ম্যাগনেসিয়াম এমন একটি মৌল যা আপনার দেহের বহুরকম কাজের জন্য প্রয়োজন। আপনি হয়তো বিস্মিত হবেন জেনে যে, এটা আপনার দেহের প্রায় ৩০০ রকমের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহন করে। যেমন ধরুন মাংসপেশির সংকোচনে এটা প্রয়োজন। স্নায়ুর ক্ষেত্রে বার্তা বা মেসেজ পাঠানো এবং গ্রহন করতে ম্যাগনেসিয়াম প্রয়োজন। এটা আপনার হৃদস্পন্দনকে নিয়মিত বা স্বাভাবিক রাখে। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে করে শক্তিশালী।
অধিকাংশ লোকই খাবার থেকে পর্যাপ্ত পরিমানে ম্যাগনেসিয়াম পেয়ে থাকেন। কিছু কিছু খাবার যেমন সবুজ ও পাতাযুক্ত শাকসবজী, দানাদার শস্য, সীম-সীমের বীচি, বাদাম এবং মাছ – এগুলোতে প্রচুর পরিমানে ম্যাগনেসিয়ামের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
এছাড়া বাজারে বড়ি বা পিল আকারে ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্টও পাওয়া যায়। আর এতে আপনি পাবেন একটা বিশাল ফর্দ, যেখানে আছে ম্যাগনেসিয়াম কী কী কাজ করে ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট কেনার আগে অন্ততঃ দু’বার ভাবুন। কারন একটু সতর্ক হলে আপনি আপনার খাবার থেকেই তা’ পর্যাপ্ত পরিমানে পেতে পারেন।
এ সম্পর্কে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডঃ ব্রুস বিসত্রিয়ান বলেন, শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের অভাব আসলে খুব কম ক্ষেত্রেই দেখা যায়। কারন আপনার দেহের কিডনির রয়েছে এক আশ্চর্য ক্ষমতা। সে ইউরিনের (মূত্রের) সাথে ম্যাগনেসিয়ামের বের হয়ে যাওয়া কমিয়ে দেয় বা বলা যায় রোধ করে। আর এভাবেই আপনার দেহে ম্যাগনেসিয়ামের ভারসাম্য বজায় থাকে।
তবে হ্যাঁ, যাদের খাবার থেকে ম্যাগনেসিয়াম গ্রহন করতে সমস্যা আছে, যেমন ‘সিলিয়াক ডিজিজ, কিডনি সমস্যা, এলকোহলে আসক্তি, বা কোন জটিল পেটের পীড়া ইত্যাদি – তাদের ক্ষেত্রে ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহন করা যেতে পারে। অনেক সময় কিছু কিছু মেডিসিন যেমন ‘ওয়াটার পিলস, এন্টিবায়োটিকস ইত্যাদি ম্যাগনেসিয়াম আত্তিকরনে বাঁধা দেয়। এসব ক্ষেত্রেও সাপ্লিমেন্ট জরুরীভাবে নেয়া প্রয়োজন।
কিন্তু যারা দাবী করেন যে, ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট আপনার দেহের শক্তি যোগাবে বা বাড়াবে, ঘুমের সমস্যা দূর করবে কিংবা শরীরের ব্যাথা দূর করে – এটা আসলে কতটা সত্য? ডঃ বিসত্রিয়ান এব্যাপারে সন্দিহান। তিনি বলেন আমার জানা মতে ম্যাগনেসিয়ামের ক্ষেত্রে এসবের কোন প্রমান নেই।
যদি আপনি মনে করেন আপনার দেহে ম্যাগনেসিয়ামের পরিমান কম বা কমে যাচ্ছে, তবে দেরী না করে ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হোন আর রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নিন। দেহে ম্যাগনেসিয়ামের সঠিক মাত্রা বজায় রাখার জন্য উত্তম পদ্ধতি হল খনিজ পদার্থযুক্ত খাবার গ্রহন। যেমন প্রচুর আঁশযুক্ত গাঢ় সবুজ পাতাযুক্ত শাক-সবজী, রিফাইন করা নয় এমন দানাদার শস্য জাতীয় খাবার, সীমজাতীয় খাবার ইত্যাদি।
৫০ কিংবা তদুর্ধ্ব বয়সের লোকেদের জন্য দৈনিক অনুমোদিত ম্যাগনেসিয়াম গ্রহনের মাত্রা বা Recommended Dietary Allowance (RDA) হল ৪২০ মিলিগ্রাম। তবে সাপ্লিমেন্ট নেয়ার বেলায় পুরুষ ও মহিলাদের ক্ষেত্রে এই মাত্রা ৩৫০ মিলিগ্রামের কম হওয়া উচিত।
নীচে ম্যাগনেসিয়াম সম্মৃদ্ধ এরকম কিছু খাবারের তালিকা দেয়া হলঃ
১ আউন্স শুকনো আলমন্ড ৮০ মিলিগ্রাম
১/২ কাপ পালং শাক (রান্না করা) ৭৮ মিলিগ্রাম
৩/৪ কাপ ব্রান ফ্লেক্স ৬৪ মিলিগ্রাম
১ কাপ খোসা সহ সিদ্ধ আলু ৪৮ মিলিগ্রাম
১/২ কাপ ক্যানে রক্ষিত কিডনি বীন ৩৫ মিলিগ্রাম
হেলথবীট, হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল অবলম্বনে হেলথ প্রায়র ২১

