শিশুর জন্য কোনো খাবারই মায়ের বুকের দুধের চেয়ে ভালো নয়
প্রথম বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে বক্তারা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, শিশুর জন্য পৃথিবীর কোনো খাবারই মায়ের বুকের দুধের চেয়ে ভালো নয়। অন্যদিকে মায়ের বুকের দুধের বিকল্প হিসেবে তৈরি করা শিশুখাদ্য কোনোটাই জীবাণুমুক্ত নয়।
৯ ডিসেম্বর নয়াদিল্লির ভারত হ্যাবিটেট সেন্টারের স্টেইন মিলনায়তনে সমাপনী পর্বে শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি থাকায় বিশ্বের ৮০টির অধিক দেশের মধ্যে প্রশংসাসূচকভাবে বাংলাদেশের নামটি উচ্চারিত হয়।
দ্য ইন্টারন্যাশনাল বেবি ফুড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (আইবিএফএএন) এশিয়া এবং ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স ফর ব্রেস্টফিডিং অ্যাকশন (ডব্লিউএবিএ) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল, ‘শিশুদের প্রয়োজন মায়ের তৈরি খাবার, মানুষের তৈরি খাবার নয়’।
সমাপনী দিনে সম্মেলনে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদের সম্মতিতে নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়। এতে বিশ্বের দেশগুলোকে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। চার দিনব্যাপী সম্মেলন শেষে ঘোষণাপত্র নিয়ে সবাই নিজ নিজ দেশে ফেরেন।
সমাপনী পর্বের প্রধান অতিথি ভারতের স্বাস্থ্য পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য সায়দা হামিদ বক্তব্যের শুরুতেই শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি থাকায় বিশেষভাবে বাংলাদেশের নাম উচ্চারণ করেন। এ সময় বিশ্বের প্রতিনিধিরা তুমুল হাততালির মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বাগত জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক বলেন, বিশ্বব্যাপী ১০০ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করছে কৌটাজাত গুঁড়ো দুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো। ১০০ বিলিয়ন ডলারের অর্ধেকই কোম্পানিগুলোর লাভ হিসেবে থেকে যাচ্ছে। ফলে এই লাভের জন্য এরা সবকিছু করতে পারে। তাই কোম্পানিগুলোর ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশে সরকারি কর্মজীবী নারীদের জন্য বেতনসহ ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ অন্যান্য উদ্যোগের কথা জানান। তিনি বেসরকারি এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের নারীদের জন্য এ সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশকেও এ খাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সমাপনী পর্বে সম্মেলন আয়োজনকারী কমিটির চেয়ারম্যান অরুণ গুপ্ত বলেন, বিশ্বের প্রথম মাতৃদুগ্ধ সম্মেলনটি বিকল্প শিশুখাদ্য প্রস্তুতকারক কোম্পানির কাছ থেকে কোনো ধরনের সহায়তা ছাড়াই আয়োজন করা হয়েছে।
সমাপনী পর্বে ভারতের নারী ও শিশু উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব প্রেম নারায়ণ, ভারতে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হোমে ইভিডিন প্রমুখ বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন।
সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, বুকের দুধ না খেলে শিশু অতিশয় স্থূলতা (ওবেসিটি), ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হূদেরাগ, স্ট্রোক, ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর বিষয়টিকে মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে বলে বলা হয়েছে।
Aggregated by: www.healthprior21.com
Source:http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-12-19/news/314326

