন ক্লিনজার ব্যবহার করুন

শুষ্ক ত্বকের জন্য একটু ক্রীমযুক্ত, বা অয়েল-ফ্রি, ফেনাযুক্ত ক্লিনজার ব্যবহার করুন। তবে আপনার ত্বক যদি সংবেদনশীল হয়, ইরিটেশন হয়, তবে যেকোন ধরনের ক্লিনজার ব্যবহারের আগে একজন দক্ষ ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিন। ক্লিনজার ব্যবহারের পর ঈষদুষ্ণ পানি কিংবা ঠান্ডা পানি দিয়ে ত্বক পরিস্কার করুন। গরম পানি ব্যবহারে আপনার ত্বকের স্বাভাবিক ময়েশ্চার দূর করে দিতে পারে। ধোয়ার পর হাতের তালু দিয়ে আস্তে আস্তে চাপ দিয়ে শুকিয়ে নিন। কাপড় বা অন্য কিছু দিয়ে মুছে শুকাবেন না।

ময়েশ্চারাইজার

ময়েশ্চারাইজার আপনার ত্বকের সুরক্ষা দেয় আর ত্বকের শ্রীবৃদ্ধি ঘটায়। আপনার ত্বক যদি তৈলাক্ত হয় কিংবা ত্বকে ব্রণ বা কালো দাগ ইত্যাদি থাকে, তাহলে প্রতিদিন হালকা অয়েল-ফ্রি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। শুষ্ক ত্বকে দিনে একবারের জায়গায় একাধিকবার ব্যবহার করতে হতে পারে। ব্যবহারের পূর্বে ত্বক যদি ভেজা থাকে, তাহলে হাতে তালু দিয়ে চাপ হালকা চাপে শুকিয়ে নিন এবং ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

প্রতিদিন সান স্ক্রীন

আকাশ মেঘে ঢাকা কিংবা আপনি ঘরে কাজ করছেন – যেখানেই থাকুন দিনের বেলা আপনার প্রয়োজন সান প্রোটেকশন। কারন সূর্যরশ্মি মেঘকে যেমন ভেদ করতে পারে, তেমনি জানালা দিয়েও আপনার ঘরে প্রবেশ করতে পারে। কাজেই আপনি দিনের বেলা সূর্যরশ্মিকে আড়াল করতে পারবেন না। আজকাল অনেক ময়েশ্চারাইজারে সান স্ক্রীন থাকে। যদি আপনার ময়েশ্চারাইজারে সান স্ক্রীন না থাকে বা সাপোর্ট না করে, সেক্ষেত্রে ব্রড স্পেকট্রামযুক্ত SPF-30  জাতীয় কোন সান স্ক্রীন বেছে নিন। সান স্ক্রীন লাগানোর সময় ঠোঁটে লাগাতে ভুলবেন না যেন! আর আপনি যদি বেশি ঘামেন অথবা বেশি সময় ধরে বাইরে থাকেন, তাহলে একাধিকবার সান স্ক্রীন ব্যবহার করবেন।

একই সাথে একাধিক প্রোডাক্টের ব্যবহার

হ্যাঁ, এটা করতে পারেন। পরিস্কার ত্বকে প্রথমে ক্রীম অথবা জেল লাগান (বিশেষজ্ঞ কিংবা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী)। সকালবেলাঃ ময়েশ্চারাইজার এরপর সানস্ক্রীন (যদি আপনার ময়েশ্চারাইজার সানস্ক্রীন সাপোর্ট না করে)। এরপরে মেইক-আপ (যদি আপনি অভ্যস্থ হন) ব্যবহার করুন। রাতেরবেলাঃ এন্টি-এজিং প্রোডাক্ট (যদি নিয়মিত ব্যবহার করেন), এরপর সানস্ক্রীন ছাড়া ময়েশ্চারাইজার।

মরা কোষ দূর করুন

এক্সফোলিয়েট পদ্ধতি আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। ত্বকের মরা কোষ দূর করার জন্য নরম ওয়াশক্লোথ, স্পিনিং ব্রাশ দিয়ে মৃদু ঘষে ধুয়ে ফেলুন। একাজে সিনথেটিক বীড (ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পুঁতির মালার মত গুঁটি দিয়ে তৈরী মাজুনি বা ছোবা বিশেষ) ব্যবহার করতে পারেন। আপনার ত্বক যদি হয় শুষ্ক, তবে সপ্তাহে একবার এধরনের এক্সফোলিয়েট করুন। আর তৈলাক্ত ত্বক হলে সপ্তাহে একবার বা দুইবার করুন। আপনার ত্বকে যদি ব্রণ থাকে কিংবা ত্বক যদি সংবেদনশীল হয়, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এক্সফোলিয়েট কখনো কখনো ত্বকে জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি করতে পারে।

আবিষ্কার করুন তরতাজা ত্বক

কিছু কিছু স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট আছে যা মরা কোষ দূর করে আপনার ত্বকে আনে লাবন্য, ত্বককে করে আরো উজ্জ্বল। একনি মেডিসিন এবং এন্টি-এজিং প্রোডাক্টগুলোতে থাকে স্যালিসাইলিক এসিড অথবা থাকে রেটিনয়েডস। এতে আরো থাকে মাইক্রোডার্মাব্রাসন বা কেমিকেল পীল - এগুলো মরা কোষ দূর করে। ডাক্তারের ফর্মুলা কিংবা হোম-মেইড ফর্মুলা – দুটোতেই এসব উপাদান ব্যবহৃত হয়। যদিও হোম ফর্মুলাতে খুব বেশি পার্থক্য দেখা যায় না।

কালো ত্বকে চাই টিএলসি কেয়ার

আফ্রিকান-আমেরিকান কিংবা হিস্পানিওয়ালাদের ত্বক সূর্যের আলোতে অন্যদের থেকে বেশি সংবেদনশীল। শুধু সূর্যের আলোতেই নয়, বিভিন্ন কেমিকেলেও সংবেদনশীলতা আছে তাদের। তাদের জন্য দরকার একেবারে সিম্পল আর মৃদু স্কিন কেয়ার রুটিন। যেমন ময়েশ্চার কিংবা সানস্ক্রীন ব্যবহার ছাড়া বাইরে যাওয়া একদম ঠিক নয়। এখনও যদি এদের কারো ত্বক রোদে না পুড়ে থাকে, তবুও বাইরে যাওয়ার আগে অবশ্যই ত্বকের সুরক্ষায় সানস্ক্রীন ব্যবহার করে বের হওয়াটা ভাল। এতে ত্বকের ক্যানসার, ত্বকের বয়সের ভাঁজ, এবং কালো দাগ পড়ার সম্ভাবনা কম থাকবে।

খাবারের মেন্যু

আপনার ত্বকের প্রতিটি স্তরেরই পুষ্টি দরকার যেমনটি দরকার শরীরের অন্যান্য অংশের। বেশ কিছু গবেষনায় প্রমানিত হয়েছে যে, কিছু কিছু পুষ্টি ত্বকের যেমন উন্নতি ঘটায়, তেমনি ত্বককে রাখে সুরক্ষিত। ক্রীম ও সিরাম জাতীয় খাবারে ভিটামিন ‘সি’ আর ‘ই’ থাকে যা ত্বককে সূর্যের আলোর ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। ভিটামিন ‘এ’ বা ‘বি-৩’ ত্বকের ক্ষয় পূরণ করে। সুতরাং ত্বকের সুরক্ষায় আপনার খাবারে এসব উপাদান যথাযথ মাত্রায় আছে কি-না যাচাই করে নিন।

অর্গানিক উপাদান সবসময় ভাল নাও হতে পারে

এমন কোন বৈজ্ঞানিক প্রমান নেই যে ত্বকের যত্নে সকল অর্গানিক কিংবা ন্যাচারাল প্রোডাক্ট নিরাপদ। কোন কোন ক্ষেত্রে এগুলো ত্বকে জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে আপনার ত্বক যদি হয় সংবেদনশীল। আবার কোন কোন স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টে ন্যাচারাল উপাদান থাকে যেমন কোন উদ্ভিদের বা পাতার নির্যাস, যা আপনার ত্বকে এলার্জিক রিএ্যাকশনের সৃষ্টি করতে পারে, ত্বকে লাল হয়ে গুঁটি দেখা দিতে পারে। তাই ব্যবহারের পূর্বে ত্বকের খুব সামান্য স্থানে লাগিয়ে দেখতে পারেন রিএ্যাকশন কেমন হয়।

ফেসিয়ালঃ মজা না মৌলিক?

আপনার দরকার নেই কোন পার্লার কিংবা স্যালুনে গিয়ে ফেসিয়াল করানোর, তবে এটা সাময়িক হলেও আপনার ত্বককে করে মোলায়েম। বরং এতে আপনি একটু আয়েশ পেতে পারেন। স্যালুন ফেসিয়ালে আপনার দরকার হতে পারে ক্লিনজিং কিংবা এক্সফোলিয়েটিং। আবার ফেসিয়ালে আপনার এলার্জিক রিএ্যাকশন আর জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে। কাজেই যদি আপনার এধরনের সমস্যা থাকে, তাহলে পার্লার কিংবা স্যালুন এড়িয়ে চলুন।     

বয়স তো যথেষ্ট হল পিম্পল যাচ্ছে না কেন

হ্যাঁ, এর উত্তরে দায়ী করা যায় হরমোনকে, বিভিন্ন ধরনের চাপ, বিভিন্ন ধরনের হেয়ার প্রোডাক্ট ইত্যাদি। আপনার ডাক্তার কিংবা এসথেটিসিয়ান এব্যাপারে আপনাকে সহায়তা করতে পারবে যে, কোন কারনে এখনো নিরাময় হচ্ছে না বা আপনার ত্বকের চাহিদা কী। তবে কিছু কিছু প্রোডাক্ট আছে যা বয়সের ছাপ দূর করে, সাথে একনিও।

ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখুন

ধুমপান করবেন না। এতে ত্বক যেমন বুড়িয়ে যায়, তেমনি ত্বকে আনে বয়সের ছাপ/ভাঁজ।

ত্বকের সুস্বাস্থ্যে বেশি করে ফল, শাকসবজী, চর্বি ছাড়া মাংস, দানাদার শস্য খান।

প্রতিদিন নিয়মিত ব্যায়াম করুন। এতে আপনার ত্বকে রক্ত চলাচল বেড়ে যাবে, ত্বক পাবে প্রয়োজনীয় পুষ্টি। আর ঘাম আপনার ত্বকের ময়লা দূর করতে করবে সহায়তা।

এমন কিছু খুঁজে নিন যাতে আপনার স্ট্রেস কমবে। স্ট্রেস আপনার ত্বককে করে তোলে নাজুক আর এতে ত্বকে দেখা দেয় বিভিন্ন ধরনের সমস্যা।

সূর্য রশ্মি থেকে যতটা পারেন দূরে থাকুন। 

 

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: What is Social Phobia (Social Anxiety Disorder)
Previous Health Tips: 7 reasons why you attract mosquitoes more than others

আরও স্বাস্থ্য টিপ

বয়স ধরে রাখতে প্রসাধনী?

বয়স ধরে রাখার চিন্তা অনেকেরই থাকে। এ জন্য বাজারে প্রচলিত আছে এমন অনেক ক্রিম ও প্রসাধনী। দাবিও করা হয়, এসব ক্রিমের ব্যবহারে বয়স ও তারুণ্য ধরে রাখে, বুড়িয়ে যেতে দেয় না ত্বককে, ত্বকের ভাঁজ প্রতিরোধ করে। আসলেই কি তা সম্ভব? বিজ্ঞানীরা বলছেন সম্ভব নয়। সব কোষকলার মতো ত্বকের কোষেরও আয়ু আছে, এরা বুড়িয়ে... আরও দেখুন

উজ্জ্বল লাবন্যময় ত্বকের যত্নে ১৫টি কার্যকরী টিপস

‘সৌন্দর্য্য’ কথাটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠবে একটি লাবন্যময় হাসিমাখা মুখের প্রতিচ্ছবি। সুন্দর হতে চায় না এমন মানুষ এই গ্রহে আছে বলে মনে হয় না। যদিও অনেকেই বলে থাকেন যে আসল সৌন্দর্য্য হচ্ছে মনে আর যার অভিব্যাক্তি পাওয়া যায় চোখে। তবে এটা ভুলে গেলে চলবে না যে এটা আসলে বাহ্যিক... আরও দেখুন

Secrets To Slimming Down – Daily Tips And Motivation

Many people who are trying to lose weight would want to lose it as quickly as possible. Studies have shown that individuals who lose weight steadily and gradually can keep weight off more successfully. The healthy way for weight loss is not just about having a well balanced diet or an... আরও দেখুন

ঈদের আগেই ওজনটা কমান মাত্র ১৫ দিনে

সামনে ঈদ, আর ঈদ মানেই অনেক সাজসজ্জার জমকালো আয়োজন। সকলেই চান ঈদের দিনে তাঁকে লাগুক সারা বছরের মাঝে সবচাইতে সুন্দর। পোশাক তৈরি ও রূপচর্চা নিশ্চয়ই শুরু হয়ে গেছে? কিন্তু বাড়তি ওজনটার কী করবেন? থাক, আর চিন্তা করতে হবে না। ঈদের আগেই মাত্র ১৫ দিনে বেশ কয়েক কেজি ওজন কমানোর সিক্রেট ফর্মুলা নিয়ে হাজির... আরও দেখুন

রান্নাঘরে কত কাজ

এই ঈদে যেন শুধু কাজ আর কাজ। তবে একটু গুছিয়ে পরিকল্পনা করে রাখলে এই ঈদেও বাড়ির সব কাজ সামলে নিতে পারবেন সহজেই। হাতের কাছে এখনই প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো জোগাড় করে নিন আর ঈদের দিন অন্য সবকিছুর পাশাপাশি রান্নাঘর পরিষ্কার রাখার দিকেও নজর রাখুন। এসব নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের... আরও দেখুন

শিশুর মস্তিষ্ক কত দ্রুত বাড়ে?

শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশের তথ্য-উপাত্ত কাজে লাগিয়ে ‘ডেভেলপমেন্ট ডিসঅর্ডার’ বা প্রতিবন্ধিতার সমস্যা-সংক্রান্ত আগাম ধারণা পাওয়া যেতে পারে। ছবি: বিবিসিমানব শিশুর মস্তিষ্ক এতটাই দ্রুত বাড়ে যে প্রথম ৯০ দিনেই একজন প্রাপ্ত বয়স্কের মস্তিষ্কের অর্ধেক আকারে পৌঁছে যায় তা। সর্বাধুনিক স্ক্যান... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')